সিরিয়াল ভেঙে রোগী দেখতে রাজি না হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসককে লাঞ্চিত করেছেন একই হাসপাতালের একজন নার্স ও নার্সের স্বামী। বৃহস্পতিবার দুপুরে (৩ আগস্ট) বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের (শেবাচিম) বহির্বিভাগে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত নার্স এলিজা বেগম ও তার স্বামী শাহ আলমকে আটক করেছে পুলিশ। বরিশাল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতাউর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ওসি জানান, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার দুপুরে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। অভিযুক্ত নার্স এলিজা বেগম ও তার স্বামীকে ডাক্তাররা আটক করে রেখেছিল। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে ডাক্তাররা তাদেরকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন। এ ব্যাপারে মেডিক্যাল কর্তৃপক্ষ পুলিশের কাছে একটি লিখিত বক্তব্য দিয়েছেন, তবে এখনও মামলা হয়নি।
এ ঘটনার পর বিক্ষোভ করেছেন হাসপাতালের ডাক্তাররা। শনিবারের (৫ আগস্ট) মধ্যে অভিযুক্তদের শাস্তি নিশ্চিত করা না হলে পরবর্তী করণীয় ঠিক করা হবে বলেও জানিয়েছেন তারা। সার্জারি বিভাগের প্রধান ডা. এসএম সারফুজ্জামান রুবেল বলেন, ‘শনিবার হাসপাতাল খোলার পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
এ ব্যাপারে হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক (উপ-পরিচালক) ডা. আব্দুল কাদির জানান, ডাক্তার লাঞ্চিত হওয়ার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে চিকিৎসকদের মধ্যে উত্তেজনা দেখতে পান তিনি। পরে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ এসে অভিযুক্ত নার্স ও তার স্বামীকে থানায় নিয়ে যায়।
ভারপ্রাপ্ত পরিচালক আরও বলেন, ‘এলিজা এ হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স বলে নিজেকে দাবি করেছে। খোঁজ নিয়ে তার দাবির সত্যতা মিলেছে।’
শুরু থেকে ঘটনাটি দেখেছেন বলে দাবি করেছেন হাসপাতালের মেডিক্যাল অফিসার ও বিএমএ’র কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ডা.শিরিন সাবিহা তন্নী। তিনি জানান বৃহস্পতিবার দুপুরে হাসপাতালের বহির্বিভাগে শিশু ইউনিটের চিকিৎসক ডা. ফ্য়াজুল হক রোগী দেখছিলেন। এসময় এলিজা নামের এক নার্স ও তার স্বামী শাহ আলম তাদের শিশু নিয়ে সিরিয়াল ভেঙ্গে চিকিৎসকের কক্ষে প্রবেশ করেন। তাদের সন্তানকে আগে দেখার জন্য চাপ দেন ডা. ফয়াজুলকে। কিন্তু চিকিৎসক সিরিয়ালে থাকা রোগীদের দেখার পর তাদের রোগীকে দেখবেন বলে জানান। এরপর এলিজা ও তার স্বামী ডাক্তারকে প্রহার করেন।
/এএইচ/এমএ/








