রাজধানীর বনানী থেকে গত বছরের ডিসেম্বর মাসে ‘নিখোঁজ’ চার শিক্ষার্থীর একজন মেহেদী হাসান নিজ বাড়ি বরিশালের বাবুগঞ্জে ফিরেছেন। কিন্তু গত সাড়ে তিন মাসের কোনও স্মৃতিই তিনি মনে করতে পারছেন না। বাড়িতে ফেরার পর পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে জ্ঞানও হারিয়ে ফেলেন শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়া মেহেদী। বাবুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুস সালামও বাংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েছেন, মেহেদীর কাছ থেকে তার নিখোঁজ থাকার সময়ের কোনও তথ্যই এখনও জানা সম্ভব হয়নি।
মেহেদী হাসান বাবুগঞ্জ উপজেলার বাহেরচর এলাকার জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে। বিএম কলেজের সমাজবিজ্ঞান সম্মান চূড়ান্ত বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন তিনি। গত বছরের ১ ডিসেম্বর রাতে একটি ক্যাফে থেকে সমবয়সী আরও তিন তরুণের সঙ্গে নিখোঁজ হন মেহেদী। এতদিন পর্যন্ত তাদের কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি। এর মধ্যে মঙ্গলবার (১৮ এপ্রিল) বাড়ি ফিরে এসেছেন মেহেদী। এর পরই স্থানীয় বাবুগঞ্জ পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মেহেদী পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে বলছেন, তিনি তার পাশের বাড়ির বন্ধু সুজনের সঙ্গে ঢাকার বনানীতে এক রেস্তোরাঁয় খেতে যান। ওই সময় সমবয়সী আরও দু’জনের সঙ্গে তাদের পরিচয় হয়। এরপরের আর কোনও ঘটনার কথাই স্মরণ করতে পারেননি মেহেদী। তিনি বলছেন, এতদিন তার কোনও চেতনা ছিল না। তাই এই দীর্ঘ সাড়ে তিন মাস তিনি কোথায় ছিলেন বা কী করেছেন, তার কিছুই তিনি বলতে পারছেন না।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন মেহেদী। এরপর তাকে সুস্থ করে ফের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
বাবুগঞ্জ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস সালাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মেহেদী এতদিন কোথায় ছিল, আমরা তা জানার চেষ্টা করছি। কিন্তু সে তেমন কিছুই বলতে পারছে না।’
মেহেদীর দেওয়া তথ্য থেকে ওসি আব্দুস সালাম বলেন, ‘মেহেদি জানিয়েছে, মঙ্গলবার সকাল ৮টার দিকে সে নিজেকে সাভারের নবীনগর এলাকায় দেখতে পায়। কিছু ব্যক্তি তাকে গাড়িতে করে সড়কের পাশে অচেতন অবস্থায় ফেলে রেখে যায়। তাদের পরিচয় সে বলতে পারেনি। পরে চেতনা ফিরলে মেহেদী সাভার থেকে নিজ বাড়ি বরিশালের বাবুগঞ্জে ফিরে আসে।’
উল্লেখ্য, গত বছরের ১ ডিসেম্বর রাতে বনানীর কাঁচাবাজার এলাকার নর্দান ক্যাফে থেকে খাবার খেয়ে বেরিয়ে যাওয়ার পর একসঙ্গে নিখোঁজ হয় চার তরুণ সাফায়েত, পাভেল, সুজন ও মেহেদী। তাদের মধ্যে সাফায়েত ও পাভেল নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। এদের মধ্যে আবার সাফায়েত লেখাপড়া স্থগিত রাখলেও পাভেল ইলেক্ট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিক্স বিভাগের শেষ সেমিস্টারের ছাত্র ছিল।
সুজন কর্মরত ছিল বিজ্ঞাপনী সংস্থা এশিয়াটিকে। ছোটবেলা থেকেই সে এশিয়াটিকের কর্ণধার আলী যাকেরের বাসায় থাকত। আর নিখোঁজের আগে গত বছরের ২৬ নভেম্বর চাকরির ইন্টারভিউ দিতে বরিশাল থেকে ঢাকায় আসে মেহেদী। সুজনের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে এই তরুণও নিখোঁজ হয় বলে তার পরিবারের সদস্যদের দাবি। মেহেদী বাসায় ফিরলেও অন্য তিন যুবকের খোঁজ মেলেনি এখনও।
আরও পড়ুন-








