খুলনা রেল স্টেশনের পুরাতন ওয়াশফিট ইয়ার্ডে (গ্যারেজ) অবস্থানরত ইন্দোনেশিয়ান নতুন কোচে (বাথ-৭১০৩) অগ্নিকান্ডের ঘটনায় রেলওয়ের পরিচ্ছন্ন বিভাগের আউট সোর্সিং কর্মী (ক্লিনিং) সুমন হাওলাদারকে (২২) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। একই সাথে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে নিরাপত্তা বিভাগের দু’জন কর্মীকে ডিউটি থেকে প্রত্যাহার (বুকআপ) করা হয়েছে।
এ ঘটনায় খুলনা রেলওয়ের হেড টিএক্সআর মো. রবিউল ইসলাম বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার জিআরপি থানায় একটি মামলা করেন।
অপরদিকে ঘটনার তদন্তে রেলওয়ে, সিআইডি, পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিসের চারটি বিভাগ মাঠে নেমেছে। বৃহস্পতিবার রেলওয়ের চার সদস্যের তদন্ত কমিটি সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
খুলনা জিআরপি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোল্লা আফজাল হোসেন বলেন, ‘সিসিটিভি’র ফুটেজ দেখে শ্রমিক সুমন হাওলাদারকে গ্রেফতার করা হয়েছে। থানায় রেখে তাকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। শুক্রবার তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।’
তিনি আরও জানান, ‘প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন কোচে ওঠার বিষয়টি অস্বীকার করে। সিসিটিভি ফুটেজ দেখানোর পরও সে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে।’
তার বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার অভিযোগ রয়েছে উল্লেখ করে ওসি বলেন, ‘সে হত্যা প্রচেষ্টা মামলার আসামি।’
খুলনা রেলওয়ের সহকারী প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) মো. আশরাফুজ্জামান বলেন, ‘তদন্ত কমিটি সব ধরণের তথ্য উপাত্ত যাচাই-বাছাই ও পর্যালোচনা করে প্রতিবেদন দাখিল করবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বুধবার দুপুরে রেল বগিতে অগ্নিকান্ডের ঘটনায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা (পাকশি) শওকত জামিলকে প্রধান করে চার সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অপর সদস্যরা হলেন বিভাগীয় যন্ত্র প্রকৌশলী (গ্যারেজ ও ওয়াগন) মঈন উদ্দিন সরদার, বিভাগীয় বৈদ্যুতিক প্রকৌশলী মো. খায়রুল ইসলাম ও রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর কমান্ডেন্ট (পাকশি) মো. আশাবুল ইসলাম। এ কমিটি বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে ৫টা থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত ঘটনাস্থল সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। এ সময় কমিটির সদস্যরা ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী এবং নিরাপত্তা বাহিনীসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেন। এছাড়া তারা ঘটনার সময়কার সিসিটিভি ফুটেজও সংগ্রহ করেন।
অপরদিকে, পুলিশের অপরাধ তদন্ত সংস্থা-সিআইডি’র ৫/৬ সদস্যের আলাদা তদন্ত টিম বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তারাও ঘটনার বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেন। এছাড়া রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী (জিআরপি থানা পুলিশ) এবং ফায়ার সার্ভিস বিভাগও পৃথক তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছে বলে জানা গেছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও জিআরপি থানার এসআই গোবিন্দ কুমার মণ্ডল জানান, ‘গ্রেফতার হওয়া সুমন হাওলাদার ডুমুরিয়া উপজেলার নতুন পূর্ব বিলাবাদ রাজবাধ এলাকার নজরুল ইসলামের ছেলে। সে রেলওয়ের পরিচ্ছন্ন বিভাগের ঠিকাদার (পাকশি-রূপপুর) আনোয়ার হোসেন বাবু কর্তৃক নিয়োগকৃত শ্রমিক।’
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার চিলাহাটি থেকে ইন্দোনেশিয়ান নতুন ১৬টি খুলনায় কোচ আনা হয়। এগুলো খুলনা রেল স্টেশনের পুরাতন ওয়াশফিট ইয়ার্ডে রাখা ছিল। এর একটি ভিআইপি বাথ কোচে (৭১০৩ নং) বুধবার হঠাৎ করে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। আগুনে কোচটির ২৪টি আসনের ৬টি সম্পূর্ণ এবং বাকিগুলো আংশিক ক্ষতিগ্রস্থ হয়। এছাড়াও কোচের সিলিং, মেঝে, ফ্যান, জানালা, এসি এবং কোর্ট হুকসহ অন্যান্য সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্থ হয়। কোচগুলো রূপসা-সীমান্ত এক্সপ্রেসে যুক্ত হওয়ার কথা ছিল।
/এসএনএইচ/








