তওবা পড়ানো হলো জঙ্গি রিপনকে

সিলেট প্রতিনিধি
১২ এপ্রিল ২০১৭, ২১:৫৮আপডেট : ১২ এপ্রিল ২০১৭, ২১:৫৮

জঙ্গি রিপন

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হরকাতুল জিহাদ (হুজি) নেতা দেলোয়ার হোসেন রিপনকে তওবা পড়ানো শেষে কারাগার থেকে বেরিয়েছেন নগরীর শাহ আবু তোরাব জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা মুফতি বেলাল উদ্দিন। বুধবার (১২ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৯টার দিকে তিনি তার সহযোগীকে সঙ্গে নিয়ে কারাগার থেকে বের হয়ে আসেন।

মাওলানা মুফতি বেলাল উদ্দিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘দেলোয়ার হোসেন রিপনকে তওবা পড়ানো হয়েছে। তার মাঝে অস্বাভাবিক কোনও কিছু লক্ষ করা যায়নি।’

এর আগে রাত ৮টা ৪৫ মিনিটে মাওলানা মুফতি বেলাল উদ্দিন ও তার সহযোগীকে সঙ্গে নিয়ে কারাগারে প্রবেশ করেন কারা বিভাগের উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি প্রিজন) একেএম ফজলুল হক।

ইমাম বের হওয়ার পর পরই কারাগারে প্রবেশ করেন জেলা প্রশাসক রাহাত আনোয়ার, জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এডিএম জিয়াউল ইসলাম ও জেলা পুলিশ সুপার মনিরুজ্জামান। এরও কিছুক্ষণ পর ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের এক ডোম নিয়ে কারাগারে পৌঁছেন সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদফতরের সহকারী পরিচালক ড. অমল রতন সাহা।

এর আগে জেল সুপার মো. ছগির মিয়া বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘রিপনের ফাঁসি কার্যকর করার জন্য ৮৫ বছরের দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি জল্লাদ ফারুকের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি প্যানেলকে প্রস্তুত করা হয়েছে। তারা ইতোমধ্যে কারাগারের ভেতরে প্রবেশ করেছে।’

কারা সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (১২ এপ্রিল) রাত ১০টার পরে জঙ্গি দেলওয়ার হোসেন রিপনের ফাঁসি কার্যকর হবে। এজন্য সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে জোরদার করা হয়েছে কারাগারের নিরাপত্তা। প্রস্তুত রাখা হয়েছে জল্লাদ ও ফাঁসির মঞ্চ। এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা।

মঙ্গলবার (১১ এপ্রিল) সকালে রাষ্ট্রপতির কাছে করা রিপনের প্রাণভিক্ষার আবেদন নাকচ সংক্রান্ত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চিঠি সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে পৌঁছে। এরপর তা রিপনকে পড়ে শোনানো হয়। পরে বিকালে বাবা আ. ইউসুফ, মা আজিজুন্নেছা, ভাই নাজমুল ইসলাম ও তার স্ত্রী রিপনের সঙ্গে দেখা করেন।

উল্লেখ্য, সিলেটের হযরত শাহজালালের (রা.) মাজারে ২০০৪ সালের ২১ মে আনোয়ার চৌধুরীর ওপর গ্রেনেড হামলা হয়। হামলায় আনোয়ার চৌধুরী, সিলেটের জেলা প্রশাসকসহ অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত এবং পুলিশের দুই কর্মকর্তাসহ তিনজন নিহত হন। ওই মামলায় ২০০৮ সালের ২৩ ডিসেম্বর বিচারিক আদালত পাঁচ আসামির মধ্যে মুফতি হান্নান, শরীফ শাহেদুল বিপুল ও দেলোয়ার হোসেন রিপনকে মৃত্যুদণ্ড এবং মহিবুল্লাহ ও আবু জান্দালকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ১৯ মার্চ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে মুফতি হান্নানের রিভিউ আবেদন খারিজ করে আগের রায় বহাল রাখেন। এরপর তিন আসামিই রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন করেন। রাষ্ট্রপতি আবেদন খারিজ করে দেন। এখন ফাঁসি কার্যকরে আর কোনও আইনি বাধা নেই। মুফতি হান্নান ও বিপুল গাজীপুর হাইসিকিউরিটি কারাগারে বন্দি আছেন। আজ রাতে তাদেরও ফাঁসি কার্যকর করার কথা রয়েছে।

/এমএ/টিএন/

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম