২০১৬-১৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত দুই হাজার ২২৫ কোটি টাকার বাজেটের অর্ধেকও বাস্তবায়ন করতে পারেনি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) কর্তৃপক্ষ। বছর শেষে, মাত্র ৬৬২ কোটি ৬৬ লাখ ১৮ টাকা বা মোট বাজেটের ৩০ শতাংশ বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়েছে। এদিকে বাজেটের এক তৃতীয়াংশ বাস্তবায়ন করতে না পারায় কর্মদক্ষতা নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছেন মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন।
এ বিষয়ে সাবেক মেয়র মনজুর আলম বলেন, ‘নগরের বাসিন্দা হিসেবে মেয়রের কাছে আমাদের প্রত্যাশা থাকে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে তিনি শতভাগ সফল হবেন। বর্তমান মেয়রের কাছেও আমাদের তেমনটাই প্রত্যাশা ছিল। আমরা তার কাছে এর বেশি সফলতা আশা করেছিলাম। প্রস্তাবিত বাজেটের মাত্র ৩০ শতাংশ তিনি বাস্তবায়ন করতে পেরেছেন, এটা কোনোভাবে মানতে পারছি না।’
বাজেট পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, গত অর্থবছরে চসিকের কয়েকটি খাতে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার ৫০ শতাংশও আয় করতে পারেনি। ২০১৬-১৭ অর্থবছরের বাজেটে নিজস্ব উৎস থেকে আয় করার পরিকল্পনা ছিল এক হাজার ১৯৭ কোটি ৪২ লাখ টাকা। সেখানে আয় হয়েছে মাত্র ৩৬৬ কোটি ৫১ লাখ টাকা। আর উন্নয়ন অনুদান (প্রকল্প বরাদ্দ) খাতে আয় ধরা হয়েছিল ৯৮৫ কোটি ১০ টাকা, কিন্তু এ খাতে বরাদ্দ এসেছে মাত্র ২৬২ কোটি ৫১ লাখ টাকা।
ব্যয়ের খাতেও দেখা গেছে একই অবস্থা গত অর্থ বছরে উন্নয়ন অনুদান খাতে ব্যয় ধরা হয়েছিল এক হাজার ১২১ কোটি টাকা। কিন্তু এই খাতে তারা ব্যয় করেছে মাত্র ২৫৭ কোটি ৬৪ লাখ ৬৮ হাজার টাকা। অথচ গত অর্থ বছরে করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারিদের বেতন ভাতা ও পারিশ্রমিক খাতে ব্যয় হয়েছে ২১৫ কোটি ৭১ লাখ ৩০ হাজার টাকা।
প্রত্যাশা অনুযায়ী বাজেট বাস্তবায়ন না হওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করে মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন বলেন, ‘আমরা প্রত্যাশা করেছিলাম আরও বেশি বাস্তবায়ন করতে পারবো। কিন্তু হোল্ডিং ট্যাক্সসহ নানা জটিলতায় বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। প্রকৃত অবস্থা ও বাস্তবসম্মত বিষয়গুলোকে মাথায় রেখে এবার আমরা বাজেট তৈরি করেছি। যেগুলো আমরা করতে পারবো সেগুলোই বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।’
এ সময় তিনি চলতি অর্থবছরের ঘোষিত বাজেট পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সরকারকে সারা দেশের উন্নয়ন নিয়ে পরিকল্পনা করতে হয়। তাই কখনও একদিকে বেশি বরাদ্দ দিলে অন্যদিকে কম দিতে হয়। তাই এক বছরের অনুদান (সরকারি বরাদ্দ) দিয়ে বরাদ্দ কমছে/বাড়ছে মূল্যায়ন করা যাবে না। সময় মতো ডিপিপি প্রস্তুত করে পাঠাতে না পারায় কাঙ্ক্ষিত সরকারি বরাদ্দ পাওয়া যায়নি।’
তিনি আরও বলেন, ‘গত বছর জনবল সংকট ছিল। তাছাড় দীর্ঘদিন প্রধান প্রকৌশলী ছিলেন না। তখন আমরা পরিকল্পনা গ্রহণ করতে পারিনি। এবার আমরা যে বাজেট পেশ করছি, তাতে প্রত্যাশা করছি এবার আমরা সফল হবো।’
/এআর/এসএনএইচ/








