গোপালগঞ্জ পৌরসভায় প্রায় সাত হাজার মানুষ তিন মাস ধরে পানিবন্দি হয়ে রয়েছেন। প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হলেও যথাযথ পানি নিষ্কাশন ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় টানা বর্ষণে বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। পৌরসভার ২, ৩, ৪, ৫ ও ৬নং ওয়ার্ডের পূর্ব মিয়াপাড়া, নিচুপাড়া, মান্দারতলা, বেদগ্রাম, চেচানিয়াকান্দিসহ কয়েকটি এলাকা গত তিন মাস ধরে পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে। এতে এসব এলাকার অন্তত সাত হাজার মানুষকে সীমাহীন ভোগান্তির পাশাপাশি নাজুক অবস্থায় জীবনযাপন করতে হচ্ছে। পৌর কর্তৃপক্ষকে বারবার জানিয়েও কোনও ফল পাননি ভুক্তভোগীরা।
ঘরবাড়ি ও রান্নাঘরে পানি উঠায় থাকা-খাওয়া নিয়ে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে এসব এলাকার বাসিন্দাদের। পৌর শহর হলেও রাস্তা তলিয়ে থাকায় কোথাও বাঁশের সাঁকো বানিয়ে, কোথাও নৌকায় করে যাতায়াত করতে হচ্ছে। অনেক জায়গায় নৌকাও চলে না, সেখানে হাঁটু বা কোমন সমান পানি মাড়িয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতার কারণে পানি পচে এলাকায় পানিবাহিত নানা রোগ ছড়াচ্ছে। এছাড়া, জ্বর, আমাশয়, টাইফয়ডেসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে শিশুসহ নানা বয়সী মানুষজন। জলাবদ্ধতার কারণে সবচেয়ে বেশি ভুগতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। রাস্তা তলিয়ে থাকায় পানিতে ভিজে স্কুলে যেতে হচ্ছে তাদের। যানবাহন চলাচল না করায় রোগীদের হাসপাতালে নেওয়াও অনেক সময় সম্ভব হচ্ছে না। কোনও যানবাহন পাওয়া গেলেও গুনতে হচ্ছে দ্বিগুণ ভাড়া।
পূর্ব মিয়াপাড়ার হীরা বেগম বলেন,‘তিন মাস ধরে পানিবন্দি অবস্থায় আছি। না পারছি ঘরে থাকতে, না পারছি বাইরে যেতে। এ অবস্থায় আমাদের যে কত অসুবিধা পোহাতে হচ্ছে তা বলে বোঝানো যাবে না। এলাকায় ড্রেন বলতে কিছু নেই। বৃষ্টি হলেই পানি জমে যায়।’ স্থানীয় বাসিন্দা মজিবুল হক মিন্টু বলেন, ‘এতদিন আটকে থাকায় পানি পচতে শুরু করেছে। ফলে নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে এলাকার মানুষজন।’
স্থানীয় একটি স্কুলের শিক্ষার্থী সাদিয়া ও রোমান বলে, ‘পানি ভেঙে স্কুলে যাওয়ার সময় জামাকাপড় ভিজে যায়। এ অবস্থায় স্কুলে গেলে শিক্ষকরা রাগারাগি করেন। প্রতিদিন ভিজে ভিজে স্কুলে যাওয়াও যায় না।’ মান্দারতলার আমরিন বেগম বলেন, ‘আমার ছেলের বউয়ের বাচ্চা হবে। যেকোনও সময় তাকে হাসপাতালে নিতে হতে পারে। কিন্তু রাস্তাঘাট তলিয়ে থাকায় গাড়ি তো দূরের কথা রিকশা-ভ্যানও এদিকে আসতে চায় না। জরুরি মুহূর্তে কিভাবে কী করব ভেবে পাচ্ছি না।’
গোপালগঞ্জ পৌরসভার মেয়র কাজী লিয়াকত আলি এলাকার দুরবস্থার কথা স্বীকার করে বলেন, ‘এসব এলাকা একটু নিচু। ফলে বৃষ্টি মৌসুমে এখানকার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েন। এটা এখানকার দীর্ঘদিনের সমস্যা। এ সমস্যা সমাধানে প্রায় ১০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে পানি নিষ্কাশনের জন্য ড্রেনেজ নির্মাণে ৫২ কোটি টাকার টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। এসব কাজের জন্য ৬ মাস-এক বছর সময় দিতে হবে।’
/এএম








