কম দামের কারণে পুঁজি হারাচ্ছেন পোল্ট্রি খামারিরা

জয়পুরহাট প্রতিনিধি
২৩ জুলাই ২০১৭, ০০:১২আপডেট : ২৩ জুলাই ২০১৭, ০০:১২

জয়পুরহাটে আয়োজিত পোল্ট্রি রিপোর্টিং বিষয়ক মিডিয়া কর্মশালা। ছবি-প্রতিনিধি

কর ও শুল্ক আরোপের ফলে পোল্ট্রি খাতে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। কিন্তু বন্যার কারণে বিক্রি কমে গেছে। ফলে কম দামে পণ্য ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন খামারিরা। এখন ব্যাংক ঋণ শোধ করা নিয়ে চিন্তায় আছেন তারা। শুক্রবার (২২ জুলাই) জয়পুরহাটে আয়োজিত ‘পোল্ট্রি রিপোর্টিং বিষয়ক মিডিয়া কর্মশালা’র সমাপনী অনুষ্ঠানে স্থানীয় উদ্যোক্তারা এ তথ্য জানান।

‘বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিল’ (বিপিআইসিসি)-এর সহযোগিতায় এ কর্মশালার আয়োজন করে বেসরকারি সংস্থা ওয়াচডগ বাংলাদেশ।

এ সময় লোকসানের মুখে থাকা জয়পুরহাটের খামারিদের সার্বিক চিত্র তুলে ধরে পোল্ট্রি শিল্পকে বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষার জন্য সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। কর্মশালায় খামারিদের পক্ষ থেকে বলা হয়, ব্যাংক ঋণ নিয়ে পোল্ট্রি খাতে বিনিয়োগ করেছেন অনেকে। পুঁজি হারিয়ে তারা এখন দিশেহারা। এসম সুদের হার ৫-৭ শতাংশে নামিয়ে আনার দাবি জানান তারা। এছাড়াও পোল্ট্রি ফিডের অন্যতম উপকরণ ভূট্টা আমদানির ওপর থেকে ৫ শতাংশ অগ্রিম কর এবং সয়া মিলের ওপর থেকে ১০ শতাংশ কাস্টমস শুল্ক প্রত্যাহারের অনুরোধ জানান খামারিরা।

বিপিআইসিসি’র প্রতিনিধি এবং ওয়ার্ল্ড’স পোল্ট্রি সায়েন্স অ্যাসোসিয়েশন-বাংলাদেশ শাখার সাবেক সহ-সভাপতি ডা. এসএমএফবি আব্দুস সবুর বলেন, ‘কর অব্যাহতি সুবিধা প্রত্যাহার করায় বিগত দু’বছরে পোল্ট্রি উৎপাদন খরচ অনেক বেড়ে গেছে। কিন্তু প্রাণিজ আমিষের একটি বড় উৎস পোল্ট্রি। আগামীতে এর প্রয়োজন আরও বাড়বে। তাই এ শিল্পটি সরকারের বিশেষ নজর পাওয়ার দাবি রাখে।’ তিনি আরও বলেন,‘বাংলাদেশে বর্তমানে পরিপাকযোগ্য আমিষের চাহিদা প্রায় ৩ দশমিক ৩৯ মিলিয়ন মেট্রিক টন। এর মধ্যে পূরণ হয় মাত্র ২ দশমিক ২৭ মিলিয়ন মেট্রিক টন। ঘাটতি প্রায় ১ দশমিক ১২ মিলিয়ন মেট্রিক টন।’

এ ব্যাপারে জয়পুরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমিনুল ইসলাম বলেন,‘সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা ও স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতার কারণে জয়পুরহাটের পোল্ট্রি খাত দ্রুত বিকাশ লাভ করেছে। স্থানীয় প্রশাসনের সর্বোচ্চ সহযোগিতা পাবে খামারিরা।’

জয়পুরহাটের পোল্ট্রি খাত প্রসঙ্গে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা রুস্তম আলী জানান, জেলায় প্রায় ১০ হাজার ছোট-বড় খামার, ৬৫ লাখ পোল্ট্রি বার্ড, ৩৩৩টি লেয়ার খামার, ৩৯টি হ্যাচারি, এবং ১১টি ফিড মিল রয়েছে। এ জেলায় বছরে প্রায় ৩৮ কোটি ডিম উৎপাদিত হয়।

কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন, জয়পুরহাট পদ্মা ফিডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিআইপি আনোয়ারুল হক আনু, দৈনিক প্রথম আলোর পত্রিকার যুগ্ম-সম্পাদক সোহরাব হাসান, ওয়াচডগ বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক মোঃ সাজ্জাদ হোসেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভ্যাটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শশি আহমেদ এবং যমুনা টেলিভিশনের বিজনেস এডিটর সাজ্জাদ আলম খান তপু।

এএইচ/

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
মৌমাছির রানি হয়ে ওঠার রহস্য কী
মৌমাছির রানি হয়ে ওঠার রহস্য কী
তিন বছর নয়, এলডিসি উত্তরণ নিয়ে কীভাবে ভুল করলো দেশের প্রায় সব মিডিয়া
তিন বছর নয়, এলডিসি উত্তরণ নিয়ে কীভাবে ভুল করলো দেশের প্রায় সব মিডিয়া
অধিনায়ক হিসেবে ফিরেই জয় দেখলেন কুশল মেন্ডিস
অধিনায়ক হিসেবে ফিরেই জয় দেখলেন কুশল মেন্ডিস
মার্কিন সেনা হত্যা করলে যুদ্ধবিরতি শেষ, উপদেষ্টাদের জানালেন ট্রাম্প
মার্কিন সেনা হত্যা করলে যুদ্ধবিরতি শেষ, উপদেষ্টাদের জানালেন ট্রাম্প
সর্বাধিক পঠিত
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম