আজ গোবিন্দগঞ্জে আসছেন প্রধানমন্ত্রী

বন্যা মোকাবিলায় স্থায়ী সমাধান চায় গাইবান্ধাবাসী

গাইবান্ধা প্রতিনিধি
২৬ আগস্ট ২০১৭, ০৭:৩২আপডেট : ২৬ আগস্ট ২০১৭, ০৭:৩৮

শেখ হাসিনা আজ গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে আসছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি শনিবার সকাল ১০টায় আসবেন। বন্যায় দুর্গতদের ত্রাণ ও ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে ধানের বীজ বিতরণ করবেন। পরে প্রধানমন্ত্রী দলীয় নেতাকর্মী, সুধী মহল, ত্রাণ ব্যবস্থাপনা কমিটি ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। এরপর যোহরের নামাজ ও খাবার শেষে প্রধানমন্ত্রী বোয়ালীয়া হেলিপ্যাড থেকে হেলিকপ্টারে করে বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে যাবেন।

প্রধানমন্ত্রীর কাছে গাইবান্ধাবাসীর প্রত্যাশা বন্যা মোকাবিলায় স্থায়ী সমাধান। তারা বাংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েছেন, বন্যার ভয়াবহতা থেকে রক্ষায় প্রথমত জেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত নদ-নদীর তীরে নতুন করে বাঁধ নির্মাণ করতে হবে। পুরাতন বাঁধগুলো সংস্কার করতে হবে। পলি পড়ে ভরাট (মরা করতোয়া নদীসহ) জেলার সব নদ-নদী খনন, প্রয়োজনে লুপ কাটিং এবং দুর্গম চরাঞ্চলের মানুষকে রক্ষার্থে চরের বাসিন্দাদের বসতভিটে উঁচু করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব বিষয়ে কি ঘেষাণা দেবেন সেই প্রতীক্ষায় রয়েছেন গাইবান্ধাবাসী। 

জেলা আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক মোহাম্মদ হোসেন ফকু বলেন, ‘বন্যার ভয়াবহতা থেকে রক্ষায় নতুন বাঁধ নির্মাণ ও পুরাতন বাঁধ সংস্কার, নদ-নদী খনন করা প্রয়োজন। এছাড়া দীর্ঘদিনের দাবি  জেলায় কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে রফতানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা (ইপিজেড) স্থাপন, রংপুর-ঢাকা মহাসড়কের পাশে গোবিন্দগঞ্জ এলাকায় ট্রমা সেন্টার নির্মাণ, আধুনিক স্টোডিয়াম নির্মাণ, যানজট নিরসনে বোয়ালীয়া থেকে ফাঁসিতলা পর্যন্ত উড়াল সেতু নির্মাণ, জেলার একমাত্র ভারী শিল্প প্রতিষ্ঠান রংপুর চিনিকলকে আধুনিকায়ন এবং গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৬০০ শয্যায় উন্নীতকরণ। এসব দাবি বাস্তবায়ন হলে গোবিন্দগঞ্জসহ গোটা গাইবান্ধাবাসী আলোর মুখ দেখবে।’

দ্বিতীয় দফার বন্যায় গাইবান্ধা সদর উপজেলাসহ ছয় উপজেলার বির্স্তীণ এলাকা প্লাবিত হয়। বানের পানিতে ডুবতে থাকে প্রায় চার লাখ মানুষ। এরমধ্যে পানি কমায় বিভিন্ন এলাকার বন্যা পরিস্থিতি উন্নতি হয়েছে। তবে বন্যায় ঘরবাড়ি, ফসলি জমি, পুকুরের মাছের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। পানিতে ডুবে থাকায় রাস্তাঘাট ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের হারিয়ে দিশেহারা ও আতষ্কিত হয়ে পড়েছেন বানভাসী মানুষরা।

জেলা প্রশাসক গৌতম চন্দ পাল বলেন, বন্যায় সর্বশেষ (বৃহস্পতিবার) ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে। এবারের বন্যায় ১ লাখ ২১ হাজার ১৫৭টি ঘরবাড়ি, ৩৫০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ৭৩টি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নষ্ট হয়েছে ৩ হাজার ৩১টি নলকূপ। এছাড়া বন্যার কারণে জেলার ৩৯৬টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ১১টি উচ্চ বিদ্যালয়ের পাঠদান বন্ধ রাখা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, জেলার বিস্তীর্ণ জমির ২৭ হাজার হেক্টর জমির ফসল পানিতে নিমজ্জিত থাকে। এরমধ্যে ২০ হাজার হেক্টর ফসল নষ্ট হয়েছে। এতে প্রায় এক লাখ কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এছাড়া কোটি টাকার ওপরে পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। বন্যার পানিতে ডুবে শিশুসহ ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

আরও পড়ুন:

আজ সারিয়াকান্দিতে আসছেন প্রধানমন্ত্রী

/এনআই/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
পশ্চিমবঙ্গে যেকারণে তৃণমূলের ‘অপ্রত্যাশিত রক্ষাকর্তা’ খোদ বিজেপি
কী, কেন, কীভাবেপশ্চিমবঙ্গে যেকারণে তৃণমূলের ‘অপ্রত্যাশিত রক্ষাকর্তা’ খোদ বিজেপি
বিশ্বকাপে স্টেডিয়ামে নেওয়া যাবে না পানির বোতল
বিশ্বকাপে স্টেডিয়ামে নেওয়া যাবে না পানির বোতল
সীমান্তে কঠোর বিজিবি, ১০ পুশ-ইন চেষ্টা প্রতিহত
সীমান্তে কঠোর বিজিবি, ১০ পুশ-ইন চেষ্টা প্রতিহত
যুবদলের ১৫১ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটির অনুমোদন
যুবদলের ১৫১ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটির অনুমোদন
সর্বাধিক পঠিত
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম