ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (আইসিইউ) আগুন লাগার ঘটনায় বৃহস্পতিবার নেত্রকোনার দুর্গাপুরের সখিনা (২০) ও ময়মনসিংহের তারাকান্দার হাবিবুর রহমান (৩৬) নামে আরও দুই জন মারা গেছেন। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত ৪ জন রোগী মারা গেছেন।
এর আগে, মারা যান হেলাল উদ্দিন ও সুরুজ মিয়া। আগুন লাগার আগে আইসিইউতে ছয়জন রোগী চিকিৎসাধীন ছিল। আগুন লাগার পর তাদের লাইফ সাপোর্ট খুলে হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। বাকি দুই জনের অবস্থাও সঙ্কটাপন্ন বলে জানিয়েছে হাসপাতাল সূত্র।
এদিকে, আগুনের ঘটনা তদন্তে গঠিত সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি বৃহস্পতিবার ২য় কর্মদিবসে কমিটি প্রধান হাসপাতালের উপ পরিচালক ডা. আব্দুল গনির নেতৃত্বে তদন্ত কাজ শুরু করেছে। আগুন লাগার কারণ অনুসন্ধান ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরুপণে হাসপাতালের উপ পরিচালক ডা. আব্দুল গনিকে প্রধান করে সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয় গত মঙ্গলবার।
কমিটিকে তিন কর্মদিবসে তদন্ত রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে। কমিটির অপর সদস্যরা হলেন- আইসিইউ ইউনিটের প্রধান ও ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজের ভাইস প্রিন্সিপাল অধ্যাপক ডা. আনম ফজলুল হক পাঠান, হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. লক্ষ্মী নারায়ণ মজুমদার, ডা. আবুল কাশেম, গণপূর্ত অধিদফতরের উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী তাওহীদুর রহমান, ফায়ার সার্ভিসের স্থানীয় সহকারী পরিচালক শহীদুর রহমান ও আইসিইউ ইউনিটের কর্তব্যরত নার্স।
তদন্ত কমিটির সদস্যরা বৃহস্পতিবার দুপুরে ক্ষতিগ্রস্ত আইসিইউ ইউনিট ঘুরে দেখেন। এসময় কমিটির সদস্যরা বৈদ্যুতিক সরঞ্জামাদিসহ পুড়ে যাওয়া মূল্যবান যন্ত্রপাতি ও মেশিন দেখেছেন, ছবি তুলেছেন। তবে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত আগুন লাগার প্রকৃত কারণ শনাক্ত করা যায়নি।
হাসপাতালের উপ পরিচালক ও তদন্ত কমিটি প্রধান ডা. আব্দুল গনি জানিয়েছেন, আগুন লাগার কারণ খুঁজে বের করতে আগামী রবিবার ফের তদন্ত করবেন তারা। প্রয়োজনে আরও সময় চাওয়া হবে তদন্ত কাজের জন্য।
আইসিইউ প্রধান অধ্যাপক ডা. পাঠান জানান, গত ৩ মাস ধরে স্টোররুমের এসি নষ্ট ছিল। তবে স্টোররুম থেকেই যে আগুনের সূত্রপাত সেটি নিশ্চিত করেছে ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তাসহ আইসিইউ এর কর্তব্যরত চিকিৎসক ও নার্স।
তদন্ত কমিটির সদস্য গণপূর্ত বিভাগের উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী তাওহীদুর রহমান জানান, প্রাথমিকভাবে আইসিইউ এর স্টোররুমের বৈদ্যুতিক এসি থেকে আগুনের সূত্রপাত বলে মনে করা হচ্ছে। হাসপাতালের আইসিইউতে কোনও সার্কিট ব্রেকার না থাকায় সহজেই আগুন ধরে যায়।
বৃহস্পতিবার দেখা গেছে, অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে বন্ধ রয়েছে আইসিইউ ইউনিটের চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম। নতুন করে কোনও রোগী আইসিইউতে নেওয়া হচ্ছে না। ফলে ঝুঁকির মুখে পড়েছে হাসপাতালের সঙ্কটাপন্ন রোগীরা। তবে হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. লক্ষ্মী নারায়ণ মজুমদার জানিয়েছেন, আইসিইউ সচল করতে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। আগামী ২/১ দিনের মধ্যে সচল করা সম্ভব হবে আইসিইউ ওয়ার্ড।
উল্লেখ্য, ঈদের পরের দিন মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার সময় হাসপাতালের নতুন ভবনের ৫ম তলার ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (আইসিইউ) আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এসময় লাইফ সাপোর্ট মেশিন পুড়ে যাওয়ায় ৬ জন রোগীকে উদ্ধার করে করোনারি কেয়ার ইউনিটে স্থানান্তর করা হয়।
/এমও/








