চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে হাম-রুবেলা টিকাদান কার্যক্রম শুরু করেছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। শনিবার (২৯ জুলাই) বেলা ১১টায় সীতাকুণ্ডের মধ্যম সোনাইছড়ি বীরেন্দ্র ত্রিপুরার বাড়িতে এ কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়। এর মধ্য দিয়ে সীতাকুণ্ডের তিনটি ইউনিয়নের ১৫টি স্কুলে শিক্ষার্থীদের টিকা দেওয়া দেওয়া শুরু হয়। শনিবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে নগরীর আন্দরকিল্লার নিজ কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলন করে এসব তথ্য জানিয়েছেন জেলা সিভিল সার্জন আজিজুর রহমান সিদ্দিকী।
আজিজুর রহমান সিদ্দিকী বলেন, ‘হাম প্রার্দুভাবের পর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন অনুযায়ী সীতাকুণ্ড উপজেলার তিনটি ইউনিয়নে ছয় মাস থেকে ১৫ বছর বয়সী শিশুদের টিকাদানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। আজ (শনিবার) থেকে এই বিশেষ টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এ কর্মসূচির আওতায় সীতাকুণ্ড পৌরসভা, কুমিরা ইউনিয়ন ও সোনাইছড়ি ইউনিয়নের মোট ৪৬ হাজার ১৪৫ জনকে টিকা দেওয়া হবে।’
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘ওই এলাকার ৮২টি স্কুলের মাধ্যমে পাঁচ থেকে ১৫ বছর বয়সী শিশুদের টিকা দেওয়া হবে। ছয় মাস থেকে ৫ বছরের নিচের শিশুদের এলাকার সরকারি নিয়মিত ইপিআই টিকাকেন্দ্রের মাধ্যমে টিকা দেওয়া হবে। যে সব শিশু স্কুলে টিকাদান কর্মসূচি থেকে বাদ পড়বে, তাদের এলাকার নিকটস্থ সরকারি নিয়মিত ইপিআই কেন্দ্রে টিকা দেওয়া হবে। যারা আগে হাম-রুবেলার টিকা পেয়েছে, তাদেরও বিশেষ এই টিকা দেওয়া হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘উদ্বোধনের দিন মধ্যম সোনাইছড়ি ত্রিপুরা পাড়ার ১২৩ জন শিশুর মধ্যে ৮৪ জনকে এবং দক্ষিণ সোনাইছড়ি ত্রিপুরা পাড়ার ৯০ জন শিশুর মধ্যে ৪৪ জনকে হাম-রুবেলার টিকা দেওয়া হয়েছে। বাকিরা অসুস্থ ও অপুষ্টিতে ভোগায় তাদের টিকা দেওয়া হয়নি। তবে বিশেষজ্ঞ মতামত নিয়ে সম্ভাব্য দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাদেরও এই টিকা দেওয়া হবে। অন্যদিকে, আজ তিনটি ইউনিয়নের ১৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রায় ১২ হাজার শিক্ষার্থীকে টিকা দেওয়া হয়েছে।’
ত্রিপুরা পাড়ার কাছে কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপন করা হচ্ছে জানিয়ে সিভিল সার্জন বলেন, ‘স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নির্দেশে ত্রিপুরা পাড়ার বাসিন্দাদের স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার লক্ষ্যে দুই ত্রিপুরা পাড়ার মাঝখানে ৮ নম্বর সোনাইছড়ি ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডে রেললাইনের পশ্চিম পাশে অবস্থিত বাংলাদেশ কলোনির হাফিজ জুটমিলের জায়গায় হাফিজ জুটমিল কমিউনিটি ক্লিনিক নামে একটি ক্লিনিক স্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এই সপ্তাহের মধ্যে অস্থায়ী ভবন করে এই কমিউনিটি ক্লিনিকের কাজ শুরু করা হবে। শিগগিরই এই অস্থায়ী ভবনটিকে স্থায়ী ভবনে রূপান্তর করা হবে।’
সংবাদ সম্মেলনে ইপিআই সদর দফতরের প্রোগ্রাম ম্যানেজার ডা. মো. সামসুজ্জামান, ডিপিএম ফিল্ড সার্ভিস জিআরএম মোকসেদুর রহমান ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. এ এম মজিবুল হক উপস্থিত ছিলেন।
/এমএ/








