বাগেরহাট সদর হাসপাতালে চিকিৎসক সংকট, ভোগান্তিতে রোগীরা

এস এম সামছুর রহমান, বাগেরহাট
৩১ জুলাই ২০১৭, ১০:০৪আপডেট : ৩১ জুলাই ২০১৭, ১০:০৪

বাগেরহাট সদর হাসপাতাল (ছবি অনলাইন থেকে সংগৃহীত) চিকিৎসক সংকটে বাগেরহাট সদর হাসপাতালে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। কনসালট্যান্ট ও সাধারণ চিকিৎকদের অধিকাংশ পদই ফাঁকা। ফলে ভোগান্তি পড়েছেন রোগীরা।

বাগেরহাট সিভিল সার্জন অফিসের জেলা পরিসংখ্যানবিদ মো. আব্দুল বাসিত বলেন, ‘বাগেরহাট সদর হাসপাতালে কনসালট্যান্ট চিকিৎসকের ১২টি পদের মধ্যে ৭টিই শূন্য। অর্থোপেডিক্স, চক্ষু, শিশু, অর্থো-ট্রমেটিক, সার্জারি, অ্যানেসথেশিয়া, রেডিওলজির কোনও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এ হাসপাতালে নেই। এছাড়া সাধারণ চিকিৎসকের ১২টি পদের ৪টি শূন্য। নেই ডেন্টাল, রেডিওলজি ও ইউনিয়নি মেডিক্যাল অফিসারও।’

এদিকে, জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে আসা রোগীদের খুলনা ও বরিশালসহ অন্যান্য জেলার হাসপাতালে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এতে রোগীদের ভোগান্তি বেড়েছে। সাপে কাটা রোগীর ইনজেকশন না থাকায় খুলনায় নেওয়ার পথে গত ১৪ জুলাই এক মাদ্রাসাছাত্রীর মৃত্যুর অভিযোগও রয়েছে।

রবিবার (৩০ জুলাই) দুপুরে সদর উপজেলার মাঝিডাঙ্গা গ্রাম থেকে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত দেড় বছরের মেয়েকে নিয়ে হাসপাতালে আসেন রোজিনা বেগম। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমার মেয়ে ২/৩ দিন আগে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়। বিভিন্ন ডাক্তার দেখিয়েছি। হাসপাতালে এসেছি বড় ডাক্তার দেখানোর জন্য। কিন্তু টিকিট কাউন্টারে এসে জানতে পারি, এই হাসপাতালে কোনও শিশু ডাক্তার নেই।’

কচুয়া উপজেলার বিলকুল এলাকা থেকে চিকিৎসা নিতে আসা বিলকিছ বেগম বলেন, ‘হাসপাতালে এসে টিকিট নিয়ে সিরিয়াল দিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। এত দূর থেকে সকালে এসে দুপুরের পর ফিরতে হয়। তবে কিছুক্ষণ পর জানতে পারি হাসপাতালে বড় ডাক্তার নেই। আমরা গরীব মানুষ কী আর করবো?’

এদিকে হাসপাতালে কর্তব্যরত নার্সদের সেবা নিয়েও রয়েছে নানা প্রশ্ন। কয়েক মাস আগে এক প্রসূতির চিৎকারে মাত্র তিন মিটার দূরে ঘুমিয়ে থাকা নার্সদের ঘুম না ভাঙ্গারও অভিযোগ আছে। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

এ বিষয়ে সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) ডা. মোশারেফ হোসেন বলেন, ‘আমি তদন্ত  কমিটিতে ছিলাম না। বিষয়টির কী হয়েছিল খোঁজ নিয়ে জানাতে হবে।’

বাগেরহাট সদর উপজেলা চেয়ারম্যান খান মুজিবর রহমান জানান, ‘রোগীদের সেবা দিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে আরও সক্রিয় ও সতর্ক হতে হবে।’

বাগেরহাট পৌরসভার প্যানেল মেয়র তালুকদার আ: বাকী বলেন, বিশাল একটি অঞ্চলের মানুষের চিকিৎসার একমাত্র অবলম্বন এই বাগেরহাট সদর হাসপাতাল। এই হাসপাতালে চিকিৎসক সংকটসহ নানা সমস্যা আছে। এগুলো সামাধান না হলে জেলার মানুষ কোথায় গিয়ে স্বাস্থ্য সেবা নেবে?’

বাগেরহাট সিভিল সার্জন ডা. অরুন চন্দ্র মন্ডল সদর বলেন, ‘স্বাস্থ্য বিভাগের মহাপরিচালক ও পরিচালকসহ (প্রশাসন) ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিভিন্ন সময়ে মৌখিক ও লিখিতভাবে চিকিৎসক সংকটের বিষয়টি জানানো হয়েছে। সাপে কাটা রোগীর ইনজেকশনের চাহিদা একাধিকবার দেওয়া হয়েছে। তবে কোনও জবাব পাওয়া যায়নি। তবে হাসপাতালটি ২৫০ শয্যায় উন্নিত হলে সংকট সমাধান হবে।’

জানা গেছে, ১৯৭০ সালে ৫০ শয্যা বিশিষ্ট এ হাসপাতালের যাত্রা শুরু হয়। এরপর ১৯৯৭ সালে এটি একশ শয্যায় রূপান্তরিত হয়। তবে জনবল না বাড়ানোই ৫০ শয্যার জনবল নিয়ে তখন থেকেই চলছে সদর হাসপাতালের কার্যক্রম। ফলে দিন দিন দুরাবস্থায় পড়ছে চিকিৎসা সেবা। তবে গত জোট সরকারের আমলে হাসপাতালটিকে ২৫০ শয্যায় উন্নিত করার ঘোষণা দেওয়া হয়। যা বাস্তবায়নে নতুন ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। নির্মাণ কাজও শেষ পর্যায়ে।

/এনআই/এসএনএইচ/

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম