নারী কারারক্ষীদের স্মার্ট হওয়ার তাগিদ দিয়েছেন কারা মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজন) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ ইফতেখার উদ্দিন। তিনি বলেছেন, ‘আমরা চাই, স্মার্ট নারী কারারক্ষী। যারা স্মার্ট হতে পারবে না তাদের চাকরি থেকে আউট করে দেব।’
শনিবার (১৫ জুলাই) সকালে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারা কমপ্লেক্স চত্বরে কারারক্ষী ও মহিলা (শিক্ষানবিশ) কারারক্ষীদের ২৬ সপ্তাহের ৫০তম প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।
আইজি প্রিজন বলেন, ‘কারারক্ষীদের আধুনিক ও যুগোপযোগী প্রশিক্ষণ দেওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। একজন ইউনির্ফম চাকরিজীবী হিসেবে কারারক্ষীদের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করাও খুবই জরুরি। অন্যথায় পেশাগত দায়িত্ব পালন কঠিন হয়ে পড়বে। দীর্ঘ ছয় মাসের এ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কারারক্ষীদের দক্ষ ও যোগ্য করে গড়ে তুলতে হবে। এখানে শিথিলতা দেখানোর কোনও সুযোগ নেই। সফলভাবে প্রশিক্ষণ সম্পন্নকারীদেরই কেবল চাকরিতে স্থায়ী করা হবে। যারা অকৃতকার্য হবে, তাদের চাকুরি দেওয়ার কোনও সুযোগ নেই।’
প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, ‘প্রশিক্ষণকে মন থেকে গ্রহণ করতে হবে। তাহলেই প্রশিক্ষণ হয়ে উঠবে আনন্দময় ও শিক্ষণীয়। প্রশিক্ষণ চলাকালে পরিশ্রমকে কষ্ট হিসেবে নয়; বরং জীবন গঠনের সুযোগ হিসেবে দেখতে হবে। ব্যক্তিগত পরিষ্কার–পরিচ্ছন্নতা, আদব-কায়দা ও শিষ্টাচারের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। প্রশিক্ষকের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনতে হবে।’
প্রশিক্ষণার্থীদের শারীরিক সুস্থতার জন্য কঠোর পরিশ্রম করা ও মিষ্টি জাতীয় খাবার না খাওয়ার পরামর্শ দেন আইজি প্রিজন। তিনি বলেন, ‘কারারক্ষীদের উচ্ছৃঙ্খলতা পরিহার করে সুশৃঙ্খল হতে হবে।’
অনুষ্ঠানে কারা উপ-মহাপরিদর্শক ও কারা প্রশিক্ষণ একাডেমির কমান্ডেন্ট বজলুর রশীদ স্বাগত বক্তব্য রাখেন। এতে প্রধান প্রশিক্ষক কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-১’র সিনিয়র জেল সুপার সুব্রত কুমার বালা, কাশিমপুর কেন্দ্রীয় হাই-সিকিউরিটি কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মিজানুর রহমান, কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২’র সুপার প্রশান্ত কুমার বণিকসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
স্বাগত বক্তব্যে কারা উপ-মহাপরিদর্শক বজলুর রশীদ বলেন, ‘এ প্রশিক্ষণে ৩৪৩ জন নব-নিযুক্ত কারারক্ষী প্রশিক্ষণ গ্রহণ করছেন। তাদের মধ্যে ৬৪ জন হলেন নারী। এটাই হলো, এযাবৎকালে সর্বাধিক সংখ্যক নারী প্রশিক্ষণার্থী। এ প্রক্ষিণের মেয়াদ হলো ২৬ সপ্তাহ।’
/এমএ/








