দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে আমদানি চাল বন্দর থেকে খালাস বন্ধ রেখেছেন আমদানিকারকরা। আটকা পড়ে আছে দেড় শতাধিকের মতো চালবোঝাই ট্রাক। যাতে রয়েছে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার টন চাল। দেশের বাজারে চালের দাম স্থিতিশীল ও দ্রুত মজুদ বাড়াতে চাল আমদানিতে যে ১০ ভাগ শুল্ক আরোপিত রয়েছে সেটিও প্রত্যাহার করা হতে পারে সম্প্রতি গণমাধ্যমে এমন খবর প্রকাশের পর থেকেই আমদানিকারকরা চাল খালাস বন্ধ রেখেছেন।
হিলি স্থলবন্দরের চাল আমদানিকারক হারুন উর রশীদ হারুন ও মামুনুর রশিদ লেবু বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, ‘দেশের বাজারে চালের দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখতে সরকার চাল আমদানিতে আরোপিত শুল্ক প্রত্যাহার করে নেবে, এমন আলোচনা চলছে গত কয়েকদিন ধরে। সোমবার এ সংক্রান্ত খবর পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। এরই ফলশ্রুতিতে হিলি স্থলবন্দরের আমদানিকারকরা ভারত থেকে আমদানিকৃত চালগুলো বন্দর থেকে খালাস করে নিচ্ছেন না। এখনই যদি তারা বন্দর থেকে চাল খালাস করে নেন, আর সরকার যদি শুল্ক প্রত্যাহার করে নেয়, তাহলে তারা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। এ কারণেই তারা ভারতীয় ট্রাকগুলোকে অতিরিক্ত ডেম্যারেজ দিতে হলেও শুল্ক প্রত্যাহারের আশায় বন্দর থেকে চালগুলো খালাস করছেন না। এর ফলে বন্দরের ভেতরে দেড় শতাধিকের মতো চালবোঝাই ট্রাক আটকা পড়ে আছে।’
আমদানিকারকরা জানান, চাল আমদানিতে শুল্কহার ২৮ ভাগ থাকায় হিলি স্থলবন্দর দিয়ে চালের আমদানি প্রায় বন্ধ ছিল। সেসময় মাঝে মধ্যে দুই/চার ট্রাক করে চাল আমদানি হতো। পরে ২০ জুন চাল আমদানিতে শুল্কহার ২৮ ভাগ থেকে কমিয়ে ১০ ভাগ নির্ধারণ করায় বন্দর দিয়ে চালের আমদানি বেড়ে গেছে। বর্তমানে বন্দর দিয়ে ৮০ থেকে ৯০ ট্রাক চাল আমদানি হচ্ছে।
হিলি স্থলবন্দর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে,জুলাই মাসে বন্দর দিয়ে ১ হাজার ৬৮৯টি ট্রাকে ৫৭ হাজার ৪৮১টন চাল আমদানি হয়েছে। আর চলতি মাসের ৫ তারিখ পর্যন্ত বন্দর দিয়ে ২৬৯ টি ট্রাকে ৯ হাজার ৪৯০ টন চাল আমদানি হয়েছে।
হিলি স্থলবন্দরের সিএন্ডএফ এজেন্ট রাশেদুল ইসলাম ও রাজু আহম্মেদ জানান, ‘চাল আমদানিতে শুল্ক প্রত্যাহার করা হতে পারে, এমন খবর প্রকাশের পর থেকেই হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানের আমদানিকারকরা আমদানি করা চালগুলো খালাস নেওয়া বন্ধ রেখেছেন। বন্দর দিয়ে চাল আমদানি হলেও এসব খালাস করা হচ্ছে না। তারা আগামী কিছু দিন হয়তো ট্রাকগুলো থেকে চাল খালাস না নিয়ে শুল্ক প্রত্যাহারের বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছেন। এর পরেও যদি শুল্ক প্রত্যাহারের বিষয়ে কোনও সিন্ধান্ত না আসে তাহলে বন্দর থেকে আটকে পড়া ট্রাক থেকে চাল খালাস করে নেবেন ।’
হিলি স্থলবন্দর পরিচালনাকারী পানামা হিলি পোর্ট লিংক লিমিটেডের জনসংযোগ বিষয়ক কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে জানান,‘চাল আমদানিতে আরোপিত ১০ ভাগ শুল্ক প্রত্যাহার করবে সরকার এমন খবর প্রকাশের পর সোমবার থেকে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আমদানিকৃত চাল বোঝাই ট্রাক থেকে চাল খালাস করছেন না আমদানিকারকরা। এতে করে আমদানি করা চালগুলো খালাস না নেওয়ায় বর্তমানে বন্দরের ভেতরে ১শ’ ৩৭টির মতো ট্রাক চাল নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। আজ মঙ্গলবারও বন্দর দিয়ে চাল আমদানি হবে এতে করে বন্দরের ভেতরে আটকে থাকা চালের ট্রাকের সংখ্যা আরও বাড়বে। আমদানিকারকরা আশায় রয়েছে যদি সরকার শুল্ক প্রত্যাহার করে নেয়, তাহলে তারা বন্দর থেকে চালগুলো খালাস করে নেবে। সরকার যদি চাল আমদানিতে শুল্ক প্রত্যাহার করে নেয়, তাহলে বন্দর দিয়ে যেমন চালের আমদানি বাড়বে, তেমনি দেশের বাজারে চালের দামও কিছুটা কমবে।’
/এনআই/








