প্রতিবছর কাপ্তাই হ্রদে তিন মাস মাছ শিকার বন্ধ রাখা হয়। এর প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে হ্রদে কার্প জাতীয় মাছের বংশবৃদ্ধি, হ্রদে অবমুক্ত করা পোনা মাছের সুষ্ঠু বৃদ্ধি, মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন নিশ্চিতকরণসহ হ্রদের প্রাকৃতিক পরিবেশ মৎস্য সম্পদ বৃদ্ধির সহায়ক হিসাবে গড়ে তোলা। এবারও ১ মে মধ্যরাত থেকে মাছ শিকার বন্ধ করা হয়। দীর্ঘ তিন মাস পরে ১ আগস্ট আবারও মৎস্য আহরণ ও পরিবহন শুরু হচ্ছে কাপ্তাই হ্রদ থেকে।
রাঙামাটি বিএফডিসি’র অফিস সূত্র জানায়, কাপ্তাই হ্রদে পাঁচটি অভয়াশ্রমে কোনও প্রকার মাছ শিকার করা যাবে না। এই পাঁচটি অভয়াশ্রম হলো ফিশারি ঘাটের সম্মুখে হ্রদাংশের দুই বর্গ কিলোমিটার, লংগদু উপজেলা নির্বাহী অফিসারের অফিস সংলগ্ন দুই বর্গ কিলোমিটার, জেলা প্রশাসক বাংলো সংলগ্ন ১২ বর্গ কিলোমিটার, রাঙামাটি বনবিহার এলাকা সংলগ্ন ৫৩ দশমিক ৫০ একর এলাকা এবং নানিয়ার উপজেলার ছয়কুড়ি বিলের ২০০ একর ঘোষিত অভয়াশ্রম।
নয় ইঞ্চির নিচে কোনও পোনা মাছ ধরা যাবে না। বিএফডিসি’র নির্ধারিত অবতরণ কেন্দ্র ব্যতীত অন্য কোথাও মৎস্য অবতরণ করা যাবে না। মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশন নির্ধারিত শুল্ক পরিশোধ ব্যতীত কোনও মাছ বা শুটকি বিক্রয় করা যাবে না। তবে রাঙামাটি অধিবাসীদের জন্য বাজারে বিক্রয়কৃত মাছের ওপর কোনও শুল্ক ধার্য করা হবে না।
গত ১ মে মধ্যরাত থেকে কাপ্তাই হ্রদে মৎস্য শিকারের ওপর জেলা প্রশাসন নিষেধাজ্ঞা জারি করে। কাপ্তাই হ্রদের মাছের স্বাভাবিক প্রজননের জন্য প্রতিবছর সাধারণত তিন মাস বা তার অধিক সময় মাছ শিকার বন্ধ রাখা হয়।
বিএফডিসি’র ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, মাছ ধরা নিষিদ্ধের সময়কাল শেষ হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা ইতোমধ্যে তাদের সব প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে। জেলেরাও মঙ্গলবার থেকে হ্রদে মাছ শিকারে নামবে। এবার ১০ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন মাছের আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। আশা করছি বছর শেষে গিয়ে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে। এ বছর প্রচুর মা মাছ পোনা ছাড়তে পেরেছে। বিশেষ করে যারা অবৈধভাবে মাছ শিকার করেছিল তাদের দ্রুত সময়ে আইনের আওতায় আনার কারণে কিছুটা অবৈধভাবে মাছ শিকার বন্ধ হয়েছে বলে আমরা মনে করি।
উল্লেখ্য, গত ১১ এপ্রিল রাঙামাটি জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে কাপ্তাই হ্রদ পরিচালনা সংক্রান্ত এক সভা হতে ১ মে থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত কাপ্তাই হ্রদে মৎস্য আহরণ ও পরিবহন’র উপরে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। মাছ শিকার বন্ধকালীন হ্রদের মৎস্য আহরণের ওপর নির্ভরশীল প্রায় ২০ হাজার জেলেকে বিশেষ ভিজিএফ কার্ডের মাধ্যমে খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হয়েছিলো।
/এমপি/








