কখনও দরপত্র নিয়ন্ত্রণ,কখনও আধিপত্য বিস্তার, আবার কখনও অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জের ধরে গত দুই বছরে কয়েক দফা সংঘর্ষে জড়িয়েছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।এসব সংঘর্ষের ঘটনায় কেন্দ্রীয়ভাবে দু’দফা কমিটি স্থগিত করা হয়েছে। বহিষ্কার করা হয় অন্তত ১৫ জন নেতাকর্মীকে। তবুও থেমে নেই তাদের অভ্যন্তরীণ বিরোধ।কমিটি স্থগিতের পরও সংগঠনের নেতাকর্মীরা জড়াচ্ছেন রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে। তাই সেখানে নতুন কমিটি দেওয়ার কথা ভাবছেন কেন্দ্রীয় নেতারা।
এ প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগকে বেশ কয়েকবার সুযোগ দিয়েছি। বারবার নিষেধ করার পরও তারা নিজেরা সংঘর্ষে জড়াচ্ছেন। আমাদের কাছে খবর আছে, তাদের দ্বন্দ্বের কারণে ক্যাম্পাসে শিবির সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করছে। তাই আমরা এ শাখায় নতুন কমিটি দেওয়ার কথা ভাবছি। স্থগিত এ কমিটিকে পুনর্গঠনেরও চিন্তাভাবনা আছে। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের অনেক সিনিয়র নেতা এ শাখায় নতুন কমিটি দেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন।’
ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক এস.এম. জাকির হোসাইন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা দু’বছর ধরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেছি। ওই শাখার অভ্যন্তরীণ কোন্দলসহ নানা বিষয়ে খোঁজ নিতে প্রতিনিধি দলও পাঠিয়েছি। তাদের সংশোধন হওয়ার সুযোগও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কোনও কাজে আসেনি।’
বর্তমান কমিটির (স্থগিত) মেয়াদ শেষ হয়েছে জানিয়ে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘পুরনো কমিটিকে নতুন করে সচল করা হবে নাকি নতুনভাবে কমিটি দেওয়া হবে তা প্রক্রিয়ার বিষয়। এ ব্যাপারে আমরা শিগগিরই সিদ্ধান্ত নেবো। তবে আমরা নতুন কমিটি ঘোষণার বিষয়টিকে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছি।’
সবশেষ গত ২৩ জুলাই হলে সিট দখলকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর অনুসারী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের দুটি গ্রুপ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। ওইদিন দুই পক্ষের সংঘর্ষে তিনজন আহত হন।
এর আগে গত ৫ মে রাতে স্থগিত হওয়া বর্তমান কমিটির সভাপতি আলমগীর টিপু ও সাধারণ সম্পাদক ফজলে রাব্বি সুজনের অনুসারীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হন। পরে এই সংঘর্ষের জের ধরে ওইদিন রাতেই কমিটি স্থগিতের ঘোষণা দেয় কেন্দ্রীয় সংগঠন।
এদিকে কেন্দ্রীয় কমিটি সংঘর্ষে জড়িত নেতাকর্মীদের বহিষ্কার করাসহ কমিটি স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তারপরও চবি ছাত্রলীগের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে পারছেন না তারা। উল্টো কেন্দ্রীয় সংগঠনের এসব সিদ্ধান্তকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে আরও বেশি করে সংঘর্ষে জড়াচ্ছেন চবি ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। সংগঠন থেকে বহিষ্কার হওয়ার পরও ওইসব নেতাকর্মীকে পরবর্তীতে পুনরায় সংঘর্ষে জড়ানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের একাধিক নেতাকর্মীর মন্তব্য, বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের ব্যর্থতায় চবি ছাত্রলীগ আজ কোণঠাসা। স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার নয়, নতুন কমিটিই ছাত্রলীগের মুক্তির একমাত্র পথ। তারা দাবি করেন, নতুন কমিটির হাত ধরেই গতিশীল হবে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের রাজনীতি।
২০১৫ সালের ২ জুলাই আলমগীর টিপুকে সভাপতি ও ফজলে রাব্বি সুজনকে সাধারণ সম্পাদক করে দুই সদস্যের চবি শাখা ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণা করা হয়। রাজনীতিতে টিপু মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিনের অনুসারী। আর সুজন মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী অনুসারী।
কমিটি ঘোষণার পর থেকেই দফায় দফায় সংঘর্ষে জড়ান টিপু ও সুজনের অনুসারীরা। সংঘর্ষের জের ধরে ২০১৬ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি প্রথম দফায় দুই সদস্যের এই কমিটি স্থগিত করা হয়। পরে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ঘোষণা ছাড়াই ওই বছর ১৮ জুলাই ২০১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় সাংসদ।
এরপর কমিটিতে পদ পাওয়া, পদবঞ্চিত ও কাঙ্ক্ষিত পদ না পাওয়াদের সংঘাতে অচল হয়ে পড়ে সংগঠনটির বিশ্ববিদ্যালয় শাখা। তখন ছাত্রলীগ নেতাদের সামলাতে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক জাকির চট্টগ্রাম সফর করেন। এরপর কিছুদিন স্থির থাকলেও পরে আবার সংঘাতে জড়ায় দুই পক্ষ। গত এক বছরে উভয় পক্ষ অন্তত ১৫ বার সংঘর্ষে জড়িয়েছে।
বর্তমানে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক দিয়াজ হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতেও একপক্ষ অন্যপক্ষের বিপরীতে অবস্থান নিয়েছে। দিয়াজের অনুসারীরাও টিপুর বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। এই নিয়ে ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে বিশৃঙ্খলা বিরাজ করছে। যেকোনও মুহূর্তে বড় ধরনের সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
/এসএনএইচ/জেএইচ/এপিএইচ/
আরও পড়ুন:
বিশ্বজিৎ হত্যা মামলার রায়: ফেসবুকে সমালোচনার ঝড়








