নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান বলেছেন, ‘শিগগিরই বেনাপোল স্থলবন্দরের পণ্যজট ও যানজট সমস্যার সমাধান করা হবে। এজন্য বেনাপোল থেকে যশোর পর্যন্ত ফোর লেন রাস্তা তৈরি করা হবে। ৩টি ইয়ার্ডে ১০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৮টি শেড নির্মাণ করা হচ্ছে। এগুলো নির্মিত হলে যানজট আর থাকবে না। আর নিরাপত্তার জন্য বেনাপোল স্থলবন্দরকে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হবে।’
শুক্রবার (২ জুন) বিকালে বেনাপোল স্থলবন্দরের আন্তর্জাতিক যাত্রী টার্মিনাল ভবনের কার্যক্রম উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।
নৌ-পরিবহনমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া অন্ধ; তার চোখে ছানি পড়েছে। তাই তিনি আওয়ামী লীগের উন্নয়ন নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘টেকসই গণতন্ত্র না হলে তার কোনও মুল্য নেই। পদ্মসেতু নির্মাণ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অঙ্গীকার ছিল। দেশের টাকায় আজ তা নির্মিত হচ্ছে।’
শাজাহান খান বলেন, ‘জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে ক্ষমতায় এসেছিল। বিএনপি উন্নয়ন চায় না। বিএনপি দিনের পর দিন শুধু মিথ্যা কথা বলে যেতে জানে।’
এর আগে মন্ত্রী ১০০ কোটি টাকা ব্যয়ে বেনাপোল স্থলবন্দরে নির্মাণাধীন শেডগুলো ও ট্রেন লাইনের পাশ দিয়ে রাস্তার কাজ পরিদর্শন করেন।
বেনাপোল স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ আয়োজিত অনুষ্ঠানে স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান তপন কুমার চক্রবর্তীর সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন- নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব অশোক মাধাব রায়, বেনাপোল কাস্টমস কমিশনার মো. শওকাত হোসেন, বেনাপোল স্থল বন্দরের পরিচালক (উপ-সচিব) আব্দুর রউফ, শার্শা উপজেলা চেয়ারম্যান সিরাজুল হক মঞ্জু, যশোর ৪৯ বিজিবির কমান্ডিং অফিসার লে. কর্নেল আরিফুল হক, বেনাপোল পৌর মেয়র আশরাফুল আলম লিটন, শার্শা উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুস সালাম, বেনাপোল স্থলবন্দরের সিনিয়র উপ পরিচালক আমিনুল ইসলাম, বন্দরের সিবিএ সাধারন সম্পাদক মনির হোসেন মজুমদারসহ অনেকে।
বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন ও কাস্টমস ভবনের পাশে নির্মাণ করা হয়েছে এ আন্তর্জাতিক যাত্রী টার্মিনাল। ১০তলা ভিত্তির ওপর বর্তমানে ৩তলা পর্যন্ত ১ লাখ ৩ হাজার ৬৭৫ বর্গফুটের ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। এর পেছনে ব্যয় হয়েছে ৭ কোটি ৬৮ লাখ ১৭ হাজার ৮৮২ টাকা। ঢাকার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অনিক ট্রেডিং করপোরেশন নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করে ২০১৩ সালের আগস্ট মাসে ভবনটি হস্তান্তর করে। ২০১৩ সালের ২৩ আগস্ট নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান এই যাত্রী টার্মিনাল ভবনটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। কিন্তু স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনা ও অবহেলায় এতদিন তা চালু করা যায়নি।
বাংলাদেশ স্থলবন্দর এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেন মজুমদার বলেন, ‘প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল ভবন চালু হলে যাত্রীরা এখানে মাত্র ৩৩ টাকার বিনিময়ে বিশ্রামের জন্য দিনভর অবস্থান করতে পারবেন। একই ভবনের নিচে থাকছে ঢাকা-কলকাতাগামী যাত্রীবাহী পরিবহন কাউন্টার ও খাওয়ার জন্য ক্যান্টিনের ব্যবস্থা। এতে তারা স্বাচ্ছন্দবোধ করবেন।’
/এমএ/








