কক্সবাজারে পুলিশের বিরুদ্ধে স্থানীয় এক সাংবাদিককে বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে হয়রানির অভিযোগ পাওয়া গেছে। জানা গেছে, তিন বছর আগে আদালত থেকে খালাস পাওয়া একটি মামলায় স্থানীয় সাংবাদিক ও অনলাইন গণমাধ্যম বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর ডট কমের কক্সবাজার প্রতিনিধি তুষার তুহিনকে গ্রেফতার করে হয়রানি করে এএসআই মুজিবুল হক।
তবে কাগজপত্র পর্যালোচনা করে ওই সাংবাদিককে মুক্তি দিয়েছেন আদালত। এদিকে, কক্সবাজার সাংবাদিক ইউনিয়নসহ কর্মরত সাংবাদিকরা ঘটনাটি পরিকল্পিত উল্লেখ করে এর তীব্র নিন্দা জানান।
জানা গেছে, গত রবিবার সকাল ১০টার দিকে কক্সবাজার সদর থানার এএসআই মুজিবুল হক কক্সবাজার শহরের নিজ বাড়ি থেকে তুষার তুহিনকে থানায় নিয়ে আসেন। ১০ মিনিটের কম সময়ের মধ্যে তুষার তুহিনকে আদালতে পাঠানো হয়।
আদালত থেকে ছাড়া তুষার তুহিন সাংবাদিকদের জানান, ‘এএসআই মুজিবুল হক তার বাড়িতে গিয়ে কোনও কথা ছাড়াই জোর করে আমাকে থানায় নিয়ে যান। ওই সময় আমার কাছে থাকা মোবাইল ফোনও নিয়ে নেওয়া হয়। থানায় ধরে নিয়ে যাওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি ২০০৭ সালের একটি মামলায় গ্রেফাতারি পরোয়ানা থাকার কথা বলেন। পরে তাকে জানায়, ২০১৪ সালে একটি মামলায় উভয় পক্ষে সমাঝোতার মাধ্যমে আদালত তাকে খালাস দেন। আমার কাগজপত্র বাড়িতে রয়েছে। বাড়ি থেকে কাগজপত্র আনা পর্যন্ত সময় দেওয়ার অনুরোধ করি। কিন্তু আমাকে ১০ মিনিটের কম সময়ের মধ্যে আদালতে প্রেরণ করা হয়। পরে আমার আইনজীবী আদালতে কাগজপত্র দেখালে আদালত আমাকে মুক্তি দেন।’
তিনি আরও জানান, ‘ঘটনাটি পুলিশের পরিকল্পিত। শনিবার একটি নিউজ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পুলিশের সঙ্গে আমার কথা হয়। নিউজটি ছিল কক্সবাজার সদর থানার একজন এসআই বিরুদ্ধে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে এ ঘটনাটি ঘটানো হয়েছে বলে ধারণা করছি।’
এ ঘটনার প্রতিবাদে গত রবিবার দুপুর দেড় টায় কক্সবাজার প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সভায় নিন্দা জানিয়ে সাংবাদিক নেতারা বলেন, পুলিশের পরিকল্পিতভাবে সাংবাদিক হয়রানি করেছে। এ ঘটনায় দায়ী পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি। অন্যতায় কক্সবাজার সাংবাদিক ইউনিয়ন সারা দেশের সাংবাদিকদের সঙ্গে নিয়ে এর বিরুদ্ধে কঠোর আন্দোলন শুরু করবেন।
সভায় কক্সবাজার সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আবু তাহের, সাধারণ সম্পাদক জাহেদ সরওয়ার সোহেল, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের কেন্দ্রিয় সদস্য অ্যাডভোকেট আয়াছুর রহমানসহ অন্যান্য বক্তব্য রাখেন।
এদিকে, এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন কক্সবাজারের পুলিশ সুপার ড. ইকবাল হোসেন ও কক্সবাজার সদর থানার ওসি আসলাম হোসেন।
/এসএনএইচ/








