চাঁদপুরের হাজীগঞ্জের শ্রী শ্রী রাজা লক্ষী নারায়ন জিউর আড়খায় হিন্দু ধর্মালম্বীদের ধর্মীয় অনুষ্ঠানে দুই গ্রুপের সংঘর্ষের আশঙ্কায় মন্দির এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে স্থানীয় প্রশাসন। ৫ এপ্রিল বুধবার রাত ১২টা থেকে ১১ এপ্রিল ভোর ৬টা পর্যন্ত এ আদেশ বলবৎ থাকবে।
বুধবার বিবাদমান দু’টি গ্রুপের বার্ষিক ভূবনমঙ্গল হরিনামযজ্ঞ মহোৎসব ১৪২৩ বঙ্গাব্দ একই স্থানে ও একই সময়ে আহবান করায় মন্দির এলাকায় ২’শ গজের মধ্যে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহবুবুল আলম মজুমদার।
জানা যায়, হাজীগঞ্জ বাজারস্থ শ্রী শ্রী রাজা লক্ষী নারায়ন জিউর আখড়ার কমিটি নিয়ে বেশ কয়েক বছর যাবত হিন্দু ধর্মালম্বীদের দু’টি গ্রুপের মধ্যে বিবাদমান দ্বন্দ্ব চলে আসছে। এ নিয়ে সম্প্রতি বেশ কয়েকবার নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে।
শ্রী শ্রী রাজা লক্ষী নারায়ন জিউর আখড়ার কমিটি নিয়ে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। সর্বশেষ গত বুধবার ৫ এপ্রিল বিকেলে মন্দির প্রাঙ্গনে পাঁচদিন ব্যাপী বাৎসরিক হরিনাম সংকীর্তন করার জন্য দু’টি পক্ষ সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করে। এতে করে নিজেদের মধ্যে দুটি গ্রুপ আবারো মুখোমুখি অবস্থান নেয়। বুধবার হরিনাম সংকীর্তনে উভয় পক্ষের লোকজন মন্দিরে আসলে সংঘর্ষের আশঙ্কা দেখা দেয়।
এক পক্ষের নেতৃত্বে রয়েছে দিলিপ কুমার সাহা আর অপর পক্ষের নেতৃত্ব দিচ্ছেন গৌরপদ সাহা। বুধবার বিকেলে আখড়া প্রাঙ্গনে ৫দিন ব্যাপি বাৎসরিক হরিনাম সংকীর্তন করার জন্য দুই পক্ষ সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করে। এতে করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘাতের আশঙ্কা দেখা দেয়। ঘটনাটি স্থানীয় প্রশাসন জানার পর জিউড় আখড়ার আশে-পাশে ১৪৪ ধারা জারি করেন।
আখড়া পরিচালনা কমিটির এক পক্ষের সভাপতি দিলিপ কুমার সাহা বলেন, ‘এ বিষয়ে আপনারা ভালো জানেন। আমি একটি সভায় আছি বলে লাইনটি কেটে দেন।’ একই কমিটির সাধারণ সম্পাদক সত্যব্রত ভদ্র ওরফে মিঠুন ভদ্র বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি কিছুই জানিনা।’
আখড়া পরিচালনা কমিটির অপর অংশের সভাপতি গৌরপদ সাহা বলেন, ‘আদালতের নির্দেশ রয়েছে ভক্তবৃন্দ ছাড়া কোন পক্ষ মন্দির প্রাঙ্গনে কোন অনুষ্ঠান করতে পারবে না। দিলিপ কুমার গং অবৈধ কমিটি নিয়ে অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। অপরদিকে সাধারণ ভক্তবৃন্দ একইস্থানে সংকীর্তনের প্রস্তুতি নিলে প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করে ।
হাজীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাবেদুল ইসলাম জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে আখড়া প্রাঙ্গনে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত দুই পক্ষকে সব ধরনের অনুষ্ঠান পালন থেকে বিরত থাকার জন্য নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।
এ বিষয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও হাজীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহবুবুল আলম মজুমদার জানান, ‘তাদের নিজেদের মধ্যে আইন-শৃঙ্খলা ভঙ্গের আশঙ্কা দেখা দেয়ায় সাধারণ জনগণের জান-মালের নিরাপত্তার স্বার্থে প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করে ১৪৪ ধারা জারি করেছি। আগামী ১১ এপ্রিল আখড়ার ২’শ গজের মধ্যে ১৪৪ ধারা জারি থাকবে।’
/এমএইচ







