এমপি লিটন হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী সাবেক সংসদ সদস্য কর্নেল (অব.) ডা. আবদুল কাদের খাঁনের প্রধান সহযোগী চন্দন কুমারকে ইন্টারপোলের সহায়তায় দেশে আনার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছেন গাইবান্ধার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এ সার্কেল) মো. রবিউল ইসলাম। রবিবার (৫ মার্চ) বিকালে কাদের খাঁনের ব্যক্তিগত সহকারী শামছুজ্জোহা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার পর গাইবান্ধা আদালত চত্বরে উপস্থিত সাংবাদিকদের এ কথা জানিয়েছেন তিনি।
সাংবাদিকদের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রবিউল ইসলাম বলেন, ‘এমপি লিটনকে হত্যায় কাদের খাঁনের প্রধান সহযোগী ছিল চন্দন কুমার সরকার। লিটন হত্যায় কাদের খাঁন ও কিলিং মিশনে অংশ নেওয়া কিলারদের সোর্স হিসেবে কাজ করত সে। হত্যাকাণ্ডের দিন চন্দন লিটনের অবস্থান ও বাড়িতে থাকা লোকজনের গতিবিধি সম্পর্কে চার কিলারকে মোবাইল ফোনে অবগত করে। কাদের খাঁন ও চার কিলারের আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিতে লিটন হত্যায় চন্দন কুমারের জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে।’
রবিউল ইসলাম আরও বলেন, ‘এমপি লিটন হত্যার পর কয়েকদিন চন্দন কুমার সুন্দরগঞ্জে ছিল। এরপর সে কুড়িগ্রাম জেলার কোনও এক সীমান্ত দিয়ে কৌশলে ভারতের কলকাতায় পালিয়ে যায়। এমপি লিটন হত্যায় কাঁদের খানের প্রতিটি পরিকল্পনা পরোক্ষভাবে তার মাধ্যমেই হয়েছে।’
চন্দন কুমারকে কলকাতা থেকে দেশে ফিরিয়ে নিয়ে আসা প্রসঙ্গে গাইবান্ধা পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘চন্দন কুমারকে গ্রেফতার করার জন্য পুলিশ হেডকোয়ার্টারকে জানানো হয়েছে। সেখান থেকে ইন্টারপোলের সহায়তায় তাকে দেশে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।’
উল্লেখ্য, গত ৩১ ডিসেম্বর সুন্দরগঞ্জ উপজেলার সর্বানন্দ ইউনিয়নের সাহবাজ (মাস্টারপাড়া) গ্রামে নিজ বাড়িতে গুলিতে নিহত হন এমপি লিটন। পরদিন ১ জানুয়ারি লিটনের বোন তাহমিদা বুলবুল বাদী হয়ে সুন্দরগঞ্জ থানায় মামলা করেন।
গত ২১ ফেব্রুয়ারি লিটন হত্যার মূল হোতা সন্দেহে জাতীয় পার্টির সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক সংসদ সদস্য ডা. আবদুল কাদের খানকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি থেকে জানা যায়, লিটন হত্যায় তার প্রধান সহযোগী ছিল সুন্দরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত দফতর সম্পাদক চন্দন কুমার।
আরও পড়ুন-
কলকাতায় আত্মগোপনে কাদের খাঁনের সহযোগী চন্দন
কাদের খাঁনের গোডাউনে দেওয়া হতো কিলারদের প্রশিক্ষণ: পিএস শামছুজ্জোহা
/টিআর/








