কৃষি বিভাগের দাবি বন্যায় নীলফামারীতে ক্ষতি সামান্য

নীলফামারী প্রতিনিধি
২৩ জুলাই ২০১৭, ০০:১১আপডেট : ২৩ জুলাই ২০১৭, ০০:১১

নীলফামারীতে-বন্যা তিস্তায় পানি বৃদ্ধির কারণে সৃষ্ট বন্যায় নীলফামারীর ডিমলা ও জলঢাকা উপজেলায় কৃষি জমির ক্ষতির পরিমাণ অতি সামান্য বলে জানিয়েছে জেলা কৃষি বিভাগ। তবে এ তথ্য সঠিক নয় উল্লেখ করে তা প্রত্যাক্ষাণ করেছেন জনপ্রতিনিধি ও কৃষকরা।
কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের দাবি— বন্যায় দুই উপজেলায় কৃষিতে ক্ষতি হয়েছে মাত্র তিন হেক্টর জমি। এর মধ্যে সোয়া হেক্টর আংশিক এবং পৌনে দুই হেক্টর পুরো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়াও ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের সংখ্যা মাত্র ৯০ জন।

কৃষি অধিদফতরের জরিপে ক্ষতির পরিমাণ দেখানো হয়েছে উৎপাদনের দুই দশমিক আট মেট্রিকটন চালের সমপরিমাণ। এটি টাকার অঙ্কে দাঁড়ায় এক লাখ ৫২ হাজার।

নীলফামারীর ডিমলার খালিশাচাপানী, পূর্বছাতনাই, টেপাখড়িবাড়ি, ঝুনাগাছচাপনী ও জলঢাকা উপজেলার গোলমুণ্ডা, শৌলমারী, কৈমারী ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে ক্ষতি পোষাতে স্থানীয়ভাবে বীজের পরিবর্তে বলান চারা সরবরাহের কথা বলা হয়েছে।

এলাকার কৃষক ও জনপ্রতিনিধিরা কৃষি বিভাগের ওই তথ্য সঠিক নয় উল্লেখ করে জানিয়েছেন, কৃষি বিভাগের ওই হিসাবে বাস্তব চিত্র আসেনি। বাস্তবতায় ক্ষতির পরিমাণ অনেকগুণ বেশি।

উপজেলার খালিশা চাপানী ইউনিয়নের ছোটখাতা গ্রামের কৃষক সামসুল ইসলাম (৪৫) বলেন, ‘বন্যার পানিতে আমার পাঁচ বিঘা, বড়ভাই জয়নাল আবেদীন এবং মোজোভাই আয়নাল হকের পাঁচ বিঘাসহ মোট ১০ বিঘা এবং চাচা আসগার আলীর ১০ বিঘা জমির আমন ক্ষেত নষ্ট হয়েছে। পানি নেমে গেছে, কিন্তু এখন আর এসব জমিতে (আমন) রোপন করার মতো বীজতলায় চারা নেই।’

একই ইউনিয়নের পূর্ব বাইশপুকুর গ্রামের ইউপি সদস্য রমজান আলী (৫৬) বলেন, ‘বন্যায় আমার ওয়ার্ডের অন্তত একশ পরিবারের তিনশ বিঘা জমির আমন ক্ষেত নষ্ট হয়েছে। এসব জমিতে আবার চারা রোপন করা না হলে ফসল হবে না। এলাকায় আমন বীজতলার সংকট দেখা দিয়েছে।’

পূর্বছাতনাই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ খান বলেন, কৃষি বিভাগের ওই হিসাব সঠিক নয়। ‘ইউনিয়নের ঝাড়সিংহেশ্বর এবং পূর্বছাতনাই গ্রামের এক হাজার পরিবারের ক্ষেতের জমি বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। এসব পরিবারের অন্তত পাঁচশ একর আমন ক্ষেত বন্যার পানিতে তলিয়ে নষ্ট হয়েছে।’

উপজেলা পরিষদের সভায় এই জরিপের তথ্যের বিষয়ে সংশয় প্রকাশ করে এর প্রতিবাদ জানানো হয়ে বলে উল্লেখ করেন চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ।

এ ব্যাপারে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক গোলাম মোহাম্মদ ইদ্রিস বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক জমিতে আবারও আমন চারা রোপন শুরু করেছে। চারার ঘাটতি হবে না, কোনও জমিই পড়ে থাকবে না। কারণ জেলায় যে পরিমাণ বীজতলার প্রয়োজন তার চেয়ে ২৫ শতাংশ বেশি রয়েছে। মাঠ পর্যায়ে যাচাই-বাচাই করে ক্ষতির পরিমাণ নিরুপণ করেছি আমরা।’

/এসএমএ/

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
বিদ্যুতের দাম বাড়ায় শিল্প ও জ্বালানি খাতে উৎপাদন ব্যয় বাড়বে
বিদ্যুতের দাম বাড়ায় শিল্প ও জ্বালানি খাতে উৎপাদন ব্যয় বাড়বে
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম