জয়পুরহাট লাইব্রেরি ও ক্লাবের জায়গা আ.লীগ নেতার নামে ইজারা

জয়পুরহাট প্রতিনিধি
০৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, ১৮:০১আপডেট : ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, ১৮:১০

লাইব্রেরি ও ক্লাবের এই ভবনটির নির্মাণ কাজ আইনি নোটিশে বন্ধ রয়েছে জয়পুরহাট লাইব্রেরি ও ক্লাবের দখলে থাকা জায়গা জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের নামে ইজারা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি লাইব্রেরি কর্তৃপক্ষকে অবহিতও করা হয়নি। ওই জায়গাতে নতুন ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করতে গেলে প্রকাশ হয়ে পড়ে ইজারা দেওয়ার বিষয়টি। প্রায় ৭০ বছর ধরে লাইব্রেরি ও ক্লাবের দখলে থাকা জায়গাটি গোপনে ইজারা দেওয়ায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন স্থানীয় সংস্কৃতিকর্মীরা। ইজারা বাতিল করে নতুন ভবন নির্মাণে আইনি বাধা প্রত্যাহারেরও দাবি জানিয়েছেন তারা।
জানা গেছে, জয়পুরহাট শহরের শহীদ ডা. আবুল কাশেম ময়দানের পশ্চিম পাশে জয়পুরহাট লাইব্রেরি ও ক্লাবের পৃথক দু’টি ভবন স্থাপিত হয় ১৯৪৭ সালে। এর মধ্যে একটি ভবন গত বছর পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। ওই জায়গাটিতে লাইব্রেরি কর্তৃপক্ষ আগের আদলেই ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নিলে ২২ জানুয়ারি জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে কাজ বন্ধ করে যাবতীয় সরঞ্জাম অপসারণের নোটিশ দেওয়া হয় ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক রাজা চৌধূরীর নামে। আইনি বাধার মুখে ১৯৪৭ সাল থেকে দখলে থাকা জায়গাটিতে নতুন ভবন নির্মাণের কাজ বন্ধ রাখে ক্লাব কর্তৃপক্ষ।
পরে জেলা পরিষদে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জায়গাটি আওয়ামী লীগের জেলা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক জিল্লুর রহমান খানকে গত বছর অক্টোবর মাসে অস্থায়ীভাবে ইজারা দেওয়া হয়েছে। প্রতি বর্গফুট ৮ টাকা হিসেবে ৯৭৫ বর্গফুটের জায়গাটির জন্য বাৎসরিক সাত হাজার ৮শ টাকা ইজারা মূল্য জেলা পরিষদে পরিশোধ করেছেন তিনি।
ইজারা নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে জিল্লুর রহমান খান মোবাইল ফোনে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘পত্রিকা অফিস করার জন্য গত বছরের অক্টোবর মাসে জায়গাটি জেলা পরিষদের কাছ থেকে ইজারা নিয়েছি।’ নিজেকে জয়পুরহাট থেকে প্রকাশিত ‘দৈনিক জয়পুরহাট খবর’-এর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকের পরিচয় দিয়ে তিনি বলেন, ‘ইজারা নিলেও জায়গাটির দখল আমি পাইনি। পরে ওই জায়গায় ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নিয়ে অভিযোগ করার পর জেলা পরিষদ লাইব্রেরি ও ক্লাবের সাধারণ সম্পাদককে কাজ বন্ধ করার নোটিশ দিয়েছে।’
লাইব্রেরি ও ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক রাজা চৌধূরী নির্মাণ কাজ বন্ধে জেলা পরিষদ থেকে পাঠানো নোটিশের বিষয়টি নিশ্চিত করে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘প্রায় ৭০ বছর ধরে জয়াগাটি লাইব্রেরি ও ক্লাবের দখলে রয়েছে। এই জায়গাটি ইজারা দেওয়া হয়েছে আমাদের অগোচরেই।’ জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে আইনি নোটিশ পাওয়ার পর ভবনের নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
জেলা পরিষদের সাবেক প্রশাসক এসএম সোলায়মান আলী ইজারা দেওয়ার কথা স্বীকার করে জানান, ‘জায়গাটি লাইব্রেরি ও ক্লাবের দখলে ছিল দীর্ঘদিন। তবে এর আইনগত কোনও বৈধতা ছিল না। নিয়ম মেনেই জায়গাটি ইজারা দেওয়া হয়েছে।’
জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবু বকর সিদ্দিক জায়গাটি ইজারা দেওয়া প্রসঙ্গে বলেন, ‘জেলা পরিষদের নতুন চেয়াম্যানের সঙ্গে আলোচনার পর আইনগত দিক বিবেচনা করে এর সমাধান করা হবে।’
তবে লাইব্রেরি ও ক্লাবের জায়গাটি এভাবে ইজারা দেওয়ায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষসহ স্থানীয় সংস্কৃতিকর্মীরা। প্রয়োজনে ইজারা বাতিলের জন্য আন্দোলনের কথাও বলেন তারা।
জয়পুরহাট লাইব্রেরি ও ক্লাবের সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক উৎপল কুমার বলেন, ‘১৯৪৭ সালে প্রতিষ্ঠিত জয়পুরহাট জেলার সংস্কৃতির এই আঁতুড় ঘর থেকেই জন্ম হয়েছে দেশবরেণ্য শিল্পীদের। এই জায়গাটি গোপনে ইজারা দেওয়া একটি চরম ধৃষ্ঠতা।’
ক্লাবের লাইব্রেরি সম্পাদক দীলিপ কুমার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এটি জেলার একটি ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান। জায়গাটি ইজারা দেওয়া হয়েছে জেনে বিস্মিত হয়েছি।’ শিগগিরই ওই জায়গার ইজারা বাতিলসহ কাজ বন্ধের নোটিশ প্রত্যাহার করা না হলে জেলার প্রগতিশীল মানুষদের নিয়ে এর বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলা হবে বলে জানান তিনি।
জয়পুরহাট রবীন্দ্র সম্মিলন পরিষদের সভাপতি আমিনুল হক বাবুল, সঙ্গীত চক্রের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হক, মানবাধিকার নাট্য পরিষদের নাট্যকর্মী লালন হোসেন, আবৃত্তিকার নিয়াজ মোর্শেদসহ জেলার প্রগতিশীল চিন্তাধারার মানুষেরাও ক্ষুব্ধ ইজারা দেওয়ার ঘটনায়। তারা বলেন, জয়পুরহাট লাইব্রেরি ও ক্লাবের সঙ্গে এ জেলার সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের নাড়ির সম্পর্ক। সেই সংগঠনের জায়গা কোনও প্রকার নোটিশ না করে ইজারা দেওয়ার ঘটনায় আমরা হতবাক। তারা অনতিবিলম্বে ওই ইজারা বাতিলের দাবি জানান।

আরও পড়ুন-

চাঁদপুরের সেই ইউপি চেয়ারম্যানকে দল থেকে বহিষ্কার করলেন ওবায়দুল কাদের

ফেসবুকে ধর্ম নিয়ে আপত্তিকর ছবি, জয়পুরহাটে গ্রেফতার ১

বিএনপি নির্বাচনে অংশ না নিলে তাদের রেজিস্ট্রেশন বাতিল হবে: নৌমন্ত্রী



/টিআর/

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম