কুসিক নির্বাচন: নিজেদের দুর্গেই ভয় আ.লীগ-বিএনপির

এমরান হোসাইন শেখ ও পাভেল হায়দার চৌধুরী, কুমিল্লা থেকে
২৯ মার্চ ২০১৭, ২৩:২৮আপডেট : ২৯ মার্চ ২০১৭, ২৩:২৮

কুসিক নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি প্রার্থী আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা পর, বৃহস্পতিবার সকালে শুরু হবে কুমিল্লা সিটি করপোরেশন (কুসিক) নির্বাচনে। এমনিতে উৎসবমুখর পরিবেশ হলেও ‍বুধবার বিকালে কোটবাড়ীতে জঙ্গি আস্তানা চিহ্নিত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর কুমিল্লা শহরে ভোটার ও সাধারণ মানুষের মধ্যে কিছুটা আতঙ্ক বিরাজ করছে। এদিকে আওয়ামী লীগ-বিএনপির দুই প্রার্থীর ভয়ই নিজ-নিজ দুর্গে। আওয়ামী লীগ সমর্থিত এলাকা নিয়ে নৌকার প্রার্থীর যেমন দুশ্চিন্তা রয়েছে, তেমনি বিএনপি সমর্থিত এলাকা নিয়ে ধানের শীষের প্রার্থীর দুর্ভাবনাও কম নয়। কুমিল্লা শহরের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্র ও প্রার্থীদের ঘনিষ্টরা এসব তথ্য জানিয়েছেন।

কুমিল্লার ভোটের মাঠে আলোচনায় সদর আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার। আওয়ামী লীগ-বিএনপির দুই প্রার্থী এবং তাদের সমর্থকরা মনে করছেন বাহারের ‘ইশারা’ জয়-পরাজয় নির্ধারণ হবে। অবশ্য শেষ মুহূর্তে আলোচনায় এসেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা মনিরুল হক চৌধুরী। আওয়ামী লীগ প্রার্থী আঞ্জুম সুলতানা সীমার জয়ের জন্যে ‘ফ্যাক্টর’ যেমন বাহার, তেমনি মনিরুল হক সাক্কুর জয়-পরাজয়ে মনিরুলের ভূমিকা থাকবে বলে আলোচনা হচ্ছে। নৌকার প্রার্থী আঞ্জুম সুলতানা সীমা ও তার অনুসারীদের মধ্যে বাহার-ভীতি প্রকট। তেমনি সাক্কুর অনুসারীদের মধ্যে মনিরুল-ভীতি কাজ করছে।

সীমার বাবা আফজল খানের ‘রাজনৈতিক শত্রু’ সদর আসনের এমপি বাহাউদ্দিন বাহার। আধিপত্য বিস্তারের হিসাব-নিকাশে বাহারকে নিয়ে আতঙ্কিত সীমা। অন্যদিকে সাক্কুর অনুসারীদের ধারণা, সীমাকে নয়, সাক্কুকে জেতাতেই ভূমিকা রাখবেন বাহার। শহরের ২৭টি ওয়ার্ড ঘুরে এবং বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিএনপি সমর্থিত এলাকা হলো ১৯ থেকে ২৭ নম্বর ওয়ার্ড। তবে এসব ওয়ার্ডে সীমার অবস্থান ভালো। কমিল্লা সদর দক্ষিণের মধ্যে পড়েছে এসব ওয়ার্ড। এখানে বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী প্রভাবশালী। এসব এলাকায় ভোটাররা সাধারণত তার কথা শুনে থাকেন।

গত শনিবার মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, ‘সাক্কুর লোকজন প্রচার করছে আমি প্রচারণায় থাকলে ধানের শীষের ভোট কমবে। তাই আমি প্রচারণা থেকে বিরত থাকলাম।’ এই ঘোষণায় এসব ওয়ার্ডে সাক্কুর অবস্থান কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আর সুবিধা হয়েছে নৌকার প্রার্থী সীমার।

অন্যদিকে সদর আসনের আওয়ামী লীগের এমপি বাহারের রাজত্ব শহরে এক নম্বর  থেকে ১৮ নম্বর ওয়ার্ড পর্যন্ত। এসব ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের সমর্থন বেশি। তবে বাহারের ‘ইশারা’য় চলে বলে এসব ওয়ার্ডে সীমার অবস্থান শক্ত নয়।

প্রকাশ্যে প্রচার-প্রচারণা শেষ হওয়ার পর মোবাইল ফোনে প্রচারণায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন আওয়ামী লীগ ও বিএনপির দুই প্রার্থী। তবে তারা মোবাইলে কথা বলছেন ভোট নিয়ন্ত্রক স্থানীয় প্রভাবশালীদের সঙ্গে।

নিজেদের অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে আঞ্জুম সুলতানা সীমার প্রধান নির্বাচনি সমন্বয়ক সাবেক জেলা পরিষদ প্রশাসক ওমর ফারুক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘নানা প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে সীমা আপা নির্বাচনি প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলা করেও আমরা ইতোমধ্যে নৌকার প্রার্থীর অবস্থান পাকাপোক্ত করেছি। দেখা যাক, শেষ পর্যন্ত কী হয়!’   

