মাঠের পর মাঠ শুধু পেঁপের ক্ষেত। কেউ ক্ষেতের পেঁপে পরিচর্যা করছেন, আবার কেউ কেনাবেচা করছেন। পেঁপে দাঁড়িপাল্লায় মেপে বস্তাভর্তি করছেন কৃষক ও ব্যাপারীরা। বাগানের পাশে নসিমন বা ট্রাকে তোলা হচ্ছে পেঁপের বস্তা। মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার বারইপাড়া গ্রামের প্রায় প্রতিদিনের চিত্রই এটি। ক্ষেতের পর ক্ষেত পেঁপের চাষ হওয়া গ্রামটিই এখন পরিচিত হয়ে উঠেছে পেঁপের গ্রাম হিসেবে।
গ্রামের কৃষকরা জানান, এ গ্রামে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ২শ পেঁপে বাগান গড়ে উঠেছে। পেঁপে চাষ করে এখন শুধু জীবিকা নির্বাহ নয়, আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হয়ে উঠেছেন এ গ্রামের কৃষকরা। বারইপাড়া গ্রাম থেকে পেঁপে কিনে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করে লাভবানও হচ্ছেন এলাকার সবজি ব্যবসায়ীরা।
পেঁপে চাষী হাসান মিয়া বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সবজি গ্রাম হিসেবে পরিচিত বারইপাড়ায় আগে থেকেই কমবেশি পেঁপে চাষ হয়। তবে গত ১০ থেকে ১২ বছর ধরে এ গ্রামের অধিকাংশ কৃষকই পেঁপে চাষ করছেন। বর্তমানে এ গ্রামের দেড় থেকে দুইশ কৃষক পেঁপে চাষের সঙ্গে জড়িত। এমন অনেক কৃষক রয়েছেন যারা ১৫ থেকে ২০ বিঘা জমিতে পেঁপে চাষ করছেন। এ কারণে এখন গ্রামটি পেঁপের গ্রাম হিসেবেই সবার কাছে পরিচিতি পেয়েছে।’
আরেক পেঁপে চাষী শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘এ বছর আমি ১৪ বিঘা জমিতে দেড় লাখ টাকা ব্যয় করে পেঁপে আবাদ করেছি। বর্তমানে প্রতি সপ্তাহে বাগান থেকে লক্ষাধিক টাকার পেঁপে বিক্রি করছি।’
স্থানীয় একটি কলেজের প্রভাষক আবুল বাসার বলেন, ‘পেঁপে চাষ করে এলাকার অধিকাংশ কৃষক সংসার সামলে সন্তানদের লেখাপড়া চালিয়ে যাচ্ছেন। নতুন বাড়িঘরও করেছেন। অনেকে লাখ লাখ টাকার মালিক হয়েছেন।’
সবজি ব্যবসায়ী কালাম শেখ বলেন, ‘তারা ছোট বড় মিলিয়ে জনাদশেক ব্যবসায়ী রয়েছেন, যারা প্রতিদিনই বারইপাড়া গ্রাম থেকে হাজার হাজার মন পেঁপে কিনে ঢাকার মিরপুর ও কাওরান বাজারে পাঠাচ্ছেন। এখন শেষ সময়ে দুই থেকে তিন ট্রাক চালান হলেও ভরা মৌসুমে প্রতিদিন পাঁচ থেকে ছয় ট্রাক পেঁপে চালান হয়।’ ব্যবসায়ী আকিদুল বলেন, ‘শুধু কৃষকরাই নন, বারইপাড়া গ্রামের পেঁপের ওপর অনেক ব্যবসায়ী ও শ্রমজীবী মানুষের জীবিকা জড়িত।’
জেলা কৃষি প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মাগুরার চার উপজেলায় সাড়ে চারশ হেক্টর জমিতে পেঁপের চাষ হয়েছে। এর মধ্যে শুধু বারইপাড়া গ্রামে পেঁপের ক্ষেত গড়ে উঠেছে ৭৫ হেক্টর জমিতে। পেঁপে চাষ করে বারইপাড়া গ্রামের কৃষকরা অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হচ্ছেন। কৃষি বিভাগ থেকে তাদের উদ্বুদ্ধ করার পাশাপাশি এ চাষ সম্পর্কে নানা পরামর্শও দেওয়া হচ্ছে।’
/এসএমএ/টিআর/








