পার্বত্য চট্টগ্রামের সাত পৌরসভা নাগরিকদের পানিসেবা দিতে পারছেন না। ফলে এসব পৌরসভার প্রায় সাড়ে তিন লাখ জনসাধারণ পানিসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। রবিবার (২৭ আগস্ট) সকালে পৌরসভা আয়োজিত ইনক্লুসিভ বাজেট ও সম্পত্তি মূল্যায়ণ সংক্রান্ত প্রশিক্ষণের সভায় খাগড়াছড়ির মেয়র মো. রফিকুল আলম এ কথা জানান। তবে এজন্য দায়ি করেন জনস্বাস্থ্য ও প্রকৌশল অধিদফতরকে।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরকে দায়ি করে মেয়র বলেন, ‘আরবান গভর্নেন্স ইনফ্রাস্ট্রাকশান ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্ট (ইউজিআইআইপি) এর মাধ্যমে দেশের সমতলের ৬১ জেলার ৩২১টি পৌরসভায় পানিসেবা নিশ্চিত করার জন্য সব ধরনের বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। অথচ এক্ষেত্রে তিন পার্বত্য জেলার খাগড়াছড়ি, রামগড়, মাটিরাঙা, রাঙামাটি, বাঘাইছড়ি, বান্দরবান ও লামা পৌরসভা এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত। তিন পার্বত্য জেলায় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর পানিসেবা সংক্রান্ত কাজের নামে জনগণকে বঞ্চিত করছে। খাগড়াছড়ি জেলা জনস্বাস্থ্য বিভাগের পানিসেবা কার্যক্রম নামমাত্র।’
ইউজিআইআইপি প্রকল্প বাস্তবায়নকারীদের উদ্দেশে মো. রফিকুল আলম বলেন, “আপনারা শতভাগ কর আদায়ের জন্য চাপ দেন, অন্যথায় প্রজেক্ট বাতিলের কথা বলেন। কিন্তু পৌরসভার জনগণকে আমরা যখন করের জন্য চাপ দেই, তারা বলেন— ‘পানি সেবা দিতে পারেন না, অথচ এই সেবা দেখিয়ে বিল নেবেন, তাতো হয় না।’ ফলে শতভাগ কর আদায় হয় না।” মেয়র এসব বৈষম্য দূর করার আহ্বান জানান।
এসময় খাগড়াছড়ি পৌরসভার সচিব পারভিন আক্তার, প্রশিক্ষক মাহাবুব আলম, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের উপ-প্রকৌশলী প্রদীপ চৌধুরী, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির ভাইস চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন মজুমদারসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
মেয়রের এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে খাগড়াছড়ি জেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সোহরাব হোসেন বলেন, ‘১৯৯৭ সালের সরকার যে পার্বত্য চুক্তি করেছে, তার আলোকে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর এখন পার্বত্য জেলা পরিষদের একটি ন্যস্ত বিভাগ। চাইলেই পৌরসভাকে পানিসেবা হস্তান্তর করতে পারি না।’
উল্লেখ্য, সমতলের ৬১ জেলার ৩২১টি পৌরসভায় পানিসহ অন্যান্য পরিসেবা নিশ্চত করে পৌরসভা নিজেই। কিন্তু পাহাড়ের এই পৌরসভাগুলোর পানিসেবা দেয় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর পার্বত্য জেলা পরিষদের একটি ন্যস্ত বিভাগ হওয়ার কারণে সরাসরি দায়িত্ব নিতে পারে না পৌরসভা।
পানিসেবা সম্পর্কে নির্বাহী প্রকৌশলী আরও বলেন, ‘খাগড়াছড়িতে লো-ভোল্টেজের কারণে পাইপ লাইনের মাধ্যমে পর্যাপ্ত পানি সরবরাহ করতে পারছি না। তবে পুরো শহরে ৩৫০টি পানির টিউবওয়েল স্থাপন করে পানির সমস্যার সমাধান করা হচ্ছে।’








