জলাবদ্ধতা নিরসনে খাল-নালা দখলমুক্ত করতে উচ্ছেদ অভিযানে নেমেছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)। অভিযানের প্রথম দিন মঙ্গলবার (৮জুলাই) দুপুরে নগরীর জহুর আহমেদ স্টেডিয়াম সংলগ্ন এলাকায় মহেশখালের দু’পাশে উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে প্রায় দুই কিলোমিটার জায়গা অবমুক্ত করা হয়।
চসিক সূত্র জানায়, দুপুরে মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিনের উপস্থিতিতে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেন করপোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সনজিদা শরমিন ও স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেট (যুগ্ম জেলা জজ) জাহানারা ফেরদৌস।
খালের দু’পাশ পুরোপুরি দখলমুক্ত হওয়া পর্যন্ত অভিযান চলবে বলে জানিয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সনজিদা শরমিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘গত এক সপ্তাহ ধরে দখলদারদের সরে যাওয়ার জন্য মাইকিং করা হয়েছে। এরপরও দখলদাররা সরে না যাওয়ায় আমরা উচ্ছেদ অভিযান শুরু করেছি। মহেশখালের দু’পাশ পুরোপুরি অবমুক্ত না হওয়া পর্যন্ত এ অভিযান চলবে।’ প্রথম দিন অভিযানে স্টেডিয়ামের পাশ থেকে গয়নাছড়া পর্যন্ত প্রায় পাঁচশ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
এর আগে, করপোরেশনের ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেট অধিবেশনের বক্তৃতায় মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন নগরীর নালা-খাল দখলমুক্ত করতে আরএস ও বিএস সার্ভে অনুযায়ী জরিপ কাজ পরিচালনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছিলেন। তখন তিনি বলেছিলেন, জরিপ কাজ পরিচালনার পর করপোরেশন অবৈধ দখলমুক্ত করতে অভিযান শুরু করবে। নালা ও খাল দখলমুক্ত করতে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন।
অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ অভিযান চলাকালে আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, ‘উচ্ছেদ অভিযান অব্যাহত থাকবে। খাল, নালা দখলমুক্ত করার জন্য চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের কর্মসূচির আওতায় ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালিত হবে।’ সিটি করপোরেশনের এই কর্মসূচিতে তিনি নগরবাসীর শতভাগ সমর্থন প্রত্যাশা করেন।
এদিকে, করপোরেশনের পক্ষ থেকে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার বিষয়ে মাইকিং করা হয়েছে বলে জানানো হলেও স্থানীয়রা দাবি করছেন, কোনও ধরনের পূর্বঘোষণা ছাড়াই করপোরেশন উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করছে।
আব্দুর রহিম নামে ওই এলাকার এক বাসিন্দা অভিযোগ করে বলেন, ‘কোনও ধরনের নোটিশ ছাড়াই করপোরেশন আজ (মঙ্গলবার) উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেছে। আকস্মিক অভিযানে তাদের সবকিছু ভেঙে দেওয়া হয়েছে।’
অভিযানে ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোরশেদ আকতার চৌধুরী, সংরক্ষিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর জেসমিনা খানমসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগ, আওয়ামী যুবলীগ, আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও ছাত্রলীগের স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন-








