বেনাপোল স্থল বন্দরের তালা ভেঙে আমদানি পণ্য চুররি ঘটনায় নিরাপত্তা সংস্থা আনসার ব্যাটালিয়নের সদস্য ও স্টোরকিপার সদস্যরা পাল্টাপাল্টি অভিযোগ তুলেছেন। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
এদিকে তিন দিন পরও চুরির ঘটনায় কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ। এমনকি কি চুরি যাওয়া আমদানি পণ্যের পরিমাণ ও নির্ধারণ করা হয়নি। ফলে হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ব্যবসায়ীরা।
বন্দরে চুরি যাওয়া ২২ নম্বর পণ্য গুদামের স্টোরকিপার রফিক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘গত বুধবার রাতে ডিউটি শেষে আমি ও আনসার সদস্যরা পণ্যাগারে তালা দিয়ে চলে যায়। রাতে পণ্যাগারের পাহারায় ছিল আনসার সদস্য। পরের দিন (১৩ এপ্রিল) সকালে আমি ও আনসার সদস্য উভয়ই আবার পণ্যাগাররে সিলগালা খুলে ভেতরে গিয়ে দেখি মালামাল লণ্ডভণ্ড করা। পেছনের একটি গেটের তালা ভাঙ্গা।
তিনি আরও বলেন, ‘এ চুরিতে নিরাপত্তা কর্মী আনসার সদস্যের হাত থাকতে পারে। লিখিতভাবে বিষয়টি বন্দরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালককে জানিয়েছি।’
এদিকে বন্দরের নিরাপত্তায় নিয়োজিত আনসার ব্যাটালিয়নের প্রধান (পিসি) রফিকুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এ চুরিতে স্টোরকিপার নিজেই জড়িত থাকতে পারেন। তারা মালামাল আগে থেকে বের করে নিয়ে এখন নাটক সাজাচ্ছে। ওই পণ্যাগারের তালা ভাঙা হয়নি, সেটা আগে থেকে খুলে রাখা হয়েছিল। এ চুরিতে আনসারের কোনও সদস্য জড়িত নেই। বিষয়টি নিয়ে থানায় জিডি করা হয়েছে। নিরপেক্ষ তদন্ত হলে সত্যতা বেরিয়ে আসবে।’
বেনাপোল স্থলবন্দরের আমদানি-রফতানি সমিতির সিনিয়র সহসভাপতি আমিনুল হক জানান, ‘বার বার চুরির ঘটনা ঘটলেও কারও কোন নজরদারি নেই। চুরি প্রতিরোধে বন্দর কর্তৃপক্ষকে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের অনুরোধ জানানো হলেও এ পর্যন্ত তা কার্যকর হয়নি। বন্দরে হাজার হাজার কোটি টাকার পণ্য থাকলেও কেন বন্দর কর্তৃপক্ষের সিসি ক্যামেরা লাগাতে অবহেলা করে, তা বুঝতে পারছি না।’
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘বন্দর থেকে পণ্য চুরি হলে শুধু লোকসান গুণতে হয় ব্যবসায়ীদের। বন্দরের কারও কিছু হয় না। এভাবে চলতে থাকলে এ পথে কেউ আর আমদানি করবে না।’
বেনাপোল স্থলবন্দরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক (ট্রাফিক) আমিনুল ইসলাম চুরির সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘এ ঘটনা তদন্তে কমিটি হচ্ছে। তারা চুরির ঘটনা ও চুরি যাওয়া পণ্যের হিসাব নির্ধারণ করবে। এক্ষেত্রে কারও বিরুদ্ধে চুরির সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
/এসএনএইচ/








