৫ লাখ টাকা ঘুষ দিতে না পারায় কলেজ ছাত্রকে শারিরীক নির্যাতন ও মিথ্যা চুরির মামলায় আসামি করার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। সোমবার সকালে ঝালকাঠির জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ অভিযোগ দায়ের করেন ওসির নির্যাতনের শিকার কলেজ ছাত্র ইমরান হোসেন আদনান।
ঝালকাঠির রাজাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি অপারেশন) মুনীর উল গিয়াসসহ ৪ পুলিশ ও এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে এ মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় অপর আসামিরা হল, রাজাপুর থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) নজরুল ইসলাম, সহকারী উপ পরিদর্শক (এএসআই) সঞ্জীবন বালা ও রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. আবুল খায়ের মাহমুদ রাসেল।
বাদীর আইনজীবী খান শহিদুল ইসলাম জানান, কলেজ ছাত্রকে নির্যাতনের অভিযোগটি আদালত আমলে নিয়ে তার পুলিশ ভেরিফিকেশন পত্র, মেডিক্যাল ছাড়পত্র, কলেজের প্রত্যয়ন পত্রসহ যাবতীয় প্রমাণপত্রের মূল কপি তলব করেছেন।
মামলায় অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, জেলার রাজাপুর উপজেলার জগাইরহাট এলাকার প্রয়াত শাজাহান আলীর ছেলে স্থানীয় বড়ইয়া ডিগ্রি কলেজের বিএ দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র মোহাম্মদ ইমরান হোসেন আদানান বিদেশে যাওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছিল। এ জন্য থানায় পুলিশ ক্লিয়ারেন্স আনতে গেলে রাজাপুর থানার ওসি তার কাছে দশ হাজার টাকা দাবি করে। অনেক অনুরোধ করে ৫ হাজার টাকা দিলে গত বছরের (২০১৬ সালের) ৫ ডিসেম্বর ঝালকাঠি পুলিশ সুপার কার্যালয়ের বিশেষ শাখা থেকে আদনানের বিরুদ্ধে কোনও মামলা বা অভিযোগ নেই উল্লেখ করে প্রত্যায়নপত্র দেয়া হয়।
কিন্তু ৭ ডিসেম্বর রাতে ১১ টার দিকে রাজাপুরের বাসা থেকে দুই ভাই আদানান ও মুরাদকে থানায় ডেকে পাঠান ওসি মুনীর উল গিয়াস। ওসি তখন দুই ভাইকে বলেন, ‘শালা তোদের বাবা ৪০ বছর বিদেশ ছিল তোদের অনেক টাকা। তাই ৫ লাখ টাকা দিলে ওর (আদনানের) জীবন ভিক্ষা দেয়া যাবে অন্যথায় ক্রসফায়ারে দেওয়া হবে।’ এসময় মুরাদকে ছেড়ে দিয়ে আদনানকে থানায় আটকে রাখে বেধরক পেটায় পুলিশ। তখন ওসিকে দুই লাখ টাকা দিলে আদনানের ওপর নির্যাতন বন্ধ হয়। আটককালে আদনানের কাছ থেকে তার এটিএম কার্ড ও পূবালী ব্যাংক রাজাপুর শাখার (হিসাব নং ৭১৪০৪৫৫) অনুকূলে একটি চেকের পাতায় টাকার অংক ফাঁকা রেখে জোরপূর্বক স্বাক্ষরও নেন ওসি। পরদিন ৮ ডিসেম্বর একটি চুরির মামলায় আসামি দেখিয়ে রাজাপুর থানা পুলিশ আদনানকে আদালতে সোপর্দ করে।
কামরুল হাসান মুরাদ বলেন, ‘আমার ভাইয়ের বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ নেই উল্লেখ করে মাত্র দু’দিন আগে পুলিশ প্রত্যায়ণপত্র দিল। দুদিন পর তাকে কিন্তু ৫ লাখ টাকা ঘুষ দিতে না পারায় ২ লাখ টাকার বিনিময়ে ক্রস ফায়ারের বদলে চুরির মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠায়।’
নির্যাতিত কলেজছাত্র ইমরান হোসেন আদনান বলেন, ‘কোনও অপরাধ না করেই ২ লাখ টাকা দিয়ে জীবন ফিরে পেয়েছি। আমি সরকারের কাছে নির্যাতনের বিচার চাই।’
তবে রাজাপুর থানার ওসি শেখ মুনীর উল গিয়াস জানান, আদনানকে আটক করার পর থেকেই সে অসুস্থ থাকার অভিনয় করেছিল। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করাও হয়নি, মারধরের প্রশ্নই আসে না। তবে কেন আদনানকে আটক করা হয়েছিলো তার কোনও সদুত্তর দিতে পারেননি ওসি।
/এমও/








