অপহরণের তিন দিন পর সোমবার রাতে শিশু বাঁধনকে (৯) উদ্ধার ও মূল অপহরণকারী মোয়াজ্জেমকে গ্রেফতার করেছে মানিকগঞ্জের ডিবি পুলিশ। এর আগে মোয়াজ্জেমের মামাতো ভাই রাশেদুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়। মঙ্গলবার দুপুরে মানিকগঞ্জ পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে পুলিশ সুপার মাহফুজুর রহমান এই তথ্য জানান।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন, তারাশ উপজেলার সাকইদিঘি গ্রামের মো. আকবর আলী মেম্বারের ছেলে মোয়াজ্জেম (৩৩) ও একই উপজেলার তাড়াশ গ্রামের মজিবর রহমানের ছেলে রাশেদুল ইসলাম (৩২)।
তিনি আরও জানান, অপহরণের এক সপ্তাহ আগে বাঁধনদের বাড়িতে শ্রমিক হিসাবে কাজ করতে আসে মোয়াজ্জেম হোসেন। গত শনিবার দুপুরে বাঁধন স্কুল শেষে বাড়ি ফেরার পথে তাকে ফুটবাল কিনে দেওয়ার কথা বলে রাস্তা থেকে অপহরণ করে মোয়াজ্জেম। পরে দুপুর আড়াইটার দিকে বাঁধনের বাবা আসলাম শেখের মোবাইলে ফোনে তিন লাখ টাকা মুক্তি পণ দাবি করে। মুক্তিপণের টাকা না দিলে বাঁধনকে হত্যা করা হবে বলে হুমকি দেয় অপহরণকারীরা। ঘটনার দিন বিকেলে বাঁধনের নানা সোনা মিয়া বাদী হয়ে হরিরামপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন।
অভিযোগের পর গোয়েন্দা পুলিশ মোবাইল ট্র্যাকিংএর মাধ্যমে প্রথমে মোয়াজ্জেমের মামাতো ভাই রাশেদুল ইসলামকে গ্রেফতার করে। পরে তার দেওয়া তথ্য অনুসারে সোমবার রাতে সিরাজগঞ্জের তাড়াশ থানার খালকুলা বাজার এলাকা থেকে বাঁধনকে উদ্ধার ও মোয়াজ্জেমকে গ্রেফতার করে।
বাঁধনের মা জুঁই জানায়, দুই মেয়ের পর বাঁধন এক মাত্র ছেলে।তিন দিন তার তাকে বুকে পারেননি। এটা যে কি যন্ত্রণা তা শুধু মায়েরাই জানেন। বাঁধনকে ফিরে পেয়ে মনে হচ্ছে, জীবনে আর কিছুই চাওয়ার নেই।
বাঁধন হরিরামপুরের ইজদিয়া গ্রামের আসলাম শেখের ছেলে ও সাপাইর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থী।/জেবি/
আরও পড়তে পারেন: খাবারে বিষ দিয়ে চিকিৎসক ও নার্সকে হত্যা: দুই আসামির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি








