পদ্মা নদীতে উজান থেকে বয়ে আসা পলির কারণে বালুর স্তূপ জমে (স্যান্ডবার্গ) নাব্যতা কমে যাওয়ায় কাঁঠালবাড়ি-শিমুলিয়া নৌ-রুটে রাজধানীগামী মানুষের ভোগান্তি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব দেবাশীষ নাগ। তিনি বলেন, ‘এটি প্রাকৃতিক। বন্যার পানি কমতে শুরু করা মাত্রই হঠাৎ করে বড় ধরনের একটি স্যান্ডবার্গ দেখা দেয়। এটি অপসারণের জন্য নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের প্রস্তুতি ছিল না। তবে নদীর পানি আর না বাড়লে আগামী ৪ দিনের মধ্যে সমস্যা সমাধান করা সম্ভব হবে।’
মঙ্গলবার কাঁঠালবাড়ি-শিমুলিয়া নৌ-রুটের অচলাবস্থা নিরসনে পরিদর্শনে আসেন নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব দেবাশীষ নাগ-এর নেতৃত্বে একটি পরিদর্শন দল। দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পরিদর্শন দলটি উদ্ধারকারী একটি টাগবোট নিয়ে ঘুরে ঘুরে পদ্মার বিভিন্ন স্থানে গভীরতা পরিমাপ করেন।
তারা জানান, নাব্য সংকটের কারণে ব্যাহত হচ্ছে মাদারীপুরের কাঁঠালবাড়ি-শিমুলিয়া নৌরুটে ফেরি চলাচল।
কাওড়াকান্দি ঘাটের ব্যবস্থাপক সালাম হোসেন জানান, নৌরুটটি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত বিকল্প নৌরুট হিসেবে পাটুরিয়া-দৌলদিয়া ফেরিঘাট ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়েছে বিআইডব্লিউটিসি কর্তৃপক্ষ।
প্রাইভেটকার নিয়ে খুলনার মংলা থেকে ঢাকাগামী কবির হোসেন বলেন,‘সেই সকালের দিকে এসে পৌঁছেছি। অথচ রাত ১০টা পর্যন্ত সিরিয়ালে রয়েছি। এখানকার চারটি ঘাটের এক একটি ঘাটে ফেরি আসে ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা পর পর। তাতে সবাই উঠতে পারে না।’
ফরিদপুর থেকে ঢাকাগামী সাইয়েদা বেগম বলেন, ‘এমন কষ্ট সহ্য করা যায় না। বাচ্চা-কাচ্চা নিয়ে এমন ভোগান্তিতে যে না পড়েছে সে বুঝবে না। ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঘাটে বসে থাকতে কি কষ্ট, সেই কষ্ট অনুভব করে সরকারের ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।
লৌহজং চ্যানেল খননে নিযুক্ত ড্রেজিং কোম্পানি সিনোহাইড্রো’র ড্রেজিং ইনচার্জ সাকিলুর রহমান বলেন, ‘এখানে ৩৫০ ফুট এলাকা জুড়ে চলাচলের উপযোগী রাখতে প্রতিদিন ২০ হাজার ঘন ফুট পলি অপসারণ করা হচ্ছে। পদ্মা নদীতে বন্যার পানি কমায় এবং প্রাকৃতিকভাবে হঠাৎ করে নদীতে প্রচুর পলি জমায় এই সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। আগামী ৫ থেকে ৬ দিনের মধ্যে খননের মাধ্যমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা সম্ভব হবে।’