অন্যদিকে মনিরুল হক সাক্কুর প্রধান নির্বাচনি সমন্বয়ক কাইমুল হক রিঙ্কু বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সুষ্ঠু ভোট হবে বলে আশা করছি। আর সুষ্ঠু ভোটের মাধ্যমে ধানের শীষের প্রার্থীই বিজয়ী হবে। তবে সরকারি দলের নেতাকর্মীরা সুষ্ঠু ভোট আয়োজনের ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সদর আসনের সাংসদ আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘লোকে অনেক কথা বলবেই। আমার দলের সিদ্ধান্তের বাইরে যাওয়ার কোনও সুযোগ নাই।’

বিষ্ণুপুর, ভাটপাড়া এলাকা নিয়ে গঠিত ১ নম্বর সাধারণ ওয়ার্ড, ছোটরা এলাকা নিয়ে গঠিত ২ নম্বর ওয়ার্ড, কালিয়াজুরি শাসনগাছা এলাকা নিয়ে গঠিত ৩নম্বর ওয়ার্ড, জাহাননগর, কাপ্তানবাজার ও ইসলামপুর এলাকার ৪ নম্বর ওয়ার্ড, গাংচরের একাংশ, রাজগঞ্জ, মনোহরপুর ও গঙ্গাগঞ্জের একাংশের ৫ নম্বর ওয়ার্ড, গাংচরের একাংশ, চানপুর, শুভপুর, চকবাজার ও গঙ্গাগঞ্জের একাংশ নিয়ে গঠিত ৬ নম্বর ওয়ার্ড, গোবিন্দপুর ও অশোকতলার একাংশ নিয়ে গঠিত ৭ নম্বর ওয়ার্ড, অশোকতলার একাংশ ও দ্বিতীয় কান্দিরপাড়ের একাংশ নিয়ে গঠিত ৮নম্বর ওয়ার্ড, বাগিচাগাঁও এলাকা নিয়ে গঠিত ৯ নম্বর ওয়ার্ড, ঝাউতলা, কান্দিরপাড়, বাগিচাওগাঁওয়ের একাংশ নিয়ে ১০ নম্বর ওয়ার্ড, মনোহরপুর ও উত্তর চর্থার একাংশ নিয়ে গঠিত ১১ নম্বর ওয়ার্ড,  বজ্রপুর ও উত্তরচর্থার একাংশের এলাকা নিয়ে গঠিত ১২ নম্বর ওয়ার্ড, দক্ষিণ চর্থার ১৩নম্বর ওয়ার্ড, দ্বিতীয় মুরাদপুরের একাংশ নিয়ে গঠিত ১৪ নম্বর ওয়ার্ড, ১৫ নম্বর ওয়ার্ড, টিক্কাচর ও সংরাইশ এলাকা নিয়ে গঠিত ১৬ নম্বর ওয়ার্ড, দ্বিতীয় মুরাদপুরের একাংশ ও সুজানগরের ১৭ নম্বর ওয়ার্ড, নুরপুর ও দ্বিতীয় মুরাদপুরের একাংশ নিয়ে গঠিত ১৮ নম্বর ওয়ার্ড। এসব ওয়ার্ডে বাহারের একচ্ছত্র আধিপত্য থাকায় নৌকার প্রার্থী সীমা শঙ্কিত।

কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের সদর দক্ষিণ উপজেলায় রয়েছে ৯টি ওয়ার্ড। সদর দক্ষিণে নেউরা, সৈয়দপুর, নোয়াপাড়া, উত্তর রসুলপুর, দক্ষিণ রসুলপুর, রাজাপাড়া এলাকা দিয়ে শুরু ১৯ নম্বর ওয়ার্ড, উনাইসার, কাজীপাড়া, দিশাবন্দ, লক্ষ্মীনগর এলাকার ২০ নম্বর ওয়ার্ড, আশ্রাফপুর, জাঙ্গালিয়া, রামনগর ও শাকতলার ২১নম্বর ওয়ার্ড, উত্তর রামপুর, উত্তর হিরাপুর, মোস্তফাপুর, কচুয়া, দক্ষিণ গোপিনাথপুর, দৈয়ারা, বড় দুর্গাপুর, লক্ষ্মীপুর, শ্রীবল্লভপুর, শ্রীমন্তপুর ও দুর্গাপুর এলাকা নিয়ে ২২ নম্বর ওয়ার্ড, চাঙ্গিনী, চাঁদপুর, জয়পুর, মনিপুর, মঠপুস্কুরিনী, বাতাবাড়িয়া ও নন্দনপুর নিয়ে গঠিত ২৩নম্বর ওয়ার্ড, উত্তর বাগমারা, দক্ষিণ বাগমারা, ফিরোজপুর, লালমাইয়ের একাংশ, বার্ড, কোটবাড়ী, বিজিবি ক্যাম্প, পলিটেকনিক, রামপুর, সালমানপুর এলাকার ২৪ নম্বর ওয়ার্ড, কালিকিংকরপুর, চৌয়ারা, ছোট ধর্মপুর, ডুমুরিয়া, তারাপাইয়া, দয়াপুর ও লক্ষ্মীপুর এলাকা নিয়ে ২৫ নম্বর ওয়ার্ড, কালিকাপুর, গোয়ালমথন, চাংগিনি, ধনপুর, বল্লভপুর, বাউবন্দ, রাজেন্দ্রপুর ও মহেশপুর এলাকা নিয়ে গঠিত ২৬নম্বর ওয়ার্ড, উত্তর ধনাইতরি, উলুরচর, কমলাপুর, ধনাইতরি, পাঠানকোট, মাটিয়ারা পূর্ব-পশ্চিম, রায়পুর, লক্ষ্মী ২৭ নম্বর ওয়ার্ড। এসব এলাকায় বিএনপির সমর্থন বেশি থাকলেও সাক্কুর চেয়ে সীমার অবস্থা যথেষ্ট ভালো।

এএআর/

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
কুমিল্লায় এক শিশুকে ধর্ষণ ও আরেক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ
কুমিল্লায় এক শিশুকে ধর্ষণ ও আরেক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ
টিভিতে আজকের খেলা ( ৪ জুন, ২০২৬)
টিভিতে আজকের খেলা ( ৪ জুন, ২০২৬)
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম