আশা সমিতির কিস্তি শোধ না করায় সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ধুলিহর ইউনিয়নের চাঁদপুর গ্রামের এক দরিদ্র দম্পতিকে পিটিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সমিতির এক কর্মকতার বিরুদ্ধে।
মারুফা ও তার স্বামীর অভিযোগ, সোমবার (২৮ আগস্ট) সকালে গ্রামের দুই সন্ত্রাসী মনিরুল ইসলাম ও আনিসুর রহমানকে সঙ্গে নিয়ে তাদের বাড়িতে যান লোন অফিসার রফিকুল ইসলাম। এক পর্যায়ে জমা টাকা নিয়ে বচসা হতেই রফিকুলের নির্দেশে তাদের মারধর করে সঙ্গে আসা দুই ব্যক্তি। মারুফাকে তাল গাছের ডাল দিয়ে পেটানো হয় ও ঈদের আগে টাকা শোধ না করলে বাড়ির গরু ধরে নিয়ে যাবার হুমকি দেয় তারা।
আশা সমিতির লোন অফিসার রফিকুল ইসলাম তার সামনে ওই দম্পতির মার খাওয়ার কথা স্বীকার করেন এবং এ ঘটনার সঙ্গে তার কোনও সম্পৃক্ততা নেই বলেও দাবি করেছেন। তিনি বলেন, ‘এটা তাদের নিজেদের ব্যাপার। টাকা পাওনা আছে, তাই তাদের সঞ্চয় বই আটকে রাখা হয়েছে। পাওনা টাকা আদায় করতে তাদের বাড়িতে গিয়েছিলাম।’
এ ব্যাপারে মারুফা খাতুন জানান, গত ১২ বছর যাবত তিনি ও তার স্বামী আশা সমিতির সদস্য হিসাবে টাকা সঞ্চয় করে আসছেন। কিছুদিন আগে তারা ৩০ হাজার টাকা ঋণ নেন। সপ্তাহে আটশ’ টাকা তাদের বইয়ের বিপরীতে জমা দিয়ে আসছেন। এরই মধ্যে ৪৪ সপ্তাহ কিস্তির ৩০ সপ্তাহ পারও করেছেন তারা।
ঋণের ব্যাপারে মারুফা জানান, সমিতির কাছে সর্বোচ্চ আট হাজার টাকা ঋণ আছে তার। অন্যদিকে বাড়তি সঞ্চয়ের আরও পাঁচ হাজার টাকা তারা সমিতির কাছে পাবেন। এমন অবস্থায় লোন অফিসার তাদের জমাদান বই নিয়ে গেছেন। এর বিপরীতে নতুন একটি বই হাজির করে তিনি ঋণের টাকা দাবি করছেন।
মারপিটের পর অসুস্থ্য হয়ে জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন বলেও জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এ দম্পতি।








