চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) গণিত বিভাগের শিক্ষক প্রফেসর ড. আবুল কালাম আজাদের (৬৩) মরদেহ সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া গেলেও তার পা বিছানায় লেগে ছিল বলে প্রত্যক্ষদর্শী ও উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কর্মকর্তা সূত্রে জানা গেছে। মঙ্গলবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ ক্যাম্পাসের পাহাড়িকা হাউজিং সোসাইটির প্রয়াত এই শিক্ষকের বাসায় গিয়ে এমন তথ্য পাওয়া যায়।
চট্টগ্রাম উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (ভূমি) আরিফুল ইসলাম সর্দার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সুরতহাল প্রতিবেদনেও শিক্ষক প্রফেসর ড. আবুল কালাম আজাদের পা বিছানার সঙ্গে লাগানো ছিল বলে উল্লেখ ছিল। অধিকতর নিশ্চিতের জন্য লাশ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষেই বিস্তারিত বলা যাবে।’
প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার (৭ মার্চ) বিকেল ৪টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ ক্যাম্পাসের পাহাড়িকা হাউজিংয়ের নিজ বাসায় এই শিক্ষকের লাশ পাওয়া যায়। ড. আবুল কালাম আজাদ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের নির্বাচিত ডিন ও গণিত বিভাগের সভাপতি ছিলেন। এছাড়াও তিনি বিএনপি-জামায়াতপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দলের সমর্থক হিসেবে পরিচিত। তার স্ত্রী প্রফেসর ড. শাহানারা বেগম বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের শিক্ষক।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঝুলন্ত অবস্থায় ড. আবুল কালাম আজাদের পা বিছানায় লেগে ছিল। তার মুখেও লালা ছিল। এছাড়া পুলিশ ও উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট যখন ড. আজাদের স্ত্রী ড. শাহানারা বেগম ও তাদের ছোট ছেলে ফারহান ফারাবী ডেকে মরদেহ কোনও অবস্থায় ছিল জানতে চায় তখন তারাও পা বিছানায় লেগে ছিল বলে জানায়। এরপর মরদেহ উদ্ধারের পর প্রথমে ড. আবুল কালামের পরিবার পক্ষ থেকে বলা হয়, এ ব্যাপারে কাউকে সন্দেহ করা হচ্ছে না। তাই প্রথমে ময়নাতদন্ত করার পক্ষে ছিলেন না পরিবারের সদস্যরা। এরপর উপস্থিত প্রশাসনের কর্তাকর্তারা ঊর্ধ্বতনদের সঙ্গে কথা বলে লাশ ময়নাতদন্ত করার সিদ্ধান্ত নেন। এরপরই রাত সাড়ে ৯টার দিকে তার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চমেক হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
লাশ উদ্ধারের সময় হাটহাজারী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বেলাল উদ্দীন জাহাঙ্গীর, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফসানা বিলকিস, উপজেলা নির্বাহী ম্যাজেস্ট্রেট (ভূমি) আরিফুল ইসলাম সর্দার ও বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোকাদ্দেস মিয়াসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফসানা বিলকিস জানান, লাশের শরীরে কোনও আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবে মুখে দিয়ে লালা পড়ছিল।
/এমডিপি/টিএন/








