নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলায় পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীকে তার পরিবারের অমতে জোর করে বিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় মাতবরদের বিরুদ্ধে। গত ২৮ জুন উপজেলার মদনপুর ইউনিয়নের বাগদোবাড়িয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। তবে বুধবার (৫ জুলাই) বিষয়টি জানাজানি হয়। বন্দর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মৌসুমী হাবিব বাংলা ট্রিবিউনকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ওই স্কুলছাত্রীর বাবার অভিযোগ, ‘মেয়ের নামে ছয় শতাংশ জমিসহ একটি বাড়ি রয়েছে। সম্পত্তির লোভে ছেলেপক্ষ আমার মেয়েকে তুলে নিয়ে জোর করে বিয়ে দিয়েছে। মাতবরা ছেলের পক্ষ থেকে টাকা খেয়ে এ কাজ করেছে। এ বিয়েতে আমি রাজি না হয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দিলেও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। উল্টো পুলিশ ও মাতবররা আমাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে বলেছে, এখন বিয়ে হয়ে গেছে, এ নিয়ে বাড়াবাড়ি কর না।’
এলাকাবাসী ও পুলিশ জানায়, বাগদোবাড়িয়া গ্রামের পঞ্চম শ্রেণির ওই ছাত্রী ঈদের দিন (সোমবার) বিকালে একই উপজেলার শ্রীরামপুর গ্রামের নূর মোহাম্মদের ছেলে নবম শ্রেণির এক ছাত্রের সঙ্গে ঘুরতে বের হয়। পরে স্থানীয় মাতবররা তাদের আটক করে ছেলের বাড়িতে নিয়ে যায়। খবর পেয়ে মেয়ের বাবা বন্দর থানা থেকে উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ আলীমকে নিয়ে ছেলের বাড়িতে যান। পরে মাতবররা বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসার আশ্বাস দিলে পুলিশ চলে যায়। দু’দিন পর ছেলের বাড়ি শ্রীরামপুর গ্রামে বিষয়টি নিয়ে সালিশ বসে। সালিশে মাতবররা ছেলে ও মেয়েকে বিয়ে দেওয়ার রায় দেন। এসময় মেয়ের বাবা মাতবরদের রায় না মেনে সালিশে থেকে উঠে চলে যান এবং থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগ পেয়ে এসআই মোহাম্মদ আলীম ঘটনাস্থলে গেলেও কোনও ব্যবস্থা নিয়েই ফিরে চলে যান। এরপর ওইদিন রাতেই গ্রাম্য মাতবর ইব্রাহিম, কাবিল হোসেন কাবিলা, আওয়াল ভূঁইয়া, হানিফা ও নূর মোহাম্মদ বিয়ের জন্য স্থানীয় কাজী ফয়েজকে নিয়ে আসেন। মেয়ের বয়স ১২ বছর ও ছেলের বয়স ১৬ বছর হওয়ায় কাজী এটিকে বাল্যবিবাহ বলে বিয়ে পড়াতে আপত্তি জানিয়ে চলে যান। পরে মাতবরা ৩০০ টাকা মূল্যের স্ট্যাম্পে পাঁচ লাখ টাকা দেনমোহর ধার্য্য করে বিয়ে দিয়ে ছেলের বাড়িতে মেয়েকে রেখে দেন।
গ্রাম্য মাতবর কাবিল হোসেন কাবিলা বলেন, ‘আমি রাস্তা দিয়ে যাওয়ার পথে স্থানীয় মাতবরা আমাকে সালিশ বৈঠকে নিয়ে যায়। কিছু বোঝার আগেই বিয়ের কথা উঠে আসে। পরে তাদের বিয়ে দেওয়া হয়।’
মদনপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৯নং ওয়ার্ড সদস্য ইমন বলেন, ‘এ বিয়েতে আমি রাজি ছিলাম না। পরে আমাকে না জানিয়ে মেয়ের পরিবারের অসম্মতিতেই জোর করে মেয়ের বিয়ে দেন স্থানীয় মাতবরা। থানায় অভিযোগ করার পর এসআই আলীম এ বিষয়ে ফোনে কথা বলেছেন।’
এসআই মোহাম্মদ আলীম জানান, ‘ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযোগের সত্যতা পাই। তবে মাতবররা স্থানীয়ভাবে মীমাংসার আশ্বাস দেওয়ায় কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।’ অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েকে মাতবররা কীভাবে বিয়ে দিল এবং কেন তাকে উদ্ধার করা হলো না -এ প্রশ্নের কোনও সদুত্তর দিতে পারেননি তিনি। তবে তিনি মেয়ের বাবাকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন।
ইউএনও মৌসুমী হাবিব বলেন, ‘বিষয়টি আমি শুনেছি। যেহেতু মেয়েটি অপ্রাপ্তবয়স্ক, তাই বন্দর থানার ওসিকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’
/এএম/এমএ/








