গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় নিখোঁজ থাকার পাঁচ দিন পর সেফটি ট্যাংকের ভেতর থেকে পারভিন বেগম (২২) নামে এক গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রবিবার (৩০ জুলাই) দুপুরে উপজেলার জুমারবাড়ি ইউনিয়নের বসন্তের পাড়া গ্রামের চাঁন মিয়ার বাড়ির সেফটি ট্যাংক থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।
পারভিন উপজেলার কামালের পাড়া গ্রামের সাইফুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী। পারভিনের বাবার বাড়ি সাঘাটার কচুয়া ইউনিয়নের ওসমানের পাড়া গ্রামে। লাশ উদ্ধারের ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাইফুল ও তার প্রথম স্ত্রী পারভিন, খালাতো শ্যালক আব্দুল করিম ও রানা মিয়াকে আটক করেছে পুলিশ।
থানা পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, ১৫ বছর আগে পারভিন ও সাইফুলের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে তিন ছেলে-মেয়ে রয়েছে। দুই বছর আগে সাইফুল শ্যামপুরের গ্রামের বকুল মিয়ার স্ত্রী এক সন্তানের মা পারভিন বেগমকে জোরপূর্বক তুলে এনে বিয়ে করে। এরপর থেকে সাইফুল দ্বিতীয় স্ত্রী পারভিনকে নিয়ে সংসার করে আসছিল।
গত পাঁচ দিন ধরে সাইফুলের দ্বিতীয় স্ত্রী পারভিনের কোনও খোঁজ পাচ্ছিল না তার পরিবার। এমনকি তার মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যায়। এছাড়া, বিভিন্ন জায়গায় খোঁজখবর করেও তার সন্ধান মেলেনি।
সাঘাটা থানার ওসি মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, স্থানীয়দের কাছে পাওয়া গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে পারভিনের খালুর বাড়ির টয়লেটের সেফটি ট্যাংক থেকে পারভিনের লাশ উদ্ধার করা হয়। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ গাইবান্ধা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় স্বামী সাইফুল তার প্রথম স্ত্রীসহ চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে সাঘাটা থানায় মামলার প্রস্ততি চলছে।
এদিকে, সাইফুল আটকের পর পুলিশের কাছে স্বীকার করে, দুই স্ত্রী নিয়ে সংসার চালাতে নানা সমস্যায় পড়তে হচ্ছিল। এ কারণে সে দ্বিতীয় স্ত্রী পারভিনকে হত্যার পর তার খালু চান মিয়ার টয়লেটের সেফটি ট্যাংকে লাশ ফেলে দেয়।
/এএম








