গ্রেনেড হামলাকারীদের ফাঁসি চান রেজিয়ার স্বজনরা

রংপুর প্রতিনিধি
২১ আগস্ট ২০১৭, ১০:৩১আপডেট : ২১ আগস্ট ২০১৭, ১৫:১৬

রেজিয়ার ছোট ছেলে মস্তুল ওরফে নুরন্নবী ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে গ্রেনেড হামলায় নিহতদের মধ্যে ছিলেন রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার গঙ্গা নারায়ণ গ্রামের মহিলা আওয়ামী লীগ কর্মী রেজিয়া বেগম। এ ঘটনার পর ২০০৫ সালের মার্চে অর্থাভাবে বিনা চিকিৎসায় মারা গেছেন তার বৃদ্ধ বাবা আফাজ উদ্দিন। এর আগে মারা যান মা আমেনা বেগম। তবে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর এই পরিবারকে দুই দফায় সোয়া ৯ লাখ টাকা অনুদান দিয়েছেন শেখ হাসিনা।

আজ ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ১৩ বছর পূর্ণ হলো, কিন্তু আজও ওই মামলার বিচারকাজ শেষ হয়নি। রেজিয়ার স্বজনদের এখন একটাই দাবি, দ্রুত বিচার করে দোষীদের ফাঁসি কার্যকর করা। গত ১৯ আগস্ট দুপুরে তার বাড়িতে গেলে স্বজনরা এই প্রতিবেদককে জানান, এছাড়া তাদের কোনও দাবি নেই।

২০০৪ সালের ১৭ আগস্ট সারাদেশের বিভিন্ন স্থানে বোমা হামলার প্রতিবাদে ২১ আগস্ট দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনের সড়কে মহানগর আওয়ামী লীগের সমাবেশ ছিল। সমাবেশ শেষে তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে শান্তি মিছিল বের হওয়ার কথা ছিল। মিছিল শুরুর আগে ট্রাকের ওপর নির্মিত খোলা মঞ্চে দাঁড়িয়ে তার বক্তব্য শেষ হওয়া মাত্র বিকেল ৫টা ২২ মিনিটে তাকে লক্ষ্য করে মুহূর্মুহু গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। বিকট শব্দে একের পর এক ১৩টি গ্রেনেড বিস্ফোরিত হয়। অনেকে নিহত হলেও প্রাণে বেঁচে যান শেখ হাসিনা। তারপরও তার গাড়ি লক্ষ্য করে ১২টি গুলি ছোড়ে দুর্বৃত্তরা। নারকীয় ওই ঘটনায় রংপুরের রেজিয়া বেগমসহ ২২ জন প্রাণ হারান। আহত হন কয়েকশ’ নেতাকর্মী।

স্বজনরা বাংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েছেন— কাউনিয়া উপজেলার গঙ্গানারায়ণ গ্রামের আফাজ উদ্দিনের মেয়ে রেজিনা বেগম ১৯৯০ সালে কাজের সন্ধানে ঢাকায় যান। সেখানে আগারগাঁওয়ের এক বস্তিতে থেকে ভারতীয় ভিসা অফিসে ছবি লাগানোর কাজ করতেন তিনি। সেখানেই বস্তির একটি ঘর ভাড়া করে থাকতেন রেজিয়া। সেখানেই মহিলা আওয়ামী লীগের নেত্রী আয়শা মোকারমের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। আয়শার হাত ধরেই আওয়ামী লীগের সঙ্গে জড়ান রেজিয়া। নিয়মিত দলের মিছিল-মিটিংসহ সব কর্মকাণ্ডে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতেন তিনি।

নিহত রেজিনার ছোট ছেলে মস্তুল ওরফে নুরন্নবী বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, ২১ আগস্ট দুপুরে সমাবেশ স্থলের উদ্দেশ্যে আওয়ামী লীগ নেত্রী আয়েশা বেগমের নেতৃত্বে একটি মিছিল বের হয়। সেখানে রেজিনাও ছিলেন। তারা মিছিল নিয়ে সমাবেশে যোগ দেন। এরপর দুর্বৃত্তদের ছোড়া গ্রেনেড হামলায় নিহত হন রেজিনা।

পরদিন ছোট ছেলে মোস্তফা ওরফে নুরন্নবী মায়ের লাশ শনাক্ত করে। পরে আজিমপুর কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। ওই বছরেই আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে নিহত রেজিনার পরিবারের জন্য দেওয়া হয় ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা। ২০১৩ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর দেওয়া হয় আরও ৮ লাখ টাকা। এখন আর তাদের কোনও অভাব নেই। এখন তাদের চাওয়া শুধুই মায়ের হত্যাকারীদের বিচার।

মোস্তফা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেছেন, ‘আমরা পুরো পরিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞ। আমাদের আর কোনও চাওয়া-পাওয়া নেই। এখন শুধুই বিচার চাই আমরা।’

বড় ছেলে হারুন অর রশিদ বলেন, ‘৪০ বছর পরে হলেও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যার বিচার হয়েছে। আমার মায়ের হত্যার বিচারও পাবো। সেই আশায় দিন গুনছি।’

রেজিয়ার বড় বোন আনোয়ারা বেগম বলেন, ‘প্রতি বছর ২১ আগস্টের ঘটনা টেলিভিশনে দেখি আর কাঁদি। ঘরে বসে শাড়ির আঁচল দিয়ে বারবার বোনের ছবি মুছি।’

স্থানীয় বালা পাড়া ইউপি চেয়ারম্যান আনছার আলী জানান, রেজিয়ার পরিবারের প্রতিনিয়ত খোঁজখবর রাখা হয়। তার পরিবার যেন সরকারি সব সুযোগ-সুবিধা পায় সেজন্য চেষ্টার কমতি রাখেন না তারা। তিনি জানান, ঘাতকদের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা উচিত।

/জেএইচ/আপ-এসএনএইচ/

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
গরমে শিশুর সুরক্ষা: সামান্য ভুলও ডেকে আনতে পারে বড় বিপদ
গরমে শিশুর সুরক্ষা: সামান্য ভুলও ডেকে আনতে পারে বড় বিপদ
থানার ভেতরে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে পিটিয়ে আহত, ৩ পুলিশ প্রত্যাহার
থানার ভেতরে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে পিটিয়ে আহত, ৩ পুলিশ প্রত্যাহার
ড্রোন কিনতে ২০০০ বিলিয়ন রুপি ব্যয়ের পরিকল্পনা ভারতের
ড্রোন কিনতে ২০০০ বিলিয়ন রুপি ব্যয়ের পরিকল্পনা ভারতের
কুমিল্লায় এক শিশুকে ধর্ষণ ও আরেক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ
কুমিল্লায় এক শিশুকে ধর্ষণ ও আরেক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম