পদ্মায় তীব্র স্রোতের কারণে নদী পার হতে দ্বিগুণ সময় লাগছে ফেরিগুলোর। এ কারণে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাটে যানবাহনের চাপ বেড়েছে। নদী পারের অপেক্ষায় রয়েছে প্রায় চার শতাধিক যানবাহন। দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে যাত্রীদের। এমনটাই জানিয়েছেন ঘাট সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
এ ব্যাপারে বৃহস্পতিবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে দৌলতদিয়া ঘাটে কর্ত্যবরত ট্রাফিক পরিদর্শক মো. পারভেজ জানান, বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই দৌলতদিয়া ঘাটে ঢাকামুখী যানবাহনের চাপ রয়েছে। সিরিয়াল মোতাবেক সব যানবাহন ফেরি পার হচ্ছে। তবে ঘাটে দেড় শতাধিক যাত্রীবাহী বাস, শতাধিক ব্যক্তিগত গাড়ি ও টার্মিনালে ৫০ টির মতো ট্রাক রয়েছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, ফেরিঘাটের জিরো পয়েন্ট থেকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের বাংলাদেশ হ্যাচারি এলাকা পর্যন্ত প্রায় চার কিলোমিটার রাস্তায় বাস, মাইক্রোবাস ও প্রাইভেটকারসহ চার শতাধিক যানবাহন ফেরিতে ওঠার জন্য সিরিয়ালে রয়েছে।
এদিকে যানবাহনের দীর্ঘ লাইনের ফলে বিভিন্ন পরিবহনের যাত্রীদের ঘাট থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে মহাসড়কের ওপর নামিয়ে দেওয়া হচ্ছে। ফলে দীর্ঘ পথ পায়ে হেটে লঞ্চঘাটে যেতে বাধ্য হচ্ছেন যাত্রীরা।
এ ব্যাপারে দৌলতদিয়া লঞ্চঘাটের ম্যানেজার মো. নুরুল আনোয়ার মিলন জানান, ঈদ শেষে কর্মজীবী মানুষ ঢাকায় ফিরছেন। তাই দৌলতদিয়া লঞ্চঘাটে যাত্রীর ঢল নেমেছে। দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে যাত্রী পারাপারে ২২টি লঞ্চ চলাচল করছে।
তিনি আরও বলেন, লঞ্চে অতিরিক্ত যাত্রী বহন করা হচ্ছে না। স্বাভাবিক সময়ের মতো এখনও ভাড়া জনপ্রতি ২৫ টাকা করেই নেওয়া হচ্ছে। ঈদ উপলক্ষে যাত্রীদের কাছ থেকে কোনও রকম অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের সুযোগ নেই।
যানজটের ব্যাপারে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি)-এর দৌলতদিয়া ঘাট ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) মো. শফিকুল ইসলাম জানান, ঈদ শেষে দৌলতদিয়া ঘাটে ঢাকাগামী বিভিন্ন গাড়ি ও মানুষের চাপ বেড়েছে। এসব গাড়ি পারাপারে ১৯টি ফেরি চলাচল করছে। চারটি ঘাটই সচল রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, স্বাভাবিক সময়ে দৌলতদিয়া পাটুরিয়া নৌরুটে ফেরি পার হতে আধা ঘণ্টা সময় লাগে। কিন্তু পদ্মা নদীতে তীব্র স্রোতের কারণে এখন একেকটি ফেরি পার হতে দ্বিগুণ সময় লাগছে। এ কারণে ফেরির ট্রিপ সংখ্যা কমে যাচ্ছে। ফলে ঘাটে যানবাহের চাপ অব্যাহত রয়েছে।
এ ব্যাপারে রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার সালমা বেগম পিপিএম জানান, যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঈদের আগে থেকেই দৌলতদিয়া ঘাট এলাকা নিরাপত্তার চাঁদরে ঢেকে ফেলা হয়েছে। লঞ্চঘাট, ফেরিঘাট, বাসটার্মিনাল ও মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে পুলিশ অবস্থান করছে। তবে ফেরিতে ওঠার জন্য সিরিয়ালে আটকে থেকে যাত্রীদের কিছুটা দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে । এছাড়া নিরাপত্তার দিক থেকে তাদের কোনও সমস্যা হচ্ছে না।








