মৌলভীবাজারের বড়হাট এলাকার জঙ্গি আস্তানায় ‘অপারেশন ম্যাক্সিমাস’ শেষ হওয়ার ১১দিন পার হয়ে গেলেও এখনও খুলেনি আবু শাহ (র:) দাখিল মাদ্রাসা। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম এখনও বন্ধ রাখা হয়েছে। এতে ছেলেমেয়েদের পড়াশুনা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন অভিভাবকরা। মাদ্রাসা সুপার সৈয়দ ইউনুস আলী বাংলা ট্রিবিউনকে এসব তথ্য জানিয়েছেন।
মাদ্রাসা সুপার সৈয়দ ইউনুস আলী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘জঙ্গি আস্তানা থেকে ৫০০ গজ পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। এই সীমানার মধ্যেই রয়েছে আমাদের মাদ্রাসা।’
অভিভাবকরা জানান, মাদ্রাসাটির পশ্চিম পাশেই রয়েছে সাইফুর রহমানের বাড়ি। সেখানে ২৮ মার্চ থেকে জঙ্গিদের উপস্থিতি টের পেয়ে পাহারা শুরু করে পুলিশ। এরপর ৩০ মার্চ থেকে বাড়িটিতে অভিযান ম্যাক্সিমাস শুরু হয়।এর আগের দিন থেকে প্রশাসনের নির্দেশে মাদ্রাসাটি বন্ধ করে দেওয়া হয়, যা এখনও খুলে দেওয়া হয়নি।
অভিভাবকরা আরও জানান, কবে মাদ্রাসা খুলবে তা জানে না কর্তৃপক্ষ। এদিকে, ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার তো ‘বারোটা’ বেজে যাচ্ছে।
মাদ্রাসা সুপার বলেন, ‘ঘটনাস্থলে বোম্ব ডিসপোজাল টিম পরিদর্শন করার পর ক্লিয়ারেন্স না দেওয়া পর্যন্ত মাদ্রাসা বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয় প্রশাসন। এরপর আরও কোনও নির্দেশনা পাইনি।’
তিনি আরও বলেন, ‘বেশ কয়েকবার প্রশাসনকে মাদ্রাসা খুলে দেওয়ার অনুরোধ করেছি। তারা এখনও কিছু জানায়নি। এ নিয়ে মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সাথে আলোচনাও হয়েছে। কিন্তু পাঠদান শুরুর পর যদি কোনও ঝামেলা হয়, এই আশংকায় আর মাদ্রাসা খুলে দিতে পারছি না। এদিকে, কবে মাদ্রাসা খোলা হবে তা জানতে বারবার ফোন করছেন অভিভাবকরা।’
এ ব্যাপারে জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শাহজালাল বলেন, ‘মাদ্রাসা বন্ধ রাখার ব্যাপারে এখন তো আর কোনও নির্দেশনা নেই। ওই এলাকার ১৪৪ ধারাও তো প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে।’
মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে জানা যায়, ১৯৭৪ সাল থেকে এ মাদ্রাসার কার্যক্রম শুরু হয়। ১৯৯৭ সালে এটি দাখিল মাদ্রাসার অনুমোদন পায়। তবে এখনও এমপিওভুক্ত হয়নি। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে ১৫জন সহকারী শিক্ষক ও প্রায় ৫০০ শিক্ষার্থী রয়েছে।
/এমএ/








