গাইবান্ধা সদর সাব-রেজিস্ট্রারের সই জাল করে সোনালী ব্যাংক লিমিটেড গাইবান্ধা শাখায় পৌঁনে পাঁচ লাখ টাকার চারটি পে-অর্ডার ভাঙানোর চেষ্টা করেন দলিল লেখক সমিতির সভাপতি টিটন। পরে সাধারণ মানুষের চাপের মুখে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ পে-অর্ডারগুলো জব্দ করে।
জানা গেছে, গত ৬ এপ্রিল সোনালী ব্যাংক থেকে পে-অর্ডারগুলো ইস্যু করা হয় এবং একইদিন পে-অর্ডারের বিপরীতে জমির দলিলও সম্পাদন হয়। পে-অর্ডারের টাকা সরকারের কোষাগারে জমা হওয়ার কথা থাকলেও দলিল লেখক সমিতির সভাপতি রেজিস্ট্রিা অফিস ও ব্যাংকের একটি চক্রের যোগসাজসে ভাঙানোর চেষ্টা করলে ধরা পরেন।
গাইবান্ধা সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে স্থায়ী সাব-রেজিস্ট্রার না থাকায় গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার সাব রেজিস্ট্রার মর্তুজা রেজা গাইবান্ধা সদর সাব-রেজিস্ট্রারের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি সপ্তাহের বুধবার ও বৃহস্পতিবার গাইবান্ধা অফিসে দলিল সম্পাদনের করেন।
সাব-রেজিস্ট্রার মর্তুজা রেজা গত রবিবার সন্ধ্যায় মোবাইল ফোনে জানান, ‘গত ৬ এপ্রিল বৃহস্পতিবার ওইসব পে-অর্ডারে জমির দলিল কার্য সম্পাদন করা হয়। দলিল সম্পাদনের পর দলিলসহ পে-অর্ডারগুলো রেজিস্ট্রি অফিসের অফিস সহকারী নুরুল ইসলামের হেফাজতে থাকার কথা। কিন্তু দলিল লেখক সমিতির সভাপতি কীভাবে হাতে পেলেন তা জানতে অফিসের কর্মচারিদের সঙ্গে কথা বলেছি।’
তিনি আরও জানান, ‘আমি ওই পে-অর্ডার ভাঙ্গানোর জন্য কোথাও সই দেইনি। এমনকি কোনও চালানও ব্যাংকে পাঠাইনি।’
সোনালী ব্যাংকে উপস্থিত থাকা কয়েকজন গ্রাহক জানান, রবিবার বিকেলে ৪ লাখ ৭৩ হাজার ১০০ টাকার চারটি পে-অর্ডার ভাঙাতে আসেন দলিল লেখক সমিতির সভাপতি নুর-এ হাবিব টিটন। ভারপ্রাপ্ত ব্যাংক ম্যানেজার আব্দুর রায়হান সরকার একটি পে-অর্ডার পাস করেন। তিনি অপর তিনটি পে-অর্ডার পাস করার চেষ্টাকালে ব্যাংকে আগত গ্রাহকরা হৈ চৈ শুরু করেন। অবস্থা বেগতিক দেখে দলিল লেখক সমিতির সভাপতি টিটনকে নিয়ে ব্যাংক থেকে সটকে পড়েন ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত ম্যানেজার আব্দুর রায়হান। পরে ঘটনাটি শহরে ছড়িয়ে পড়লে সংবাদকর্মীরা ব্যাংকে আসেন। ব্যাংকে গিয়ে ব্যবস্থাপককে না পেয়ে ভারপ্রাপ্ত ডিজিএম আব্দুর রউফ আকন্দের কাছে ছুটে যান সংবাদকর্মীরা। ডিজিএম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে ব্যাংক ব্যবস্থাপক আব্দুর রায়হানকে মোবাইল ফোনে ব্যাংকে ডেকে পাঠান এবং সংবাদকর্মীদের তথ্য দিতে বলেন। প্রায় এক ঘণ্টা পর ব্যবস্থাপক ব্যাংকে এসে জানান, ‘নুর-এ হাবিব টিটন চারটি পে-অর্ডার ভাঙাতে এসেছিলেন।’
গাইবান্ধা সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের একটি সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন থেকে দলিল লেখক সমিতির সভাপতি নুর-এ হাবিব টিটন সোনালী ব্যাংক গাইবান্ধা শাখার কতিপয় কর্মকর্তার যোগসাজসে বিভিন্ন অংকের পে-অর্ডার ভাঙিয়ে কোটি টাকার মালিক হয়েছেন।
/এসএনএইচ/








