পূর্ব সুন্দরবন চাঁদপাই রেঞ্জের করমজল বণ্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রে প্রথমবারের মতো ডিম থেকে ২৮টি বিরল ‘বাটাগুর বাসকা’ প্রজাতির কচ্ছপের বাচ্চা জন্ম নিয়েছে। শুক্রবার (১২ মে) সকালে এই বাচ্চাগুলো করমজলের কচ্ছপ প্রজনন কেন্দ্রের চৌবাচ্চায় অবমুক্ত করা হয়। শুক্রবার বিকালে করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাওলাদার আজাদ কবীর বাংলা ট্রিবিউনকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত ৮ থেকে ১০ মে পর্যন্ত সময়ে একটি মাদি ‘বাটাগুর বাসকা’ কচ্ছপের ডিম ফুটে ওই ২৮টি বাচ্চার জন্ম হয়। এরপর বাচ্চাগুলোকে নিবিড় পর্যাবেক্ষণে রাখা হয়।
হাওলাদার আজাদ কবীর বলেন, ‘গত ৩ মার্চ পূর্ব সুন্দরবনের করমজল বণ্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রে প্রথমবারের মতো ৩১টি ডিম পাড়ে ‘বাটাগুর বাসকা’ প্রজাতির একটি মাদি কচ্ছপ। দুই মাসের ব্যবধানে কচ্ছপটি ডিমগুলো পাড়ে। এর মধ্য থেকে গত ৮ মে চারটি, ৯ মে ১৯টি এবং ১০ মে তিনটি কচ্ছপের বাচ্চা জন্ম নেয়। বাকি পাঁচটি ডিমের তিনটি নষ্ট হয়ে গেছে এবং বাকি দুইটি ডিম থেকে আরও দুইটি কচ্ছপের বাচ্চা জন্ম নিয়েছে। এদেরকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।’
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. সাইদুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বাংলাদেশ বন বিভাগ, আমেরিকার টারটেল সারভাইভাল অ্যালায়েন্স, অস্ট্রিয়ার ভিয়েনা জু ও প্রকৃতি জীবন ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে সুন্দরবনের করমজল বণ্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রের কুমির ও হরিণের পাশাপাশি ২০১৪ সালে গড়ে তোলা হয় বিরল প্রজাতির বাটাগুর বাসকা কচ্ছপ প্রজনন কেন্দ্র। এ প্রজনন কেন্দ্রে সদ্য জন্ম নেওয়া ২৮টি বাচ্চা ছাড়াও বর্তমানে বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষসহ ১২৩টি বাটাগুর বাসকা কচ্ছপ গবেষণার জন্য রয়েছে।’
বন বিভাগের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘একটা সময়ে দেশের উপকূলীয় অঞ্চলসহ লবণাক্ত পানিতে প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যেত বাটাগুর বাসকা বা বড় কাটালি কচ্ছপ। এখন সময়ের বিবর্তনে ও মানবসৃষ্ট কর্মকাণ্ডের কারণে এই প্রজাতির কচ্ছপ প্রায় বিলুপ্তের পথে। সারাবিশ্বে এই কচ্ছপগুলোর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এসব কচ্ছপের মাংসের পুষ্টিগুণ অনেক বেশি। পূর্ণবয়স্ক একটি কচ্ছপ ২৫-৩০ কেজি ওজনের হয়। এই প্রজাতির কচ্ছপ ৭০ থেকে ৮০ বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে।’
/টিআর/








