বরগুনার ছোট লবণগোলা গ্রামের একই পরিবারের চার ভাই বিরল রোগে ভুগছেন। এমনকি তার বাপ-দাদাও একই রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। ফলে অসহায় পড়েছে পরিবারটি।
চার ভাইয়ের মধ্যে মো. মিজানুর রহমান ঢাকায় প্রাইভেট কার চালিয়ে সংসার চালাতেন। কিন্তু বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বংশানুক্রমে শরীরে বাসা বাঁধতে থাকে ওই বিরল রোগ বাসা। তিনি বলেন, সবসময় রগে টান পরায় স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলা করতে পারিনা, আবার সব সময় বসে বা শুয়েও থাকতে পারিনা। শরীর দুলতে থাকে।’
এদিকে, মিজানুরের বড় ভাই পান্না ফকির ঢাকায় রিক্সা চালাতেন। ছিনতাইকারীরা তার ওপর হামলা চালানোর পর থেকেই এ বিরল রোগে আক্রান্ত হন তিনি। এছাড়াও তার অন্য দুই ভাই আমিনুর ও বনি আমিনেরও রগে খিচুনি হয়।
জানা গেছে, পরিবারের চারজন রোগে আক্রান্ত হওয়ায় বৃদ্ধা মা ভিক্ষা করে সংসার চালান। ফলে অধিকাংশ দিনই অর্ধাহারে থাকতে হয় তাদের। অন্যদিকে অর্থের অভাবে তাদের চিকিৎসা করানোও সম্ভব হচ্ছে না। স্থানীয় চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, রোগ শনাক্ত করে উন্নত চিকিৎসা দিতে পারলে তাদের বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব।
বরগুনা সদর উপজেলার বুড়িরচর ইউনিয়নের ছোট লবণগোলা গ্রামের মৃত খালেক ফকিরের চার সন্তান এখন বেঁচে থাকার লড়াই করছেন। খালেক ফকিরের মৃত্যুর পরে তার স্ত্রী জবেদা বেগম চার সন্তান নিয়ে ভালোভাবেই দিন কাটাচ্ছিলেন। ছেলেদের বয়স ১৫ / ২০ বছর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বংশানুক্রমে বিরল রোগ বাসা বাঁধে তাদের শরীরে। অসহায় জোবেদা বেগম সরকারি আবাসন প্রকল্পে মাথা গোজার ঠাঁই পেলেও সন্তানদের নিয়ে ভালো নেই।
জোবেদা বেগমের বাড়ীতে গিয়ে দেখা যায়, কোনও ছেলেই স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারেন না। হাঁটতে গেলে তাদের শরীর দুলতে থাকে, পরে যান। এই রোগের কারণে স্পষ্টভাবে কথাও বলতে পারেন না তারা। তবে অনেক কষ্ট করে মিজানুর রহমান বলেন, ‘আগে কাজ করে সংসার চালাতাম, তবে অসুস্থ হওয়ার পর থেকে আর কাজ করতে পারি না। ঢাকায় থাকতে সাধ্যমত ডাক্তার দেখিয়েছি। ডাক্তার জানিয়েছেন, এ রোগ ভালো হবে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘স্বাভাবিকভাবে বসতে, ঘুমাতে বা হাঁটতে অনেক কষ্ট হয়। সব সময় রগে টান পরে। তাই এক ধরনের খিচুনি দেয়। ফলে শরীরসহ হাত পা দুলতে থাকে।’
জানা গেছে, মেডিক্যালের ভাষায় এটাকে ‘করিয়া’ রোগ বলা হয়। যা বংশানুক্রমিকভাবে জিনের মাধ্যমে শরীরে বাসা বাঁধে। সাধারণত ১৫-২০ বছর বয়সে এ রোগ শরীরে বাসা বাঁধে। পরে শারিরীক প্রতিবন্ধী হয়ে পড়েন আক্রান্ত রোগী। আর ৪০-৫০ বছর বয়সেই যার একমাত্র পরিণতি মৃত্যু।
জবেদা বেগম বলেন, ‘কী করার আছে? আল্লাহ ভালো জানেন। আমি তো গরিব মানুষ। মানুষের বাড়ি থেকে যা পায় তা দিয়ে ছেলেদের দুবেলা খাবার জুটাতে পারি না। ডাক্তার দেখানোর মতো আর্থিক সামর্থও আমার নেই। তবে ডাক্তার দেখাতে পারলে হয়তো কিছুটা ভালো থাকতো।’
এ বিষয়ে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. সোহরাব উদ্দীন বলেন, ‘‘রোগীদের হাসপাতালে আনা হলে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সঠিকভাবে রোগ নির্ণয় করা যেত। তবে রোগীর যে পরিস্থিতি তাতে ‘করিয়া’ নামক এক ধরনের রোগ হতে পারে। উন্নত চিকিৎসা দিতে পারলে তাদের বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব।’’
/এসএনএইচ/








