শীত মৌসুমের শুরু থেকে এখনও মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে উপজেলার বাইক্কাবিল হাইল হাওরের বিভিন্ন বিল ও জলাভূমিতে দেখা যায় পাতানো জাল। এর ফাঁদে আটকা পড়ছে পরিযায়ী ও দেশীয় পাখি। ইতোমধ্যে এক অভিযানে হাইল হাওরের কিছু এলাকা থেকে প্রায় ১৫ হাজার বর্গফুট জাল এবং জালে আটকা জীবিত ও মৃত ১৩টি দেশীয় পাখি উদ্ধার করা হয়েছে।
জানা গেছে, শীত মৌসুমে হাজার হাজার পরিযায়ী পাখি, হাইল হাওরের পাখি এসে আশ্রয় নেয় মাছের অভয়াশ্রম বাইক্কাবিলে। পাখিরা রাতে খাবারের সন্ধানে বাইক্কাবিল থেকে হাইল হাওরের বিস্তীর্ণ এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। তখনই পাতানো জালের ফাঁদে আটকা পড়ে পাখিরা।
শীত মৌসুম শুরুর সঙ্গে শ্রীমঙ্গল ও সদর উপজেলাজুড়ে পানি কমে যায়। এই সুযোগে বিস্তৃত হাইল হাওরের বিভিন্ন বিল, জলাভূমি ও শুকনো স্থানে জালের ফাঁদ পাতে শিকারিরা। এছাড়া কিছু মৎস্যজীবীও অবৈধভাবে ঘেরজাল দিয়ে হাওরের বিভিন্ন বিল এলাকা ঘেরাও দিয়ে রাখে। এসব ঘেরজালের কারণে পানিতে ডুবসাঁতারের সময়ও জালে আটকা পড়ে পাখিরা।
বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সম্প্রতি হাইল হাওরে যৌথ অভিযান চালায়। তখন হাওরের বৌলাশি, ভুনবীর, পশ্চিম ভাড়াউড়া, বাইক্কা বিল, লালের ডোবা, চন্ডিবিল, উকিলবেরি, কুলিমারা, নাস্তাডোবা, খাগাউড়াসহ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে পেতে রাখা টুকরো দেড়শ’ জাল উদ্ধার করা হয়। এই জালের পরিমাণ প্রায় ১৫ হাজার বর্গফুট। এ সময় জালে আটকা ফিঙে, খঞ্জনি, মুরগি ওটা, চেগা, বাদুড়সহ ১৩টি দেশীয় জীবিত ও মৃত পাখি উদ্ধার করা হয়। জীবিত পাখিগুলো তাৎক্ষণিকভাবে হাওরে অবমুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। পরে উদ্ধার করা জালগুলো পুড়িয়ে ফেলা হয়।
বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক সজল দেব বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘উদ্ধার করা জালগুলো শিকারিরাই পেতেছিল। এগুলো পানির ৩-৪ ফুট ওপরে পাতা। উচ্চতায় প্রায় ৮-১০ ফুট। অনেক স্থানে শুধু বাঁশের খুঁটি পাতা দেখা গেছে। হয়তো অভিযান হবে টের পেয়ে সেখান থেকে জাল তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আমরা জানি, হাওরে আরও অনেক জাল রয়েছে। তবে এক-দুই দিনে তো সবখানে যাওয়া সম্ভব নয়।’
শ্রীমঙ্গল বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক মো. তবিবুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘হাওরজুড়ে এখন জাল আর জাল। মনে হয় জাল দিয়ে হাওর দখলের প্রতিযোগিতা চলছে! পাখি আর মাছের অভয়াশ্রম বাইক্কাবিল এলাকায়ও জাল দেখা গেছে। এমন চলতে থাকলে তো হাওরে পাখি আসবে না। কারণ জাল দেখলে পাখি ভয় পায়। জালে আটকা পড়ার ভয়ে পরিযায়ী পাখির দল স্থান বদল করে। দলের এক-দুটি পাখি জালে আটকা পড়লে তাদের সঙ্গীরা ভয়ে অন্যত্র চলে যায়।’
/জেএইচ/








