রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (রুয়েট) ন্যূনতম ক্রেডিট অর্জন পদ্ধতি বাতিলের দাবিতে আজ রবিবার (২৯ জানুয়ারি) দ্বিতীয় দিনের মতো ক্লাস বর্জন করে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনটি শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে তারা। এর আগে একই দাবিতে ২০১৫ সালের মাঝামাঝি সময়েও আন্দোলন করেছিল শিক্ষার্থীরা। সেবারে সফল হয়নি ওই আন্দোলন। একই দাবিতে এতদিন পর আবার মাঠে নেমেছেন শিক্ষার্থীরা।
রুয়েটে সরেজমিনে দেখা যায়, আজ রবিবার সকাল ১০টা থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার চত্বরে অবস্থান নেয় শিক্ষার্থীরা। এসময় তারা ন্যূনতম ক্রেডিট অর্জন পদ্ধতি বাতিলের দাবিতে স্লোগন দিতে থাকে। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বলছেন, অবস্থান কর্মসূচিতে দাবি পূরণ না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
রুয়েট সূত্রে জানা গেছে, জানা গেছে, রুয়েটে শিক্ষার্থীদের পরবর্তী বর্ষে উত্তীর্ণ হওয়ার ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক ৪০ ক্রেডিটের মধ্যে ন্যূনতম ৩৩ ক্রেডিট অর্জন করতে হয়। অন্যথায় তাকে সেই বর্ষেই থেকে যেতে হয়। এর আগে নিয়ম ছিল, কোনও শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অকৃতকার্য হলে বা অনুপুস্থিতির কারণে ন্যূনতম ক্রেডিট অর্জন না করলেও পরবর্তী বর্ষে ক্লাস-পরীক্ষা দিতে পারত। সেক্ষেত্রে পরবর্তীতে পরীক্ষা দিয়ে ওই ক্রেডিট অর্জন করতে হতো। তবে ২০১৩-২০১৪ শিক্ষাবর্ষ থেকে এ নিয়ম তুলে নেয় রুয়েট প্রশাসন।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, ৩৩ ক্রেডিটের এ পদ্ধতির কারণে শিক্ষার্থীরা নানা সমস্যার সম্মুখিন হবে। বিশেষ করে, রুয়েটে ক্লাস-ল্যাবের সংকট থাকার কারণে যারা ক্রেডিট অর্জন করতে পারবে না তাদেরকে অন্য ব্যাচের সঙ্গে ক্লাস বা ল্যাবে থাকতে হবে। এছাড়া কোনও শিক্ষার্থী অসুস্থতা বা অন্য কোনও সমস্যার কারণে পরীক্ষা দিতে না পারলে তার এক বছরের বেশি সময় ক্ষতি হবে। এমনকি সিলেবাসগত জটিলতায়ও পড়তে হয় ওই শিক্ষার্থীকে।
এই পদ্ধতি পরিবর্তনের দাবিতে ২০১৫ সালের ১১ আগস্ট একই দাবিতে রুয়েটের উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করে প্রশাসন ভবনের সামনে আন্দোলন করে রুয়েটের ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা। টানা দুই দিন আন্দোলনের পর ১২ আগস্ট রাতে ওই শিক্ষাবর্ষের সব ক্লাস-পরীক্ষা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল। প্রশাসনের অনড় অবস্থানের কারণে সেবারে শিক্ষার্থীরা পিছিয়ে আসতে বাধ্য হয়। এবারে ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের পাশাপাশি ২০১৪-১৫ ও ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরাও আন্দোলনে যোগ দিয়েছে।
তবে শিক্ষার্থীদের এ দাবিকে অযৌক্তিক বলছেন শিক্ষকরা। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমিরেটাস অধ্যাপক অরুণ কুমার বসাক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের বর্ষ পরিবর্তন করতে ন্যূনতম ক্রেডিট থাকা জরুরি। সেটা না থাকলে পরীক্ষা গ্রহণ করা বা না করা সমান কথা। এছাড়া, বর্ষ পরিবতন করতে শর্ত না থাকলে শিক্ষার্থীরা দায়সারা কাজ করে পার পেয়ে যাওয়ার চেষ্টা করবে, যা তাদের জন্যই ক্ষতিকর।’
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে রুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক রফিকুল আলম বেগ কথা বলতে রাজি হননি। তবে শনিবার তিনি বলেছিলেন, ‘ফেল (অকৃতকার্য) করে কি কখনও পরবর্তী বর্ষে ওঠা যায়? আমরা তাও তো একটি/দুটি বিষয়ে ফেল করলেও যেন পরের বর্ষে উঠতে পারে সে ব্যবস্থা রেখেছি। ওরা তো সব বিষয়ে ফেল করেও পরবর্তী বর্ষে ওঠার দাবি করছে।’
আরও পড়ুন-
ফের আন্দোলনে রুয়েট শিক্ষার্থীরা
রোহিঙ্গাদের কাছে নির্যাতনের বর্ণনা শুনছে কফি আনান কমিশন
/টিআর/আপ-এসএনএইচ/








