ঈদুল আজহার ছুটিতে বেনাপোলে পাসপোর্ট যাত্রীদের যাতায়াত কম থাকলেও ছুটি শেষে সেই যাতায়াত আবারও বাড়তে শুরু করেছে। সেই সঙ্গে পোহাতে হচ্ছে সীমাহীন দুর্ভোগ। ভারতের পেট্টাপোল ইমিগ্রেশন আইবি পুলিশের ধীরগতির কারণে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা যাত্রীদের দীর্ঘ লাইনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে খোলা আকাশের নিচে। রোদের মধ্যে লাইনে দাঁড়িয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন অনেকে। দিন যতই গড়াচ্ছে, ততই বাড়ছে যাত্রী সমাগম।
ঢাকা থেকে আসা যাত্রী সাথী খাতুন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘রোদের মধ্যে মহাসড়কে খোলা আকাশের নিচে সকাল থেকে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। এর মধ্যে অনেক রোগী অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। এ থেকে আমরা পরিত্রাণ চাই।’ জনবল আরও বাড়ানোসহ যাত্রী ছাউনির দাবি জানান সাথীসহ ভুক্তভোগী অন্য যাত্রীরাও।
বেনাপোল বন্দর সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের এই পয়েন্ট দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৪ থেকে ৫ হাজার যাত্রী যাতায়াত করে থাকেন। ঈদের ছুটিসহ ভ্রমণ, চিকিৎসা, ব্যবসাও চাকরিসহ বিভিন্ন কাজে ভারতে যাতায়াতের জন্য ব্যবহার করা হয় এই স্থল পথ। গত তিন দিনে এ পথে যাতায়াত করেছে প্রায় ২০ হাজার যাত্রী।
সোমবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত বেনাপোল চেকপোস্ট এলাকায় ছিল ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে যাতায়াতকারী কয়েক হাজার যাত্রীর দীর্ঘ লাইন। যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় সামলাতে হিমশিম খেতে হয় বিজিবি কাস্টম ও ইমিগ্রেশন পুলিশকে। কোনও যাত্রী ছাউনি না থাকায় রোদ-গরমে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন অনেকে। খোলা আকাশের নিচে শুয়ে-বসে কাটাতে হচ্ছে সময়। দীর্ঘ লাইনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থেকে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন তারা। সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে অসুস্থও হয়ে পড়ছেন দুয়েকজন যাত্রী।
বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশনের উপ-পরিদর্শক (এসআই) ফজলুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘গত তিন দিনে প্রায় ২০ হাজার যাত্রী যাতায়াত করেছে। এর মধ্যে সোমবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সময়েই বাংলাদেশ থেকে ভারতে গেছেন প্রায় সাত হাজার যাত্রী। ইমিগ্রেশনের অফিসাররা সাধ্যমতো কাজ করছেন। তবে ভারতের ইমিগ্রেশন পুলিশের কাজের ধীরগতির কারণে যাত্রীদের সময় লাগছে।’ পরিস্থিতি উন্নতির জন্য চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি।








