তিন দিনের ব্যবধানে দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরে আরও এক দফা পেঁয়াজের দাম কমেছে। গত শুক্র বা শনিবারের চেয়ে সোমবার (২৮ আগস্ট) পাইকারি বাজারে ৭ থেকে ৮ টাকা কমে মিলছে পেঁয়াজ। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, ভারতের বাজারে দাম কমায় বন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি বেড়েছে। আর আমদানি বাড়ায় দেশের বাজারে বেড়েছে পেঁয়াজের সরবরাহও। তাই দাম কমছে।
হিলি স্থলবন্দর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, পর্যাপ্ত পেঁয়াজের সরবরাহ থাকায় আগে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে গড়ে প্রতিদিন ৫০ থেকে ৬০ ট্রাক পেঁয়াজ আমদানি হতো। সম্প্রতি ভারতে অতিবৃষ্টি ও বন্যার কারণে পেঁয়াজের উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় বন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানির পরিমাণ কমে ২০ থেকে ২৫ ট্রাকে নেমে আসে। ঈদুল আজহাকে ঘিরে এখন আবার পেঁয়াজ আমদানির পরিমাণ বেড়েছে।
সূত্র জানায়, চলতি মাসের ১৯ আগস্ট বন্দর দিয়ে এক ট্রাকে ২০ টন, ২০ আগস্ট বন্দর দিয়ে ১০ ট্রাকে ২১৫ টন, ২১ আগস্ট ২৪ ট্রাকে ৪৯৪ টন, ২২ আগস্ট ২৯ ট্রাকে ৫৯৭ টন, ২৩ আগস্ট ২৫ ট্রাকে ৫১৯ টন, ২৪ আগস্ট ৪৪ ট্রাকে ৯১৩ টন, ২৬ আগস্ট ৪৫ ট্রাকে ৯৩৪ টন, ২৭ আগস্ট ২১ ট্রাকে ৪৩৫ টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে। এভাবে গত ৮ দিনে বন্দর দিয়ে ১৯৯ ট্রাকে ৪১২৭ টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে। চলতি মাসের ১ তারিখ থেকে ২৭ তারিখ পর্যন্ত ৬৫৩ ট্রাকে ১৩ হাজার ৩৬৭ টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে। গত জুলাই মাসে বন্দর দিয়ে ১ হাজার ৯৭ ট্রাকে ২২ হাজার ৭৫৯ টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছিল।
সোমবার সরেজমিনে বন্দর ঘুরে দেখা যায়, ভারত থেকে আমদানিকৃত ইন্দোর জাতের পেঁয়াজ (ভালো মানের) পাইকারিতে (ট্রাকসেল) প্রতি কেজি প্রকারভেদে বিক্রি হচ্ছে ২০ টাকা থেকে ২২ টাকা। তিনদিন আগেও একই জাতের পেঁয়াজ ২৬ টাকা থেকে ২৭ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। আর নাসিক জাতের পেঁয়াজ প্রকারভেদে বিক্রি হচ্ছে ২৩ টাকা থেকে ২৪ টাকা কেজিতে। তিন দিন আগেও যা বিক্রি হয়েছিল ৩০ টাকা থেকে ৩২ টাকা কেজিতে। পাঁচ দিন আগে গত মঙ্গলবারেও ভারত থেকে আমদানিকৃত এসব জাতের পেঁয়াজ প্রকারভেদে ৩৮ টাকা থেকে ৪৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছিল।
বাংলাহিলি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ভারত থেকে আমদানিকৃত পেঁয়াজের দাম কিছুটা কমে বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে প্রকারভেদে (কিছুটা নিন্মমানের) ২০ টাকা থেকে ২৪ টাকা কেজি দরে। তিন দিন আগেও এসব জাতের পেঁয়াজ প্রকারভেদে ২৪ টাকা থেকে ৩২ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছিল। পাঁচ দিন আগে এসব পেঁয়াজ ৩৬ টাকা থেকে ৪০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছিল। আর বাজারে দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকা থেকে ৪৮ টাকা কেজি দরে। তিন দিন আগেও এসব পেঁয়াজ ৪৫ থেকে ৫০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছিল। আর পাঁচ দিন আগে দেশি জাতের এসব পেঁয়াজ ৫০ টাকা থেকে ৫৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছিল।
হিলি স্থলবন্দরের আমদানি রফতানিকারক গ্রুপের সভাপতি মো. হারুন উর রশীদ হারুন বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, ঈদুল আজহাকে ঘিরে হিলিসহ দেশের সবক’টি বন্দর দিয়ে প্রচুর পরিমাণে পেঁয়াজ আমদানির পরিমাণ বেড়েছে। এতে দেশের বাজারে চাহিদার তুলনায় আমদানিকৃত ভারতীয় পেঁয়াজের সরবরাহ বেড়েছে। তাই দামও কমছে। ঈদের আগে আর পেঁয়াজের দাম বাড়ার কোনও সম্ভাবনা নেই, বরং দাম আরও কমতে পারে।








