বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের জের ধরে নির্যাতন ও শ্বাসরোধ করে স্বামীকে হত্যার অভিযোগে জেসমিন সুলতানা ও তার প্রেমিক মনিরুজ্জামান মুকুলকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বুধবার (১৯ জুলাই) সাতক্ষীরার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালতের বিচারক মো. আব্দুল হামিদ আদালতে এ রায় দেন।
মামলার বিবরণে জানা যায়, শ্যামনগর উপজেলার গৌরীপুর গ্রামের কেরামত আলী গাজীর ছেলে জাকির হোসেন মুকুল উপজেলা সেটেলমেন্ট অফিসে মোহরার হিসেবে কাজ করতেন। বন্ধুত্বের জের ধরে সন্তানকে নিয়ে ঢাকা শিশু হাসপাতালে চিকিৎসা করার সুবাদে জাকিরের স্ত্রী জেসমিন সুলতানার সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক গড়ে ওঠে পরানপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক মনিুরুজ্জামান মুকুলের সঙ্গে। এক পর্যায়ে মনিরুজ্জামান মুকুলকে বিয়ের প্রস্তাব দেন জেসমিন সুলতানা। এক স্ত্রীর দুই স্বামী থাকতে পারে না, জেসমিনের এমন বক্তব্যের কারণে মনিরুজ্জামান মুকুল পরিকল্পনা করে জাকির হোসেন মুকুলকে হত্যা করার।
২০০৭ সালের ৮ জুন রাত ৯টার দিকে জাকির হোসেন মুকুল বাড়ি থেকে ভাত খেয়ে নিজের মাছের ঘেরে যান। সেখানে পাহারাদার জোহর আলীকে ঘেরের বাসায় রেখে জাকির হোসেন মুকুল বাড়িতে ফিরে আসছিলেন। ফেরার পথে মঠবাড়ির শহীদ মিস্ত্রীর মাছের ঘেরের উত্তর পশ্চিম পাশে রাত পৌনে ১০টার দিকে তাকে নির্যাতন চালিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। পরে তার লাশ কাদার মধ্যে ফেলে রাখা হয়। গভীর রাতে জবেদ আলী মিস্ত্রী ও ফকির মিস্ত্রীর ডাক চিৎকারে খবর পেয়ে জাকির হোসেন মুকুলের লাশ উদ্ধার করেন স্থানীয়রা।
এ ঘটনায় নিহতের পিতা কেরামত আলী গাজী বাদী হয়ে কারও নাম উল্লেখ না করে পরদিন শ্যামনগর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে পুলিশ জেসমিন সুলতানাকে গ্রেফতার করে। জেসমিন নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট হেমায়েত হোসেনের কাছে নিজেকে স্বামী হত্যার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। জবানবন্দিতে জেসমিন বলেন, ‘জাকির হোসেন মুকুলকে হত্যার জন্য ২০ হাজার টাকা দিয়ে ভাড়াটিয়া গুণ্ডা হিসেবে জবেদ আলী, ওসমান, ওমর আলী ও রেজাউল ইসলামকে নিয়োগ করেন মনিরুজ্জামান মুকুল।’
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শ্যামনগর থানার উপপরিদর্শক মো. হযরত আলী ২০০৭ সালের ২৪ নভেম্বর সাজাপ্রাপ্ত এই দু’জনসহ শ্যামনগর উপজেলার গৌরীপুর গ্রামের ফকির আহম্মেদ মিস্ত্রীর ছেলে জবেদ আলী মিস্ত্রী (৪৬), কালাম মিস্ত্রীর ছেলে ওসমান মিস্ত্রী (৫০), তার ভাই ওমর ফারুক মিস্ত্রী (৫৮), সোলায়মান মিস্ত্রীর ছেলে রেজাউল ইসলাম (৪২), গনি গাজীর ছেলে মনিরুল ইসলাম(৩৫) ও কালিগঞ্জ উপজেলার খড়িতলা গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে শহীদ সরদার(৫০) এর নাম উল্লেখ করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
মামলার নথি ও ১৩ জন সাক্ষীর জবানবন্দি পর্যালোচনা শেষে বিচারক দুই জনকে দোষী সাব্যস্ত করে দণ্ডদেশ দেন। নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ায় অন্যান্যদের বেকসুর খালাস দেন আদালত। সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
মামলায় আসামিপক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট আব্দুল মজিদ(১), অ্যাডভোকেট সৈয়দ ইফতেখার আলী, অ্যাডভোকেট, আবু বক্কর ছিদ্দিক, অ্যাডভোকেট এস এম হায়দার আলী।
রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন অতিরিক্ত পিপি অ্যাডভোকেট সৈয়দ জিয়াউর রহমান জিয়া।
/এসএমএ/








