সুনামগঞ্জে বাঁধ ভেঙ্গে ফসলহানির ঘটনায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) চার প্রকৌশলী, ১৫ কর্মকর্তা, ৪৫ ঠিকাদার ও এক সহযোগীসহ ৬১ জনের বিরদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। রবিবার (২ জুলাই) বেলা দুইটার দিকে মুনামগঞ্জ মডেল থানায় দুদকের সহকারী পরিচালক ফারুক আহমদ এ মামলা দায়ের করেন।
মামলা সুনামগঞ্জ পাউবো’র নির্বাহী প্রকৌশলী আফসার উদ্দিন, সিলেট পাউবোর সাবেক তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী নুরুল ইসলাম সরকার, সাবেক তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. আব্দুল হাই ও সুনামগঞ্জ পাউবোর উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী খলিলুর রহমানকে আসামি করা হয়েছে।
কর্মকর্তাদের মধ্যে পাউবো’র সেকশন অফিসার শহীদুল্লা, ইব্রাহিম খলিলউল্ল্যা, খন্দকার আলী, রফিকুল ইসলাম, শাহ আলম, বরকত উল্ল্যা ভুঞা, মাহমুদুল করিম, মোসাদ্দেক, সজীব পাল ও জাহাঙ্গীর হোসেনকে আসামি করা হয়।
এছাড়া ঠিকাদার ও একজন সহযোগীর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।
পুলিশ সুপার মো. বরকতুল্লাহ খান বলেন, ‘তৎকালীন সুনামগঞ্জ পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী আফসার উদ্দিন, সিলেট পাউবোর সাবেক তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী নুরুল ইসলাম সরকার, সাবেক তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. আব্দুল হাইসহ অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীসহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের ১৫ জন কর্মকর্তা, ঠিকাদার ৪৫ জন ও তাদের সহযোগী এক জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।’
উল্লেখ্য, চলতি বছরের মার্চ মাসের শেষার্ধে থেকে এপ্রিলের শেষার্ধ পর্যন্ত অকাল বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে একের পর এক ফসল রক্ষা বাঁধ ভেঙ্গে তলিয়ে গেছে এক লাখ ৬৭ হেক্টর জমির কাঁচা বোরো ধান।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সুনামগঞ্জের তথ্যমতে, ফসল সুরক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে সরকার ৬৮ কোটি ৭০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়। সুনামগঞ্জের বৃহৎ ৩৭টি হাওরসহ ৪২টি হাওরে ২০ কোটি ৭০ লাখ টাকা ২২৫টি প্রকল্পের (পিআইসি) অনুকূলে বরাদ্দ দেওয়া হয়।
অন্যদিকে, ৪৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ৭৬টি প্যাকেজে ঠিকাদার দিয়ে বোরো ফসল রক্ষায় বাঁধ নির্মাণ ও সংস্কারে দরপত্র আহ্বান করে পাউবো। প্রকল্পের কাজ ২৮ ফেব্রুয়ারি ও ঠিকাদারদের কাজ ৩১ মার্চ ২০১৭ এর মধ্যে শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বরাদ্দকৃত অর্থ ভাগ-বাটোয়ারা করার অসৎ উদ্দ্যেশে অনেক পিআইসি ও ঠিকাদারগণ কাজ শুরু করেন দেরিতে। কার্যাদেশ অনুযায়ী কাজ সম্পন্নের শেষ পর্যায়ে এবং বৃষ্টিপাত শুরু হওয়ার পরে কাজ শুরু হয়। এ কারণে নিদিষ্ট সময়ের মধ্যে বাঁধের কাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি। তাই অকাল বন্যায় ফসল তলিয়ে গেছে।
তবে সুনামগঞ্জ পাউবো বলছে, এবছর আগাম বৃষ্টিপাত শুরু হাওর এলাকার নদী খনন না করায় বাঁধ উপচে হাওরে পানি প্রবেশ করেছে। হাওরের পানির স্বাভাবিক লেবেল হলো সাড়ে পাঁচ দশমিক ৫০ সেন্টিমিটার কিন্তু গেলমাসে হাওরে পানি আট দশমিক ৫০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। যা বিপদ সীমার আড়াই মিটার উচুতে প্রবাহিত হয়েছে। এজন্য বাঁধের ডিজাইন ফেল করে বাঁধ ভেঙ্গে গেছে।
দুদকের প্রধান কার্যালয়ের পরিচালক মো. বেলাল হোসেন বলেন, দুদক দ্রুত মামলার তদন্ত কার্যক্রম শুরু করবে এবং তড়িৎ গতিতে নিখুত ভাবে সম্পন্ন করে আদালতে দাখিল করবে। মামলা দায়ের পর দুজনকে আটক করা হয়েছে। অনিয়ম র্দুনীতির সঙ্গে জড়িত পিআইসিদেরও তদন্ত করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।
মামলায় ঠিকাদার ও একজন সহযোগীকে আসামি করা হয়। এদের মধ্যে টাঙ্গাইলের আফজালুর রহমান, ফরদিপুরের খন্দকার শাহীন আহমেদ, সিলেটের সামছুর রহমান, জিল্লুর রহমান, জামিল ইকবাল, চিন্ময় কান্তি দাস, মাহতাব চৌধুরী সিলেট ও হান্নান আহমেদ; পটুয়াখালীর কামাল হোসেন, সুনামগঞ্জের নাসিম উদ্দিন, শিবব্রত বসু, মোজ্জামেল হক মুন আবুল মহসিন মাহবুব, মিলন কান্তি দে, আতিকুর রহমান, বিপ্রেশ তালুকদার, নুরুল হক ও মোখসুদ আহমেদ; সাতক্ষীরার খন্দকার আলী হায়দার ও শেখ আশরাফ উদ্দিন; খুলনার রবিউল আলম, মৌলভীবাজারের আকবর আলী ও খায়রুজ্জামানকে আসামি করা হয়েছে।
ঢাকার আবুল হোসেন,নিয়াজ আহমেদ খান ও বাচ্চু মিয়া; ময়মনসিংহের শেখ মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, মুখলেছুর রহমান,সাইদুল হক, কাজি হাসিনা আফরোজ, হুমায়ুন কবীর ও ঠিকাদার সহযোগী ইকবাল মাহমুদকে আসাইম করা হয়েছে।
কুষ্ঠিয়ার খান মোহাম্মদ ওয়াহিদ রনি ও মফিজুল হক, চট্রগ্রামের মো. ইউনুছ ও লুৎফুল করিম; হবিগঞ্জের আব্দুল কাইয়ুম, রাজশাহীর গোলাম সরোয়ার, চোয়াডাঙ্গার শাহরিন হক মালিক, কুমিল্লার আব্দুল মান্নান ও হাজী মোহাম্মদ কেফায়েত উল্ল্যাকে আসমি করা হয়।
/এনআই/এসএমএ/
আরও পড়ুন
পাহাড়ি ঢলে সিলেটের পাঁচটি উপজেলা প্লাবিত, ছড়িয়ে পড়েছে পানিবাহিত রোগ







