দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল থেকে ঢাকাগামী গরুবোঝাই ট্রাকগুলো থেকে কৌশলে চাঁদা নেওয়া হচ্ছে দৌলতিয়া ঘাটে। ফেরিতে নদী পার হওয়ার জন্য ১৪শ’ ৬০ টাকার টিকিট ২৪শ’ টাকা দিয়ে কাটতে বাধ্য হচ্ছেন ট্রাক চালকরা। কাউন্টার থেকে নয় বরং বিশেষ ব্যক্তিদের কাছে পাওয়া যাচ্ছে এসব টিকিট। এছাড়াও ফেরি পার হওয়ার আগে দীর্ঘ সময় লাইনে আটকে থাকতে হচ্ছে। এমনটাই অভিযোগ ফেরি পারাপারের অপেক্ষায় থাকা দৌলতিয়া ঘাটের ট্রাক চালকদের।
এ সংকট নিরসনে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন কোরবানির গরুবাহী ট্রাক চালকরা।
মঙ্গলবার (২৯ আগস্ট) কুষ্টিয়া থেকে ছেড়ে আসা এক ট্রাক ড্রাইভার জানান, সোমবার রাত ১০টা থেকে ঘাটে অপেক্ষা করছেন তিনি। গরুর অবস্থাও ভালো না। তারমধ্যে অতিরিক্ত টাকা দিতে হচ্ছে ঘাটের টিকিট পাওয়ার জন্য। তবে ফেরি পারাপারের টিকিট নিয়ে চালকদের অভিযোগের ব্যাপারে ট্রাফিক বিভাগ জানিয়েছে, এরকম কোনও বিষয় তাদের জানা নেই।
দৌলতদিয়া ঘাটে কর্তব্যরত ট্রাফিক পরিদর্শক মৃদুল রঞ্জন জানান, ঘাটে কোনও প্রকার চাঁদাবাজি বা টিকিটের জন্য অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হচ্ছে না। দালালদের প্রভাব কমাতে পুলিশ সদস্যরা সার্বক্ষণিক কাজ করছেন। কোরবানির পশুবোঝাই ট্রাকগুলোর জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ফেরিতে সিরিয়াল দেওয়া হচ্ছে বলেও দাবি করেছেন তিনি।
তিনি আরও জানান, গত ঈদে আমরা ১৯টি ফেরি চালনা করেছি। এখন ১৫টির মত ফেরি আছে। যদি ফেরি বেশি থাকতো তাহলে লম্বা লাইন সৃষ্টি হতো না।
দৌলতদিয়া বিআইডব্লিউটিসি ঘাট ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) মো. শফিকুল ইসলাম জানান,পদ্মায় তীব্র স্রোত থাকায় ফেরি আস্তে চলছে। এ কারণে কিছুটা জট সৃষ্টি হয়েছে। যানজট কমাতে ঈদের আগের ও পরের তিন দিন অপচনশীল মালামাল বহনকারী ট্রাক ফেরিতে পারাপার করা বন্ধ থাকবে।
উল্লেখ্য, চলতি বর্ষায় পদ্মার তীব্র স্রোত ও ফেরি স্বল্পতার কারণে বেশ কয়েকমাস ধরেই দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া রুটে ফেরি পারাপার ব্যহত হচ্ছে। নদী পার হতে বেশি সময় লাগছে। একারণে বেশ কিছুদিন থেকেই দৌলতিয়া ঘাটে বেড়েছে যানবাহনের দীর্ঘ লাইন।








