বগুড়া শহরের নিশিন্দারা মন্ডলপাড়ায় ওয়ার্ড যুবদল নেতা হযরত আলীকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় ১১ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা হয়েছে। সোমবার সকালে আওয়ামী লীগ সমর্থিত পৌর কাউন্সিলর জহুরুল ইসলাম মন্ডলকে প্রধান আসামী করে এ মামলা দায়ের করা হয়। নিহতের মা মেরিনা বেগম সদর থানায় মামলা করেন। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করেনি। তবে সদর থানার ওসি এমদাদ হোসেন জানিয়েছেন, হত্যার কারণ উদঘাটিত ও হত্যাকারীদের চিহ্নিত করা হয়েছে। শিগগিরই তাদের গ্রেফতার করা হবে।
জানা গেছে, নিশিন্দারা মন্ডলপাড়ার মৃত আবদুস সাত্তারের ছেলে ও ১৬ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হযরত আলী বালুর ব্যবসা করতেন। একটি হত্যা মামলায় জেলে যাবার পর তিনি জামিনে ছাড়া পান। স্ত্রী সাথী খাতুন দাবি করেন, গত পৌরসভা নির্বাচনে জহুরুল ইসলাম মন্ডলের সঙ্গে তার স্বামী হযরত আলী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন। প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় কাউন্সিলর জহুরুল ক্ষিপ্ত হন এবং দেখে নেবার হুমকি দিয়েছিলেন। কাউন্সিলর জহুরুল ইসলামের নির্দেশে পালশা এলাকার জনৈক সুজন রবিবার বেলা সোয়া ১টার দিকে তার স্বামী হযরত আলীকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। মোটরসাইকেল নিয়ে বাড়ির কাছে কাউন্সিলরের কার্যালয়ের সামনে পৌঁছালে ধারালো অস্ত্র দিয়ে নৃশংসভাবে কুপিয়ে তাকে হত্যা করা হয়। হত্যাকাণ্ডের পর জহুরুল ইসলাম ফোনে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ দৃঢতার সঙ্গে অস্বীকার করে বলেন, এটা তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র।
সদর থানার ওসি (তদন্ত) আসলাম আলী জানান, হযরত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তার মা মেরিনা বেগম সদর থানায় হত্যা মামলা করেছেন। এজাহারে কাউন্সিলর জহুরুল ইসলামকে প্রধান আসামি করে ৭ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাত চারজনকে আসামি করা হয়েছে।
সদর থানার ওসি এমদাদ হোসেন জানান, পূর্ব বিরোধের জের ধরে হযরত আলীকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। ঘাতকরা চিহ্নিত হয়েছে; তাদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। মামলার পর থেকে প্রধান আসামি কাউন্সিলর জহুরুল ইসলামের মোবাইল ফোন বন্ধ রয়েছে।
/এমপি/








