২৫০ শয্যাবিশিষ্ট কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে (সদর হাসপাতাল) ৪২ পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র ২০ জন চিকিৎসক। হাসপাতালে একমাত্র এক্স-রে মেশিনটি প্রায় ৭-৮ মাস ধরে বিকল। সব মিলিয়ে ব্যাহত হচ্ছে জেলার স্বাস্থ্যসেবা। জেলার ৮টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোতেও চিকিৎসক সংকট রয়েছে।
কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক (আরএমও) ডা. শাহীনুর রহমান সরদার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘চিকিৎসক সংকটে সদর হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা দিতে আমরা হিমশিম খাচ্ছি। বিশেষ করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও জরুরি বিভাগসহ আউটডোর সেবায় চিকিৎসক সংকট থাকায় চিকিৎসা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।’
এক্স-রে মেশিন বিকলের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ইতোমধ্যে একটি নতুন ডিজিটাল এক্স-রে মেশিন বসানো হয়েছে। তবে সেটি চালু না থাকায় এর সেবা থেকে রোগীরা বঞ্চিত হচ্ছেন। খুব শিগগির এটি চালু করা হবে।’
তিনি জানান, কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে ৪২টি পদের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ২০ জন চিকিৎসক। এর মধ্যে কনসালটেন্ট আছেন ৮ জন ও মেডিক্যাল অফিসার ১২ জন। চক্ষু বিশেষজ্ঞ, নাক-কান-গলা (ইএনটি), প্যাথোলজি, রেডিওলজি এবং চর্ম ও যৌন বিষয়ে কোনও চিকিৎসক নেই জেলা সদরের এই সরকারি হাসপাতালটিতে।
চিকিৎসক সংকটে জেলার ৯ উপজেলার চিকিৎসা সেবাও ব্যাহত হচ্ছে। কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালসহ ৯ উপজেলায় ১৭৫টি পদের বিপরীতে মাত্র ৫৫ জন চিকিৎসক কর্মরত রয়েছেন। প্রায় দুই তৃতীয়াংশ পদ শূন্য থাকায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোয় ঠিকমতো সেবা পাচ্ছেন না রোগীরা।
জেলা সিভিল সার্জনের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চিলমারী উপজেলা কমপ্লেক্সে ২১টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র ৪ জন চিকিৎসক। সেখানে শিশু, মেডিসিন, গাইনি, কার্ডিওলজি, ডেন্টাল ও অ্যানেসথেসিয়াসহ প্রায় ১৭টি পদে কোনও চিকিৎসক নেই। ফলে ব্রহ্মপুত্র নদ বেষ্টিত দরিদ্র এই উপজেলার লক্ষাধিক মানুষ তাদের স্বাস্থ্য সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
রাজারহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৯টি পদের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ৪ জন চিকিৎসক। উলিপুর উপজেলায় ২১টি পদের বিপরীতে ৯ জন এবং নাগেশ্বরী উপজেলায় ৯টি পদের বিপরীতে রয়েছেন ৬ জন চিকিৎসক। তবে এই তিনটি উপজেলার ইউনিয়ন পর্যায়ে ২০ জন চিকিৎসকের পদ থাকলেও কোনও চিকিৎসক কর্মরত নেই সেখানে। অন্যান্য উপজেলাগুলোর কোনোটিতেই পদ সংখ্যার সমসংখ্যক চিকিৎসক নেই।
কুড়িগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. আমিনুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘প্রয়োজনের তুলনায় কম চিকিৎসক দিয়ে কোনও রকমে চিকিৎসা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। আরও চিকিৎসক চেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেছি। কিন্তু কুড়িগ্রামে চিকিৎসকরা থাকতে চান না।’
কেন চিকিৎসকরা থাকতে চান না, জানতে চাইলে সিভিল সার্জন বলেন, ‘অনেকে উচ্চ শিক্ষার জন্য চলে যান, আর ফিরে আসেন না। তবে ঠিক কি কারণে চিকিৎসকরা থাকতে চান না তা আমার জানা নেই।’
/এনআই/এসটি/








