নার্গিসের ওপর আক্রমণ করার সময় বদরুল নেশাগ্রস্ত ছিল বলে দাবি করেছেন তার আইনজীবী অ্যাডভোকেট সাজ্জাদুর রহমান চৌধুরী। এ কারণে বদরুল নার্গিস হত্যাচেষ্টা মামলায় খালাস পাবে বলেও আশা করছেন তিনি। রবিবার (৫ মার্চ) সিলেট মহানগর দায়রা জজ আদালতে রাষ্ট্রপক্ষ ও বদরুলের আইনজীবীর মধ্যে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে বাংলা ট্রিবিউনকে এ কথা বলেছেন অ্যাডভোকেট সাজ্জাদুর রহমান। অন্যদিকে, মামলার একমাত্র আসামি বদরুলকে আদালত সর্বোচ্চ সাজা দেবেন বলে আশা করছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) অ্যাডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ। আগামী (৮ মার্চ) আন্তর্জাতিক নারী দিবসে আলোচিত এই মামলার রায় ঘোষণার তারিখ নির্ধারণ করেছেন বিচারক।
আদালতে প্রায় দেড়ঘণ্টা যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের পর বদরুলের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সাজ্জাদুর রহমান চৌধুরী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘নার্গিস হত্যাচেষ্টা মামলা থেকে বদরুল বেকসুর খালাস পাবে বলে আমরা আশাবাদী। সেজন্য আদালতে আমরা যুক্তি উপস্থাপন করেছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘২০১২ সালে প্রেম সংক্রান্ত ঘটনার জের ধরে নার্গিসের গ্রামেই বদরুলের ওপর পরিকল্পিতভাবে হামলা হয়। এরপর বদরুল দীর্ঘদিন চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়। নার্গিসের ওপর হামলার সময় বদরুল নেশাগ্রস্ত ছিল। আশা করছি, আদালত এসব বিষয় বিবেচনা করে তাকে এই মামলা থেকে বেকসুর খালাস দেবেন।’
বিচারক আন্তর্জাতিক নারী দিবসে (৮ মার্চ) নার্গিস হত্যাচেষ্টা মামলার রায়ের তারিখ নির্ধারণ করেছেন জানিয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) অ্যাডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বদরুল যে ঘটনা ঘটিয়েছে তা দেশ-বিদেশে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। পরিকল্পনা অনুসারে বদরুল খাদিজাকে হত্যার উদ্দেশ্যে চাপাতি দিয়ে কুপিয়েছে। যা আদালতেও প্রমাণিত হয়েছে। তাই বিচারক তাকে সর্বোচ্চ সাজা দেবেন বলে আশা করছি।’
উল্লেখ্য, সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের ছাত্রী খাদিজা বেগম নার্গিস ২০১৬ সালের ৩ অক্টোবর বিকেলে এমসি কলেজ পরীক্ষাকেন্দ্রে বিএ (পাস) পরীক্ষা দিয়ে বের হওয়ার সময় কলেজের পুকুর পাড়ে হামলার শিকার হন। তাকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে ছাত্রলীগ নেতা বদরুল আলম।
এ ঘটনার পরদিন ৪ অক্টোবর বদরুলকে একমাত্র আসামি করে হত্যাচেষ্টার মামলা দায়ের করেন নার্গিসের চাচা আবদুল কুদ্দুস। ৫ অক্টোবর আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় বদরুল। আদালত তাকে কারাগারে পাঠান।
আদালত সূত্রে জানা যায়, গত ১ মার্চ রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে নার্গিসের মামলাটি মহানগর দায়রা জজ আদালতে নেওয়া হয়। এ মামলায় মোট ৩৭ জন সাক্ষীর মধ্যে আদালত ৩৪ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেছেন। সর্বশেষ ২৬ ফেব্রুয়ারি আদালতে বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছেন নার্গিস।
আরও পড়ুন-
নার্গিস হত্যাচেষ্টা মামলার রায় ৮ মার্চ
বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা
/টিআর/








