রাজশাহী এলাকায় সাপের উপদ্রব দেখা দেওয়ায় অতিরিক্ত সতর্কতা হিসেবে সাপে কাটা রোগীর চিকিৎসার জন্য কেন্দ্রীয় ওষুধাগারে ১ হাজার ৫০০ ভায়েল অ্যান্টি স্নেক ভেনম প্রতিষেধকের চাহিদা জানিয়েছে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতাল। সোমবার ঢাকায় এ চাহিদাপত্র দেওয়া হয়।
রামেক হাসপাতালের সিনিয়র স্টোর অফিসার ডা. আলী আকবর বলেন, বর্ষার সময় সাপে কাটা রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। তাই এ ধরনের রোগীর চিকিৎসায় যাতে সমস্যা না হয় সেজন্য ১ হাজার ৫০০ ভায়েল অ্যান্টি স্নেক ভেনম প্রতিষেধকের চাহিদা চেয়ে আবেদন করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বর্ষার আগে ৫০০ ভায়েল অ্যান্টি স্নেক ভেনম প্রতিষেধক মজুদ ছিল। বর্ষার শুরুতেই হাসপাতালে সাপে কাটা রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকে। ইতোমধ্যেই ৩০০ ভায়েল শেষ হয়ে গেছে। বর্তমানে মজুদ আছে মাত্র ২০০ ভায়েল।
ডা. আলী আকবর বলেন, সাধারণত একজন সাপের কামড়ে অসুস্থ রোগীর শরীরে ১০ থেকে ২০ ভায়েল পর্যন্ত অ্যান্টি স্নেক ভেনম প্রয়োগ করলেই সুস্থ হয়ে যায়। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে যারা হাসপাতালে দেরিতে আসেন তাদের ক্ষেত্রে এ সংখ্যাটি আরও বেড়ে যায়। রামেক হাসপাতালে এক রোগীর শরীরে ৬০ ভায়েল পর্যন্ত অ্যন্টি স্ন্যাক ভেনম পুশ করার নজির আছে। সাপে কামড়ের রোগীদের তাৎক্ষণিকভাবে চিকিৎসার প্রয়োজন। চিকিৎসা বলতে শুধু ওই প্রতিষেধক। এর বাইরে রোগীর তেমন ওষুধ লাগে না। কিন্তু ওই প্রতিষেধক দিতেই একটু দেরি হলে রোগীর মৃত্যুর আশঙ্কা রয়েছে। তবে, এ নিয়েও আতঙ্কিত হওয়ারও কিছু নেই। রোগীদের জরুরি লাইফ সাপোর্টের জন্য আইসিইউ’র ব্যবস্থা আছে।
এদিকে, রাজশাহীর বিভিন্ন এলাকার বাসা-বাড়িতে এখনও সাপের উপদ্রব দেখা যাচ্ছে। গত সোমবার (১০ জুলাই) রাতে আবারও রাজশাহীর তানোর উপজেলার কলমা গ্রামের আরিফুজ্জামানের মাটির বাড়ির গোয়াল ঘরে একটি গর্তে ৮টি গোখরার বাচ্চা বের হওয়ার পর তা মেরে ফেলা হয়েছে।
আরিফুজ্জামান বলেন, সোমবার রাতে গোয়াল ঘরের গর্ত থেকে গোখরা সাপের বাচ্চাগুলো বের হওয়া দেখে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে সেগুলোকে মেরে মাটিতে পুঁতে ফেলা হয়েছে। এঘটনায় পুরো গ্রামে সাপ আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
অপরদিকে রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার আরও একটি বাড়ির বারান্দার গর্তে ১০টি গোখরা সাপ পাওয়া গেছে। এ সময় সেখান থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ৪৫টি সাপের ডিম। সোমবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে উপজেলার হরিপুর গ্রামের আব্দুল আজিজের বাড়িতে এসব সাপের বাচ্চা ও ডিম পাওয়া যায়।
আব্দুল আজিজ জানান, রাত ১২টার দিকে বাড়ির বারান্দায় একটি গোখরা সাপ দেখতে পান তিনি। এ সময় সাপটি তাকে দেখে বারান্দায় গর্তে ঢুকে পড়ে। পরে ওই রাতেই গর্ত খুড়ে ৪৫টি সাপের ডিম ও ১০টি সাপের বাচ্চা পাওয়া যায়। পরে ডিমগুলো ভেঙে নষ্ট করা হয় এবং সাপের বাচ্চাগুলো আগুনে পুড়িয়ে মারা হয়।
এর আগে সোমবার বিকেলে উপজেলার হোজা গ্রামের রবিউল ইসলামের বাড়ির আঙিনায় ৩০টি গোখরা সাপ মারা হয়। সেখানে পাওয়া আরও ৪৫টি সাপের ডিম নষ্ট করা হয়।
গত ৪ জুলাই রাজশাহী মহানগরীর বুধপাড়া এলাকার বাসিন্দা মাজদার আলীর বাড়িতে ২৭টি গোখরা সাপের বাচ্চা মারা হয়। এর পরদিন ওই বাড়িতে পাওয়া যায় আরও একটি সাপ।
এর দুই দিন পর ৬ জুলাই রাজশাহীর তানোর উপজেলার ভদ্রখ- গ্রামের কৃষক আক্কাস আলীর বাড়িতে মেলে ১২৫টি গোখরা সাপের বাচ্চা। পাওয়া যায় ১৩টি ডিমও। সাপগুলোকে পিটিয়ে মারা হয়, ডিমগুলোও ধ্বংস করা হয়।
/টিএন/







